ভারতে বাড়ছে করোনা আতঙ্ক, নেপাল সীমান্তে সতর্কতা

  ডয়চে ভেলে

২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

ভারতে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করল৷ কেরালা, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং রাজস্থানে চীন থেকে আসা আটজনকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে৷ তাদের জ্বর, সর্দি কাশি থাকায় কোনো ঝুঁকি নেওয়া হয়নি৷ 

প্রথমে কেরালা, তারপর মহারাষ্ট্র, বিহারের পর এ বার রাজস্থান৷ করোনাভাইরাসের আতঙ্ক গ্রাস করছে ভারতকে। রাজস্থানে চীন থেকে সর্দি জ্বর নিয়ে আসা একজনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কিছু লক্ষণ পাওয়া গিয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন৷ তাঁকে হাসপাতালে একেবারে আলাদা করে রাখা হয়েছে৷ উহান থেকে এমবিবিএস পাস করে তিনি সদ্য দেশে ফিরেছেন৷ হাসপাতালের সুপার ডিএস মিনা জানিয়েছেন, উহান থেকে আসা চিকিৎসককে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে৷ স্যাম্পল পুনের ল্যাবরেটারিতে পাঠানো হয়েছে৷ তাঁরা রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন৷ বস্তুত যাঁরাই চীন বা তার আশপাশের দেশ থেকে আসছেন, তাঁদের প্রথমে বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিং এর মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে৷ সেখান থেকে আসা যাত্রীদের সর্দি বা জ্বর দেখলেই আলাদা করে রাখা হচ্ছে৷ মুম্বইয়ে এ ভাবে একজনকে আলাদা রাখা হয়েছে৷ সবলমিলিয়ে চীন ফেরত মোট আটজনকে এভাবে আলাদা রেখে দেখা হচ্ছে৷

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন প্রতিদিন রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন৷ বৈঠক হচ্ছে। সোমবার নেপাল সীমান্তেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পানিট্যাঙ্কি ও উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়কে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে৷ নেপালে একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ভারত কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না৷ প্রবীণ সাংবাদিক সুরেশ উপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার মূল দায়িত্ব রাজ্য সরকারের৷ তাই তাঁদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখাটা খুব জরুরি৷ হর্ষবর্ধন সেটাই করছেন৷ 

উহানে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৩৭ বিমান তৈরি রাখা আছে৷ উহানে প্রচুর ভারতীয় ছাত্র ডাক্তারি পড়েন৷ চীনের নববর্ষের ছুটি উপলক্ষে তাঁদের অনেকে দেশে ফিরেছেন৷ অনেকে আবার থেকেও গিয়েছেন৷ কতজন এখন উহানে আছেন, সেই তথ্য মন্ত্রকের কাছে নেই৷ আর করোনাভাইরাস যাতে না ছড়ায়, সে জন্য উহানকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বিমান উড়ছে না। তাই এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানও যেতে পারছে না৷ বাকি যানবাহনও কার্যত চলছে না৷ আটকে থাকা এক ছাত্র কামরানের বাবা জানিয়েছেন, ''আমার ছেলের কাছে কোনও খাবার নেই৷ সব দোকান বন্ধ৷ ওদের বাড়ি থেকে বেরতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে৷'' এমনকী, বেজিংয়ে কর্মরত ভারতীয় সাংবাদিকরা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট  করে বলছেন, রাজধানী শহরেও দোকান থেকে খাবার জিনিস দ্রুত উধাও হয়ে যাচ্ছে৷ এই অবস্থায় উহান থেকে ভারতীয়দের দেশে ফেরানো নিয়ে সরকার রীতিমতো চিন্তিত৷

চিকিৎসকরা মনে করছেন, সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় তার জন্য সধারণ মানুষকেও কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়াটা জরুরি৷ চিত্তরঞ্জন পার্কের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পার্থ প্রতিম বসু ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''কিছু খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে৷ হাঁচি,কাশি হলে, মুখ ও নাক কাপড় দিয়ে ঢেকে নিতে হবে৷ মাংস ও ডিম খুব ভালো করে সেদ্ধ করে খেতে হবে৷ কারও সর্দি, কাশি, জ্বরের লক্ষ্ণণ থাকলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হতে হবে৷ পশুদের সংস্পর্শও এড়িয়ে যাওয়া উচিত৷ আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার দরকার নেই। আবার ন্যুনতম স্বাস্থ্যবিধি পালন করাটাও জরুরি৷'' 

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ