‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের বিকল্প হতে পারে না’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৫৭ | আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:২৯

র. আ. ম. উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, গ্রামীণ উন্নয়নের রূপকার হিসেবে খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি  র. আ. ম. উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী সম্প্রতি প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর এখন আধুনিক যোগাযোগসম্পন্ন শতভাগ বিদ্যুতায়নের শহর, যেখানে বিএনপি সরকারের সময় বিদ্যুৎ ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, সারাদেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকার নিম্নআয়ের দেশ হতে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। সরকারের এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প আর কিছু হতে পারে না।

“স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ঘিরে
রবিউল আছে সবার তরে
গ্রামীণ উন্নয়নের রূপকার
রবিউল মোদের অহঙ্কার।”

সাক্ষাৎকারকালে তিনি বিজয়নগর নতুন উপজেলা সৃষ্টির ইতিহাস তুলে ধরেন, বিগত সময়ে তার উন্নয়নের চিত্র বিস্তারিত বর্ণনা করেন এবং এতসব উন্নয়নের পরেও কিছু লোক কেন তার বিরোধিতা করেন সে-সম্পর্কেও মুখ খুললেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- এবিনিউজ প্রতিনিধি মোস্তাকিম ফারুকী

এবিনিউজ : আমরা বিজয়নগর পরিদর্শনে দেখলাম যে, বিজয়নগরের মানুষ আপনার প্রতি অন্ধ ভালোবাসা ও বিশ্বাসী। প্রতিটা লোকের মুখে মুখে আপনার নাম। তার নেপথ্য কারণ কী?
র. আ. ম. উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী : বিজয়নগরের মানুষ কেমন ভালোবাসে আমায় তা বলতে পারব না। তবে বিজয়নগরের প্রতি আমার ভালোবাসা অকৃত্রিম। বিজয়নগরের প্রতি আমার আকর্ষণটা অন্যরকম। তার অন্যতম কারণ হলো প্রধানমন্ত্রী নিজে নামকরণ করেছেন এই বিজয়নগরের। ২০১০ সালের আগে বিজয়নগর বলে কোনো শব্দ ছিল না ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে নতুন একটি উপজেলা তৈরি করে তার নাম দেন বিজয়নগর।

এবিনিউজ : আপনি তো টানা নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুবারের নির্বাচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়নে আপনি কী কী কাজ করেছেন?
উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী : টানা দুবার বললে ভুল হবে। কারণ  নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ণমেয়াদে আমি থাকিনি। জনাব লুৎফুর হাই সাচ্চুর মৃত্যুতে আমি উপনির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলাম। যেখানে আমার মেয়াদ ছিল মাত্র দুই বছর। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আছি।

এ-সময়ে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের উন্নয়নের জন্য। তবে এতেই আমি পূর্ণ আত্মতৃপ্তি পাইনি। আরও অনেক কিছু করতে চাই।  ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি উন্নত, আদর্শ, অনুসরণীয় দৃষ্টান্তমূলক জেলা হিসেবে বাংলাদেশের বুকে স্থাপন করতে চাই। ইতোমধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, যোগাযোগ- প্রতিটা ক্ষেত্রেই উন্নয়নের চিত্র দৃশ্যমান।

 

এবিনিউজ : দৃশ্যমান উন্নয়নের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে কী কী কাজ করেছেন?
উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী : শিক্ষাক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে-

১. একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

২. ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ‘শেখ হাসিনা’ একাডেমিক ভবন নির্মাণ

৩. সদর উপজেলায় ৮টি ও বিজয়নগর উপজেলায় ৪টিসহ মোট ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে প্রথমবারের মতো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়।

৪. ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে ৩৪টি ও বিজয়নগরে ৩২টিসহ মোট ৬৬টি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়।

৫. সদর ও বিজয়নগরে মোট ৩৩২ শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়।

৬. মহিলা কলেজের বিজ্ঞান ভবন চতুর্থতলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ

৭. পৌর কলেজে চতুর্থতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ

৮. সরকারি কলেজে ১৫০ বেডের মহিলা হোস্টেল নির্মাণ

৯. সুলতানপুর যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

১০. দ্বিতল বিশিষ্ট সরকারি কলেজে একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ

১১. নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ

১২. কাজী শফিকুল ইসলাম কলেজে চারতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ

১৩. বিজয়নগরে দুটি হাই স্কুলে নতুন ভবন

১৪. শ্রীপুর মাদ্রাসায় নতুন ভবন

১৫. চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজে চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ

১৬. বিজেশ্বর আব্দুল মোনেম কলেজে চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন

১৭. আলহাজ বেগম নুরুন্নাহার কলেজের চারতলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন

১৮. অহরন্দ মহিউদ্দিনগর স্কুলের তিনতলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন

২৯. বিষ্ণপুরে পূর্বাচল কলেজ তৈরি ও নতুন ভবন

২০. চাউড়া কলেজ তৈরি ও হলরুম বিনির্মাণ

২১. মিরাশানী স্কুল বাউন্ডারি দেওয়া

২২. মহিলা কলেজের ৩২ শতক জায়গা উদ্ধারসহ আরও অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

 

এবিনিউজ : সদর ও বিজয়নগরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কী কী উন্নয়ন সাধন করেছেন?
উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী : উন্নয়ন তো অনেক কিছুই হয়েছে। এ মুহূর্তে সবগুলোর নাম বলা কষ্টকরই হবে। আর বিজয়নগরের উন্নয়নের প্রশ্ন যদি তোলেন, তাহলে বলব বিজয়নগর উপজেলাটা আওয়ামী লীগের সৃষ্টি। তার মানে এখানে যা কিছু হয়েছে, সবকিছুই তো আওয়ামী লীগের উন্নয়ন। তারপরও এ মুহূর্তে মনে আসা অল্পকিছু উন্নয়নের মধ্যে হলো : ১. ৩টি ব্রিজসহ শেখ হাসিনা সড়ক সড়ক ২. চান্দুড়া-আখাউড়া সড়ক উন্নয়নে ২৪ কোটি টাকা টেন্ডার হয়েছে ৩. কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সেতু নির্মাণ ৪. বিশ্বরোড হতে উজানীসার পযন্ত— সড়ক সংস্করণ, যার প্রকল্প ব্যয় ১৮ কোটি টাকা ৫. সুলতানপুর-চিনাইর-আখাউড়া মহাসড়ক উন্নয়নে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ৬. লালপুর সড়ক নির্মাণ, যার প্রকল্প ব্যয় ৩৫ কোটি টাকা ৭. ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে যান চলাচল উপযোগী রেলক্রসিং ফ্লাইওভার প্রকল্প ব্যয় ৮০ কোটি টাকা ৮. বিজয়নগর রামপুর-মনিপুর যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী সড়ক নির্মাণ ৯. কালিসীমা গ্রাম, চৌদ্দমৌজা এবং ঈদগাহ মাঠে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, যার প্রকল্প ব্যয় ৮৭ লাখ টাকা ১০. সিন্ধুউড়া প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, যার প্রকল্প ব্যয় ৯৭ লাখ টাকা এবং ১১. তিতাস নদী খননসহ আরও অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে।

এবিনিউজ : আমরা জানি বাংলাদেশে এখন শিশুমৃত্যুর হার, চিকিৎসাজনিত কারণে মানুষের মৃত্যু আগের তুলনায় বহুলাংশে কমেছে। সেই তুলনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসাক্ষেত্রে কতটুকু উন্নয়ন সাধিত হয়েছে?
উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী :
সারাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চিকিৎসাক্ষেত্রের সুযোগ-সুবিধা। তারই ধারাবাহিকতায় : ১. বিজয়নগরে বিনির্মাণ করা হয় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ২. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় একটি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল নির্মাণ করা হয়, যার প্রকল্প ব্যয় ৩৫ কোটি টাকা ৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালকে করা হয় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ৪. দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য জেলায় একটি হোস্টেল নির্মাণ কাজ চলছে ৫. বিজয়নগরে একটি পশু চিকিৎসা ও প্রাণিসম্পদ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এগুলো ছাড়াও বিজয়নগর ও সদরের প্রতিটা ইউনিয়নে অকেজো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে কার্যকর করা হয়। শুধু তা-ই নয়, এলাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল না, সেখানে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে, পর্যাপ্ত ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

এবিনিউজ : আপনার এলাকায় আইনশৃঙ্খলাসহ আর কী কী বড়দাগের উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন? সার্বিকভাবে এ মুহূর্তে বলা যাবে কি?
উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী : নিরাপত্তাজনিত কিছু কার্যক্রমের মধ্যে হলো : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ এখন পুলিশকে বন্ধু হিসেবে পায়, পুলিশের সেবা এখন তাদের হাতের নাগালে। তার জন্য জায়গায় জায়গায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। যেমন : ১. চম্পকনগরে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ২. আউলিয়া বাজারে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ৩. সদরে দশতলা ভবন বিশিষ্ট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্মাণ ৪. বিজয়নগর থানা ভবন ৫. সদরে ১ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার খাদ্য গুদাম ৬. জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ৭. বিজয়নগর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ৮. ইসলামপুরে পুলিশ ফাঁড়ি ৯. বিজয়নগরে ১ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার খাদ্য গুদাম ১০. ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগরে ৮টি আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ ১১. পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ ১২. পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদ ভূমি অফিস নির্মাণ ১৩. সদরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় ১৪. জেলা রেজিস্ট্রি অফিস তিনতলা ভবন নির্মাণ ১৫. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন অফিস নির্মাণসহ আরও অসংখ্য উন্নয়মূলক কর্মকা- রয়েছে।

এবিনিউজ : এতসব উন্নয়নের পরেও কিছু লোক আপনার বিরোধিতা করে, কেন করে?
উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী :
আপনি যেহেতু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান, নিশ্চয়ই জানেন যারা বিরোধিতা করে তাদের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন। তাই তাদের নামগুলো নির্দিষ্ট করে বলব না। কিন্তু কেন তারা আমার বিরোধিতা করে তার নির্দিষ্ট কারণ হলো ৩টি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কিছু কিছু জায়গায় অনেক বড় বড় জুয়া খেলার ক্লাব ছিল, আমি তা উচ্ছেদ করে দেই। দ্বিতীয়ত, কিছু প্রাইভেট স্কুল-কলেজ নামে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠা ছিল, যেগুলো ছিল জামাত-শিবিরের কারখানা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সকল বিশৃঙ্খলা তৈরি করার কেন্দ্রবিন্দু, আমি সেগুলো বন্ধ করে দেই।
আর তিন নম্বর কারণটি হলো : কিছু লোক সরকারের নামের অপব্যবহার করে থানায় দালালি করত এবং সাধারণ মানুষদের ভোগান্তির সৃষ্টি করত। আমি সেগুলো শক্ত হাতে প্রতিরোধ করি। মূলত এসব কাজের সাথে যারা জড়িত ছিল তারাই আমার বিরোধিতা করে।

এবিনিউজ : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী :
এবিনিউজ-কেও ধন্যবাদ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food