‘শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট ফ্রি করে দেওয়া উচিত’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২০, ১৯:৩১

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে গবেষণা এবং সরকারকে শিক্ষা সংস্কারের নানামুখী পরিকল্পনা দিয়ে দেশের শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তিনি। করোনা মহামারীর কালে দেশের শিক্ষা পরিস্থিতির নানা সংকট এবং শিক্ষা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পত্রিকাটির প্রতিবেদক রশিদ আল রুহানী।

প্রশ্ন : করোনা মহামারীর কারণে অর্থনীতি থেকে শুরু করে নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব। এর মধ্য অন্যতম শিক্ষা খাত। অন্য অনেক দেশের বাংলাদেশেও শিক্ষা কার্যক্রমের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দেশে প্রায় ৬ মাস সময় বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই প্রায় বন্ধ। এ কারণে কি শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি শিক্ষাবর্ষ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে?

রাশেদা কে চৌধূরী : করোনা মহামারীর কারণে শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নানাভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ নিয়ে গত ৪ আগস্ট জাতিসংঘের মহাসচিব একটি পলিসি ব্রিফ উন্মোচন করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, করোনার কারণে গোটা পৃথিবীতে শিক্ষায় এত বড় বিপর্যয় এর আগের ইতিহাসে কখনোই ঘটেনি। সে ক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। এবং সেখানে আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি- শুধু ক্লাস ও পরীক্ষা পরিচালনার কার্যক্রম নয় গোটা শিক্ষাপঞ্জিটাই তো এলোমেলো হয়ে গেছে। শিক্ষাবর্ষ তার একটি অংশ। শিক্ষাবর্ষের মধ্যে তো অনেকগুলো অংশ থাকে। ক্লাস এবং পরীক্ষাসহ অনেক কিছুই থাকে। শিক্ষাবর্ষে যত কিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকুক না কেন সেখানে পরীক্ষার চেয়েও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধারাবাহিক মূল্যায়ন। যেটা শ্রেণিকক্ষের ভেতরে হয়। শ্রেণিকক্ষে যখন পঠন-পাঠন হয় তখন সেটা ধারাবাহিক মূল্যায়ন হয়। কিন্তু এখন তো পঠন-পাঠন বন্ধ। তাই শিক্ষাবর্ষের চেয়েও এই ধারাবাহিক মূল্যায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়াটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। তবে এমন পরিস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ছিল। কিন্তু তখন আমরা শিক্ষাবর্ষ হারানো নিয়ে এতটা ভাবিনি কারণ চোখে তখন স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন ছিল। মনে একটা আশা ছিল। কিছু হারানোর বিনিময়ে কিছু পাব এই আশা ছিল। ফলে তখন শিক্ষাবর্ষ হারিয়ে যাচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে এসব নিয়ে ভাবিনি। কিন্তু এখন এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা দুঃস্বপ্নে ভুগছে। এখন করোনার কারণে তাদের সামনে রয়েছে একটা অনিশ্চিত ও শঙ্কাপূর্ণ ভবিষ্যৎ। ফলে আমি মনে করি, করোনার মতো একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে শিক্ষাবর্ষ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অবশ্যই রয়েছে।

প্রশ্ন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার অনলাইন এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করছে। এই কার্যক্রম কতখানি কার্যকর হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?

রাশেদা কে চৌধূরী : অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম কতখানি কার্যকর হচ্ছে এটার কার্যকারিতা কতখানি তা নিয়ে আমাদের কাছে তেমন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। তবে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জরিপ করেছে। কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে কিছু জরিপ করার চেষ্টা করা হয়েছে। মোবাইলে জরিপ, অনলাইনে জরিপ করা হয়েছে। সেই জরিপেও সঠিক তথ্যটি সেভাবে উঠে আসছে না। তবে সরকার চারটি মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। সরকারের এসব উদ্যোগ বেশ খানিকটা প্রশংসনীয়। একদমই বসে না থেকে তারা উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে টেলিভিশন, অনলাইন, মোবাইল ফোন এবং রেডিও। এই চারটি মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এক্ষেত্রেও বেশ প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

অনলাইন প্লাটফর্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট। সেটা তো দেশের সব জায়গায় নেই। এছাড়া যারা ইন্টারনেট পাচ্ছে, তাদের মধ্যেও অনেকে এটা ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে অনলাইনে ক্লাস করার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া টেলিভিশন-রেডিও এগুলোও অনেক শিক্ষার্থীর কাছে নেই। আর থাকলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। মূলত যাদের জন্য এই সুবিধাগুলো উন্মোচন করা হচ্ছে তাদের কতজন এই সুবিধা নিতে পারছে সেটা বিবেচনা করতে হবে। ফলে অনলাইন ক্লাসই বলেন, আর টিভি-রেডিওর মাধ্যমেই বলেন সব শিক্ষার্থী তো সমান সুযোগ পাচ্ছে না।

প্রশ্ন : ইন্টারনেট সুবিধা ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে সবাই এই সুবিধা নিতে পারছে না। সেক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে কি না। আর করোনা মহামারীর সময় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে শিক্ষা খাতকে আরও কতখানি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব?

রাশেদা কে চৌধূরী : করোনার প্রভাবে শিক্ষা খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে একটা ইতিবাচক দিক আমরা দেখতে পাচ্ছি। আগে যারা ব্যবহার করেনি, এবার তারা বাধ্য হয়ে হলেও ব্যবহার করছে। একসময় অনেকেই অনীহা করেছে অথবা চেষ্টা করেনি। এবার তারা চেষ্টা করছে। এটা ইতিবাচকই বলব আমি। আর এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে শিক্ষা খাতকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে দেশে বর্তমানে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা না থাকা এবং তা ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে সব শিক্ষার্থী এই সুবিধা নিতে পারছে না। ফলে কেউ পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না। এতে করে বিশাল একটা বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট ফ্রি করে দেওয়া উচিত।

এই খাতে সরকার কিছু টাকা খরচ করতেই পারত। শিক্ষা খাতে প্রণোদনার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার, মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ভর্তুকি দেওয়া উচিত। এছাড়া বিটিআরসি একটা উদ্যোগ নিতে পারে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে। শিক্ষার্থীদের ম্যাসিভ অনলাইন কোর্স চালু করা উচিত। ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে করোনা এদেশে অনেক বড় একটা সুযোগ করে দিয়েছে, এটা কাজে লাগানো উচিত।

নীতিনির্ধারকরা কিন্তু জানেন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বেশিরভাগ অংশ। শুধু তাই নয়, এ বছর ইন্টারনেটের মূল্য তো গতবারের চেয়ে বেড়ে গিয়েছে। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এই বাজেটে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর বাড়তি কর আরোপ করা হয়েছে। তাহলে সুবিধা থেকে শিক্ষার্থীরা আরও দূরে সরে গেল। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের ৪৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন এই বাড়তি কর আরোপ না করার জন্য, প্রত্যাহার করার জন্য। এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ব্যবসা এবং কৃষি খাতের ক্ষেত্রে সরকারের প্রণোদনা এসেছে কিন্তু শিক্ষায় প্রণোদনা কোথায়? অথচ আমরা যে কোনো ক্ষেত্রেই পৌঁছাতে চাই না কেন শিক্ষা ছাড়া কোনো লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অথচ শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেটও কমে গেল আর ইন্টারনেটের কর বেড়ে গেল। অথচ এর পরও শিক্ষায় প্রণোদনা নেই।

প্রশ্ন : করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালে শিক্ষকদের বেতন আর শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নিয়ে বর্তমানে একটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে করণীয় কী হতে পারে?

রাশেদা কে চৌধূরী : সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন কিংবা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইন রয়েছে কিন্তু বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন কিংবা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের জন্য কোনো প্রকার নীতিমালা নেই। শিক্ষানীতিতে শুধু বলা আছে, কিন্তু সেটাও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এখন নীতিমালাটা বাস্তবায়ন করা খুবই প্রয়োজন। করোনাকালীন সরকার একটি উদ্যোগ নিয়েছে যে যেসব কিন্ডারগার্টেন বন্ধ আছে সেখানকার শিক্ষার্থীরা কাছাকাছি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে পারবে। সেটা অবশ্যই সাধুবাদ জানানোর মতো বিষয় কিন্তু সেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও স্থান সংকুলান হবে কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আবার ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের তাদের অভিভাবকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াবেন কি না সেটার সমস্যাও থেকেই যাবে। তাই সরকারের উচিত এসব প্রতিষ্ঠানের যারা উদ্যোক্তা তাদের বিনা সুদে ঋণ কিংবা প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া। কিন্তু সেটাও সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রশ্ন : বর্তমানে পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে টানা স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার কারণে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা কীভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব?

রাশেদা কে চৌধূরী : দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্কুল পর্যায়ে বিশেষত গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার শঙ্কা আছে। বিশেষত মেয়েদের তো অবশ্যই। উন্নয়নশীল দেশে ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া শুরু হয়ে গেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। আমাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের চার ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত এবং বিত্তহীন মানুষদের সন্তানদের জন্য। প্রথমত, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার শঙ্কা। দ্বিতীয়ত, পড়ালেখা ছেড়ে শিশুশ্রমে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা। তৃতীয়ত, বাল্যবিয়ের আশঙ্কা আর চতুর্থত, অপুষ্টি বাড়ার আশঙ্কা।

শিক্ষায় বাংলাদেশের অর্জন দৃশ্যমান ছিল। অর্থাৎ নারী-পুরুষের সমতা এবং শতভাগ ভর্তির হারের দিকেও এগিয়ে ছিল। বিশেষত শিশুশিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষায় অংশগ্রহণও বেড়েছিল। সুতরাং আমরা অনেকগুলো অর্জনের জায়গায় যাচ্ছিলাম। আর এগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলেই এগুলো পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু করোনা আসার পর মার্চ থেকে পুনরুদ্ধার তো দূরের কথা নতুন করে শুরু করতে হয়েছে। আর বাজেটে সরকারের যে মন্ত্রণালয়গুলো শিক্ষা পুনরুদ্ধারের কাজ করছে সেখানেও কিন্তু একটা আর্থিক সংযোগ রয়েছে। এরমধ্যে যুক্ত হয়েছে বন্যা। হাজার হাজার স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সুতরাং সেই অনুপাতে অর্থের দিকটাও পরিকল্পনায় থাকা উচিত। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনেক ধরনের খরচ দরকার। এছাড়া করোনায় শিক্ষকদের নতুনভাবে তৈরির জন্যও অর্থ দরকার।

প্রশ্ন : করোনাকালের সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা খাতের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ আশা করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু সে রকম কিছু ঘটেনি। এবারের শিক্ষা বাজেট নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

রাশেদা কে চৌধূরী : এককথায় হতাশ হয়েছি। দেশে যখন করোনাভাইরাস ধরা পড়ল তার পরও বাজেট ঘোষণা পর্যন্ত দুইমাস সময় পেয়েছে সরকার। চাইলেই এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারত সরকার। কিন্তু সেটা হয়নি। করোনাকালের বাজেটে শিক্ষা খাতের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। শিক্ষা পুনরুদ্ধার করা দরকার। অথচ বাজেটে তার প্রতিফলন নেই। বিপর্যয় কাটাতে দুই মন্ত্রণালয়ে শুনেছি রিকভারি প্ল্যান করেছে। এছাড়া চারটি মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সুতরাং এই চারটি মাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রথমত, যে মাধ্যমকেই ব্যবহার করা হোক না কেন তাতে সবার কাছে পৌঁছাতে হবে। দ্বিতীয়ত টেলিভিশনের পাঠদান আরও আকর্ষণীয় করতে হবে। তৃতীয়ত হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা এবং শিক্ষা খাতে প্রণোদনা খুবই জরুরি। আর প্রণোদনা দেওয়ার পর সেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা দরকার। এসবের পাশাপাশি গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। এগুলো সম্ভব প্রস্তুতি পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে। আর এই কাজগুলো করতে গেলে একটা সমন্বিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা দরকার। জাতিসংঘ এই ব্যাপারে বলেছে যে যত আগে সঠিক ব্যবস্থা নেবে ততই ক্ষতিটা কম হবে।

সৌজন্যে : দেশ রূপান্তর

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ