সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

‘নিজের গান নিয়ে নিজেই সন্তুষ্ট হতে পারি না’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২০, ১০:০২

৪ অক্টোবর ৯০ বছরে পা দিচ্ছেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় পশ্চিমবাংলার দৈনিক বর্তমান পত্রিকার প্রতিবেদক সুমন গুপ্ত।

প্রশ্ন: ৪ অক্টোবর আপনি ৮৯ পার করে ৯০-এ পড়ছেন। কেমন লাগছে?
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: (স্মিত হেসে) জন্মদিন সকলের কাছেই একটা বিশেষ দিন। তবে বয়সের ব্যাপারটা মাথায় রাখি না। তাছাড়া আমার জন্মদিন অনাড়ম্বরভাবেই কাটে। ফোনে অনেকেই শুভেচ্ছা জানান। বাড়িতে ফুলও পাঠান। তাঁদের ভালোবাসাই আমার সম্পদ। শুধু একটা কথাই বারবার মনে হয়, এত মানুষের ভালোবাসার সত্যিই কি যোগ্য আমি?

প্রশ্ন: মহালয়ায় রেডিওতে ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী ’ তো একটা ইতিহাস!
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: ঠিকই বলেছ তুমি। কিন্তু আগে মহালয়ার ভোরে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার যে আনন্দ বা আবেগ ছিল এখন কি তা আর আছে? এখন তো বছরের যে কোনও সময় মোবাইলে বা সিডি-তে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা যায়। তবে আমি আজও মহালয়ার ভোরেই রেডিওতে ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ শুনি। মহালয়ার কথা উঠলেই পুরনো দিনের কত স্মৃতি ঘিরে ধরে। শ্রদ্ধেয় পঙ্কজদা (পঙ্কজকুমার মল্লিক), বাণীকুমার, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র আর আমরা যাঁরা একসঙ্গে মহালয়া ‘লাইভ’ গাইতাম, তাঁদের কথা খুব মনে হয়। রাত তিনটের মধ্যেই চলে যেতাম ১ নং গার্স্টিন প্লেসে। গঙ্গাস্নান করে গরদের ধুতি-চাদর গায়ে ভাষ্যপাঠ শুরু করতেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। স্তোত্রপাঠ করতে করতেই মন্ত্রশক্তি ভর করত ওঁর শরীরে। মাতৃনাম নিতে নিতে দু’চোখ দিয়ে অবিরল ধারায় জল গড়িয়ে পড়ত। ‘বিমানে বিমানে আলোকের গানে জাগিল ধ্বনি’ আমার যে গানটা শোনেন আপনারা, সেটা কিন্তু রেকর্ড করা। লাইভ কখনও গাইনি। সুপ্রভা সরকারের রেকর্ড করা গান ‘অখিল বিমানে তব জয়গানে’ এবং প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অমল কিরণে ত্রিভুবন মনোহারিণী’ লাইভে আমিও গেয়েছি। আসলে মহালয়া যখন লাইভ হত তখন শিল্পীদের দিয়ে প্রতিবছর একই গান ঘুরিয়ে ফিরিয়ে গাওয়ানো হত।

প্রশ্ন: পুজোর গান নিয়ে কিছু বলবেন?
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: একটা সময় পুজোর গান নিয়ে আমার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। মহালয়ার দিনই পুজোর গান প্রথম বাজত রেডিওতে। তারপর তো পুজো প্যান্ডেলে বাজতে শুরু করত পুজোর গান। সেটা সত্যিই বাংলা আধুনিক গানের স্বর্ণযুগ ছিল। দুঃখ হয় পুজোর গান বলে এখন আর কিছু নেই। তবে এবছরটা বাকি সব বছরের চেয়ে আলাদা। অতিমারীর কারণে আমাদের জীবনের অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে। তাই পুজোমণ্ডপে গিয়ে সামাজিক দূরত্বর কথা ভুলে যাবেন না কেউ।

প্রশ্ন: আপনার জন্ম ১৯৩১ সালে ঢাকুরিয়ায়। সঙ্গীত আপনার রক্তে...।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: হ্যাঁ, সঙ্গীতের ব্যাপারটা কিন্তু আমাদের বংশপরম্পরায়। আমাদের বংশের আদি পুরুষ রামগতি মুখোপাধ্যায় একজন বড় সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। তাঁর ছেলে সারদাপ্রসাদও নিয়মিত গান-বাজনার চর্চা করতেন। সারদাপ্রসাদের ছেলেই আমার ঠাকুরদা। এঁরা প্রত্যেকেই উচ্চাঙ্গসঙ্গীত নিয়ে চর্চা করতেন। আমার বাবা নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় আমাকে ভক্তিমূলক গান শেখাতেন। উনি খুব কৃষ্ণভক্ত ছিলেন। আমিও খুব ঈশ্বরবিশ্বাসী। আমার মা নিধুবাবুর টপ্পা সুন্দর গাইতেন। মা গাইতেন, আমি বসে শুনতাম। কত কারুকাজ ছিল গানে। ভাবতাম, না শিখে একজনের গলায় এত সূক্ষ্ম কাজ আসে কী করে!

প্রশ্ন: ছোট বয়সেই আকাশবাণীতে গান গাইলেন। রেকর্ডও করলেন। আপনার সঙ্গীত জীবনের হীরক জয়ন্তীর বছর নীরবেই পেরিয়ে গেল।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: (কয়েক মুহূর্ত চুপ করে) কতদিন আগের কথা সব! বারো বছর বয়সে কলকাতা আকাশবাণীর ‘গল্পদাদুর আসর’-এ প্রথম গেয়েছিলাম। গীতিকার অজয় ভট্টাচার্যের লেখা গান। রেডিওতে গেয়ে প্রথম পারিশ্রমিক পেয়েছিলাম পাঁচ টাকা। তেরো বছর দশ মাস বয়সে প্রথম বেসিক রেকর্ড আমার। এইচএমভি থেকে বেরয়। গানের কথা ও সুর গিরীন চক্রবর্তী। একদিকে ‘তুমি ফিরায়ে দিয়ে যারে’, উল্টোপিঠে ‘তোমারো আকাশে ঝিলমিল করে চাঁদের আলো।’ আমার সঙ্গীত জীবনের হীরক জয়ন্তীর কথা তোমার মুখেই প্রথম শুনলাম। এসব নিয়ে কোনও ভাবনাচিন্তা আমার নেই।

প্রশ্ন: বেশ কয়েকজন গুণী মানুষের কাছে সঙ্গীতের পাঠ নিয়েছেন। তাঁদের কথা একটু বলুন।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: সন্তোষ বসুমল্লিকের কথা বলেছি। এরপর শ্রদ্ধেয় যামিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে গান শেখা শুরু করি। বলতে গেলে তিনিই আমার প্রকৃত মাস্টারমশাই। এত ভালো শিক্ষক হয় না। শ্রদ্ধেয় সুখেন্দু গোস্বামী ‘গীতশ্রী’ পরীক্ষার আগে ক্লাস নিতেন। তাঁর তত্ত্বাবধানেও শিখেছিলাম। পণ্ডিত চিন্ময় লাহিড়ীর কাছে অল্প কিছুদিন তালিম নিই। উস্তাদ বড়ে গোলাম আলি খাঁ আমার সঙ্গীত গুরু। তাঁর কাছে প্রথম ‘নাড়া বাঁধা’। উনি পাতিয়ালা ঘরানার। তাই উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে পাতিয়ালা ঘরানার ছাত্রী আমি। তাঁকে ‘বাবা’ বলতাম। আমার সৌভাগ্য তাঁর মতো এক কিংবদন্তির কাছে শেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। উনি আমাকে বলেছিলেন, ‘দেখো বেটা, এ গানা যো হ্যায়, এ গুরুমুখী বিদ্যা হ্যায়। যবতক মুখসে তুম না শিখোগি ও গানা গানাই নেহি।’ সেই যে শেখা শুরু করেছিলাম, এখনও শিখেই চলেছি।

প্রশ্ন: মাত্র ১২ বছর বয়সে অল বেঙ্গল মিউজিক কনফারেন্স আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় আপনি ভজনে প্রথম হয়েছিলেন। আর সাড়ে ১৪ বছর বয়সে ‘গীতশ্রী’ পরীক্ষাতেও প্রথম।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: আজও মনে পড়ে ১৯৪৩ সালের ৫ ডিসেম্বরের কথা। মেজদাই আমার সঙ্গে হারমোনিয়াম বাজালেন। ঢাকুরিয়ারই একজন তবলা বাজিয়েছিলেন। আমি বেপরোয়া গান গেয়ে কর্তব্য সমাপন করলাম। কাউকেই তখন চিনি না। পরে শুনেছিলাম, সেই প্রতিযোগিতায় মীরা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মীরা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বামী-স্ত্রী। উচ্চাঙ্গসঙ্গীত ও ভজনে দু’জনেই বড় শিল্পী ছিলেন। ১৯৪৬ সালের ৬ এপ্রিল ‘গীতশ্রী’ পরীক্ষা হয়েছিল। ভজন ও গীতশ্রী দু’টো পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়ার পর এই যে আমার বিভিন্ন কম্পিটিশনে গান গাওয়া শুরু হল, সেটা একনাগাড়ে চলতেই লাগল। একাধারে খেয়াল, ঠুংরি, ভজন, গজল, কীর্তন, ভাটিয়ালি, বাউল, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, পুরাতনী সব ধরনের গান গাইতে লাগলাম। সবরকম না জানলে চলে না।

প্রশ্ন: তারপর নিউ থিয়েটার্সে আপনার প্লে-ব্যাকের জয়যাত্রা শুরু হল।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: জয়যাত্রা কি না জানি না ভাই। যতদূর সম্ভব গাওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রথম প্লে-ব্যাক করলাম শ্রদ্ধেয় রাইচাঁদ বড়ালের সুরে ‘অঞ্জনগড়’ ছবিতে। এই ছবির বাংলা ও হিন্দি দু’টো ভার্সানের জন্য দু’টো গান করি। তবে ‘অঞ্জনগড়’-এর আগে ‘সমাপিকা’ ছবিটাই মুক্তি পেয়েছিল। ‘সমাপিকা’-র সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন রবীন চট্টোপাধ্যায়। রাইদা এবং রবীনদা আমাকে প্রায় হাতে ধরে অনেক কিছু শিখিয়েছিলেন।

প্রশ্ন: আপনার গাওয়া গানের গুণগত মান নিয়ে কখনও সমালোচনা হয়েছিল?
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: আমার বড়দা আমার গানের সবথেকে বড় সমালোচক ছিলেন। আমার গান নিয়ে কেন সমালোচনা হবে না বলতে পারো? সমালোচনা না শুনলে এসব কী করে বলো তো? আমার গাওয়া সিনেমার গান, আধুনিক গান পরে একা একা শুনতাম। সুর মানে তো ব্রহ্ম। কোথাও কোথাও মনে হয়েছে স্কেলিং ঠিক নেই। কখনও মনে হয়েছে গানে অলঙ্কার একটু বেশি বা কম হয়েছে। আর একটু অন্যভাবে গাইলে হয়তো ভালো হতো। নিজেই সন্তুষ্ট হতে পারি না।

প্রশ্ন: মহানায়িকা আর মহাগায়িকার যুগলবন্দি কি ভোলা যায়? সুচিত্রা-সন্ধ্যার কথা বলছি। ব্যক্তিগত জীবনে কেমন সম্পর্ক ছিল?
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: প্রথমেই বলি আমি একজন সাধারণ গায়িকা। ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ছবিতে সুচিত্রার লিপে প্রথম গাইলাম। ও এত সুন্দর লিপ দিয়েছিল যেন নিজেই গাইছে। কত যে গান গেয়েছি ওর জন্য। আমার স্বামী গীতিকার শ্যামল গুপ্তও সঙ্গে ছিলেন। ভরত মহারাজের স্নেহের কথা ভুলতে পারি না। ‘সাতপাকে বাঁধা’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন সুচিত্রা। ওঁর বাড়িতে একদিন অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিলাম। সুচিত্রা সেই সময় থাকতেন নিউ আলিপুরে। সেদিন আমি অনেক ফুল নিয়ে গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিল বিদেশি পারফিউমের একটা শিশি। গোটা পারফিউমটা ছড়িয়ে দিয়েছিলাম ওর গায়ে। সুচিত্রা খুব খুশি হয়ে বলেছিলেন, ‘সন্ধ্যা আমাকে একেবারে রানির মতো করে দিল আজ।’

প্রশ্ন: শচীন দেববর্মনের ডাকে হিন্দি ছবিতে প্লে-ব্যাক করার জন্য মুম্বই গেলেন। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব। সাফল্য পেয়েও কলকাতায় ফিরে এলেন।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: (লিকার চায়ে চুমুক দিয়ে) শচীনদা আমাকে মুম্বই নিয়ে গেলেন তাঁর ছবিতে গাইবার জন্যে। অদ্ভুত ব্যাপার তাঁর ছবিতে কিন্তু প্রথমে গাইনি। গেয়েছিলাম আরও একজন গুণী সঙ্গীত পরিচালক অনিল বিশ্বাসের সুরে ‘তারানা’ ছবিতে। লতা মঙ্গেশকর ও আমার ওই ডুয়েটটা ছিল— ‘বোল পাপিহে বোল রে/বোল পাপিহে বোল’ গাওয়ার সূত্রেই লতার সঙ্গে পরিচয়। আমি থাকতাম খার রেল স্টেশনের প্রায় লাগোয়া এভারগ্রিন হোটেলে। রেকর্ডিং না থাকলে লতা প্রায়ই আমার কাছে আসতেন। খুব গল্প করতাম দু’জনে মিলে। লতা ও আমার মধ্যে গান নিয়ে অনেক আলোচনা হতো। আমার মা কিছুদিন ছিলেন আমার সঙ্গে। লতা মায়ের রান্না পছন্দ করতেন। লতা তখন থাকতেন চার্নিরোড স্টেশনের কাছাকাছি এক জায়গায়। আমিও ওঁদের বাড়িতে যেতাম। লতা ভালো নকল করতে পারতেন। ওঁর কমেডির সেন্সও দারুণ। সেই সময় হিন্দি ছবিতে যেসব মহিলা শিল্পী গাইছেন, তাঁদের কপি করে আমাকে শোনাতেন লতা। আমাদের প্রায় সত্তর বছরের বন্ধুত্ব আজও অটুট। একবার ওঁকে বলেছিলাম, ‘তুমি ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’ গানটা একটু শোনাবে?’ সঙ্গে সঙ্গে ফোনে শুনিয়ে দিলেন। কিন্তু মুম্বইতে মন টিকলো না, তাই ফিরে এলাম।

প্রশ্ন: ইন্দিরা গান্ধীও তো আপনার গানের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: বছরটা মনে নেই। দিনটা ছিল পয়লা জানুয়ারি। কলকাতার রাজভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভজন গেয়েছিলাম। ইন্দিরা গান্ধী উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে পরিচয় হল। বললেন, এত মিষ্টি গলা তোমার! ভীষণ ভালো লেগেছে তোমার গান। আমি তো লজ্জায় মরি আরকি! তবে তারপর দিল্লিতে ইন্দিরাজির বাড়িতেও গিয়েছি।

প্রশ্ন: আপনি সঙ্গীত জীবন ও সংসার দু’টোই সামলেছেন কীভাবে?
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: সত্যি বলতে কী, সংসার সম্বন্ধে ভীষণ অনভিজ্ঞ ছিলাম। রান্নাবান্না জানি। ঘরদোর গোছগাছও করেছি। বাসনকোসন মেজেছি। তবে বিয়ের পর আমার স্বামী সাংসারিক সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। আমি নিশ্চিন্তে গান গেয়ে যেতে পেরেছি।

প্রশ্ন: টিভির রিয়্যালিটি শোয়ের মধ্য দিয়ে নতুন গায়ক-গায়িকারা আসছেন।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: চেষ্টাটা ভালো। বহু লোক এইসব প্রোগ্রাম দেখছেন। কিন্তু নিজের গান না হলে ভবিষ্যতে টিকে থাকা মুশকিল। ওদের জন্য খুব চিন্তা হয়।

প্রশ্ন: আপনি জাতীয় পুরস্কার-সহ আরও পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের পদ্মবিভূষণ বা পদ্মভূষণ পেলেন না।
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: আমার সবথেকে বড় পুরস্কার শ্রোতাদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা।

প্রশ্ন: আপনার সময় কাটে কী করে?
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: রেওয়াজ করি। গান শুনি। যোগাসন করি। সময় কেটে যায়।

প্রশ্ন: আপনার কোনও অপূর্ণ ইচ্ছা?
সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: দু’টো ইচ্ছা আমার অপূর্ণ রয়ে গেল। উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের আরও কিছু এলপি করার কথা ভেবেছিলাম। হয়নি। আর পাশ্চাত্য সঙ্গীত শেখার বড় শখ ছিল। ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক্যাল আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু নানা কারণে সেটাও শেখা হয়নি। 

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ