নুসরাত হত্যা মামলা

ওসি মোয়াজ্জেম হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০১৯, ১৫:৫৮ | আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২০:০২

পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর গ্রেফতার হলেন ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন। আজ রবিবার (১৬ জুন) রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার বলেন, ‘আজ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হাই কোর্ট এলাকার আশপাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে।ফেনীর পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে। যেহেতু মামলা তারা তদন্ত করছেন, তাই তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি সোহেল রানা ওসি মোয়াজ্জেমের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হাইকোর্ট এলাকা থেকে থেকে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’ 

পুলিশ হয়েও গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়িয়ে ২০ দিন আত্মগোপনে ছিলেন ফেনীর সোনাগাজী থানার আলোচিত ওসি মোয়াজ্জেম। উদ্দেশ্য ছিল যে করেই হোক আদালত থেকে জামিন নেওয়া। এজন্য দাড়ি-গোঁফ বড় করে চেহারাটা পাল্টানোর চেষ্টাও করেন। এরপর আজ রবিবার (১৬ জুন) কৌশলে আদালত চত্বরে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে আগে থেকেই মোয়াজ্জেম হোসেনকে নজরদারিতে রেখেছিল পুলিশ। আদালত চত্বরে ঢোকার আগেই শাহবাগ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে যান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আসার সময় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে ডিএমপির শাহবাগ থানার পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। তাদের সহযোগিতা করে ডিএমপির সাদা পোশাকের পুলিশে সদস্যরাও। উচ্চ আদালতের সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা তাকে নজরদারিতে রেখেছিল। গ্রেফতারের পর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে। তাকে ফেনীতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

হাইকোর্টে ডিউটিরত ডিবির এক কর্মকর্তা জানালেন, ওসি মোয়াজ্জেমের দাড়ি-গোঁফ বড় ছিল। তাই প্রথমে তাকে তারা চিনতে পারেননি।কয়েকবারের চেষ্টায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। 

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা শাহবাগ থানা পুলিশদলের একজন সদস্য জানান, ওসি মোয়াজ্জেম আজ হাইকোর্টে এক আইনজীবীর চেম্বারে গিয়েছিলেন। সেখানে ডিবির একটি দল তাকে অনুসরণ করে। তা টের পেয়ে সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে আসেন মোয়াজ্জেম। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।’

এর আগে, গত ১৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেন মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এরপর থেকেই পলাতক ছিলেন সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম। 

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই অভিযান চালিয়েও মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফেনী ও ঢাকায় বারবার অভিযান চালিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। ফেনী জেলা পুলিশ ঢাকায় এসেও অভিযান চালিয়েছে। তবে মোয়াজ্জেমের কোনো হদিস তারা বের করতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি।

ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সুমন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, গত ৮ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। গত ক’দিন থেকে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলি চলছিল। ঈদের আগে সেখান থেকে নিরুদ্দেশ হন ওসি মোয়াজ্জেম।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল এইচএসসি সমমানের আলিম আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ