সিনহা হত্যা

'ব্যক্তির দায় দুই বাহিনীর সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না'

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৬:৩৮

ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ।

টেকনাফে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর রাশেদ সিনহা'র মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার (৫ আগস্ট) কক্সবাজারে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা একথা বলেন। এসময় সেনাপ্রধান বলেন, 'সিনহা'র মৃত্যুর ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মর্মাহত। তদন্ত কমিটির ওপর সেনাবাহিনী ও পুলিশের আস্থা আছে। এ ঘটনার দায় ব্যক্তির, কোন প্রতিষ্ঠানের নয়। সিনহার মৃত্যুকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে চায় সেনাবাহিনী।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি যৌথ তদন্ত দল গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের মাকে ফোন করে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর কথার ওপর সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আস্থা আছে।' এ ঘটনা নিয়ে যেন সেনাবাহিনী ও পুলিশের ভেতর অনাকাঙ্ক্ষিত চিড় ধরানোর মতো ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন সেনাপ্রধান।

আর পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, 'পুলিশ ও সেনাবাহনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করে। এ ঘটনা নিয়ে অনেকে উস্কানিমূলক কথা বলার চেষ্টা করছেন। যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। কোন প্রকার উস্কানিতে দুই বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'মেজর (অব.) সিনহার মৃত্যুতে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় হবে না। কমিটি প্রভাবমুক্ত পরিবেশে তদন্ত করবে। কমিটি যে সুপারিশ দিবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এর আগে, বুধবার দুপুরে কক্সবাজারে যান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। এরপর দুই বাহিনীর প্রধান সেনাবাহিনীর রেস্টহাউস জলতরঙ্গে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন দুই বাহিনী প্রধান। সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় সেনা-পুলিশ সম্পর্ক নষ্ট হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

এরপর কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্ট পরিদর্শনে যান দুই বাহিনীর প্রধান।

এদিকে, বুধবার অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ নিহতের ঘটনায় টেকনাফের আদালতে হত্যা মামলা করেছে পরিবার। ঘটনার দিন উপস্থিত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন নিহত রাশেদের বোন শারমিন।

মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক তামান্না ফারাহ টেকনাফ থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র‌্যাবকে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ। একে সরাসরি হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন সিনহার স্বজনরা। এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন তারা। সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন মেজর সিনহা রাশেদ। ভ্রমণ বিষয়ক একটি ইউটিউব চ্যানেল বানানোর কাজও চলছিলো তার। এরই অংশ হিসেবে সিনহা কক্সবাজারে ভিডিও তৈরির কাজে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পরে পুলিশ দাবি করে, আত্মরক্ষার্থেই গুলি করা হয়েছে রাশেদকে।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ