করোনা দূর করার ভেষজ বাঙালিদের হাতেই, দাবি বিজ্ঞানীর

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১০:১৪

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের হাত থেকে কী ভাবে মুক্তি পাওয়া যায়, তার উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে গোটা বিশ্ব। ল্যাবরেটরিতে বিনিদ্র রজনী কাটছে বিশ্বের তাবড় গবেষক-বিজ্ঞনীদের। হাতের কাছে যে ওষুধ আছে, তা দিয়েই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এমন একটা সংকটময় পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এক বাঙালি বিজ্ঞানীর পরামর্শ ভেষজই পারে করোনার সংক্রমণ দূরে রাখতে।

ভারতীয় উপমহাদেশ, চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ এখনও ভেষজ চিকিৎসায় আস্থা রাখেন। সেই ভেষজের অন্যতম হল ত্রিফলা। আমলকি, হরিতকি ও বহেড়ার সমাহার। গবেষক-অধ্যাপক রাজাগোপাল চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, ভারতীয় এই ভেষজ দাওয়াই ঠেকাতে পারে করোনার প্রাণসংহার।

রাজাগোপাল চট্টোপাধ্যায় বোস ইনস্টিটিউটের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে কাজ করছেন। এই গবেষকই অতীতে জানিয়েছিলেন আমলকি, হরিতকি, বহেড়া, খয়ের, বিলিতি আমড়া, কুলত্থ কলাই এবং অনন্তমূলের ভেষজ প্রয়োগে ক্যানসার নিরাময়ের কথা। ২০১৬ সালে রাজাগোপাল ও তার ছাত্রী ইন্দ্রাণী করের প্রকাশিত গবেষণাপত্রে তার উল্লেখ রয়েছে।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসকে কী করে ঠেকাতে পারে ত্রিফলা?

রাজাগোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, যে কোনও জীবাণু তার জিনগত বৈশিষ্ট্য বহন করে ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড, ডিএনএ অথবা রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড, আরএনএ রূপে। করোনা হলো আরএনএ ভাইরাস। ফলে এর মিউটেশনের হার অত্যন্ত বেশি। সে ক্ষেত্রে করোনার বিস্তার কমাতে রোধ করতে হবে আরএনএ'র সিন্থেথিস। ত্রিফলাসহ ভারতীয় ভেষজ উদ্ভিদের উপাদান এই সিন্থেসিস ঠেকাতে পারবে বলে রাজাগোপালের ধারণা।

তিনি বলেন, ক্যানসারের ক্ষেত্রে যেমন ডিএনএ-র উপাদানগুলো ভেষজ নির্যাসগুলোর প্রভাবে ধ্বংস হয়, করোনার ক্ষেত্রেও আরএনএ-র নির্মাণে জরুরি নিউক্লিওসাইড নিউক্লিওটাইডগুলি, ফেনটনের মতো উপাদানগুলি ধ্বংস হবে। এতে আরএনএ তৈরি স্তিমিত হবে।

গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাসের ওষুধ তৈরি এক দীর্ঘপথ। তার আগে করোনার তাণ্ডব ঠেকাতে এই ভেষজ উপাদানগুলো বিশেষ উপকারী বলে মনে করেন রাজাগোপাল। তাই তার পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত আমলকি, হরিতকি, বহেরা, খয়ের, বিলিতি আমড়া খাওয়া দরকার। বিলিতি আমড়া পাওয়া না গেলে, বেদানা বা ডালিমেও কাজ হতে পারে।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ