টকশোতে 'আক্রমণের নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না' তিনি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯, ১৮:১৭

লেখক, সাংবাদিক, সমালোচক ও খ্যাতনামা টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মঙ্গলবার রাতে মারা গেছেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের আলোচনাধর্মী অনুষ্ঠান অভিমত - যেটিকে বাংলাদেশের টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রথম টক শো জাতীয় অনুষ্ঠান হিসেবে মনে করা হয় - এর সঞ্চালক ছিলেন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ছেলে অপূর্ব জাহাঙ্গীরের ফেসবুক পেইজে জানানো হয় যে তার বাবা গতকাল রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে মারা যান।

আজ বুধবার প্রেসক্লাবে সকাল ১১টায় মি. জাহাঙ্গীরের প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা তার বাসার নিকটবর্তী মসজিদে।

তার মৃতদেহ দাফন করা হবে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি দু'টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ভাই মুহাম্মদ ইব্রাহীম, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন, বিবিসি বাংলাকে জানান যে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের জন্ম হয় আনুমানিক ১৯৫০ সালে।

স্কুল-কলেজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।

মি.ইব্রাহীম বলেন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ছাত্রাবস্থা থেকেই তৎকালীন 'দৈনিক পাকিস্তান' (পরবর্তীতে যেটি দৈনিক বাংলা হয়) পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন।

পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে জীবনের অধিকাংশ সময়ই ঐ পত্রিকাতেই কাজ করেছেন তিনি।

এরপর তিনি বাংলাদেশের প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টে শিক্ষকের চাকরি করেন এবং সেখান থেকে অবসর নেয়ার পর ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।

মি.ইব্রাহীম বলেন, "টেলিফোনে সরাসরি অংশগ্রহণকারীকে যুক্ত করে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করা বাংলাদেশে তিনিই প্রথম শুরু করেন।"

এছাড়াও তিনি মিডিয়া বিষয়ে বেশকিছু বইপত্র লিখেছেন এবং সেন্টার ফর কিউনিকেশন ডেভেলাপমেন্ট নামের একটি বেসরকারি সংস্থাও গঠন করেন।

নাটক ও নৃত্যের সাথে জড়িত কয়েকটা সংস্থার সাথেও মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর যুক্ত ছিলেন বলে জানান মি. ইব্রাহীম।

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের তিনটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

তার আরেক ভাই মুহাম্মদ ইউনুস নোবেল পুরস্কার বিজয়ীএকমাত্র বাংলাদেশী।

'মানুষকে পরিশুদ্ধ করার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন'

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের এক সময়কার ছাত্র এবং লেখক আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের প্রকাশনা এবং সাংবাদিকতা জগতে তার ভিন্নধর্মী একটি ভূমিকা ছিল।

"কারণ তিনি একই সাথে লেখক ছিলেন, সাংবাদিক ছিলেন, সংবাদভাষ্য লিখতেন এবং টেলিভিশনে গঠনমূলক সমসাময়িক বিষয়ের ওপর আলোচনা করতেন।"

বাংলাদেশ টেলিভিশনে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সঞ্চালনা করা আলোচনা অনুষ্ঠানকে বাংলাদেশে প্রচারিত হওয়া প্রথম আলোচনা অনুষ্ঠান বলে মন্তব্য করেন মি. হক।

"বর্তমানে আমরা যেটাকে বলি টক শো, বাংলাদেশ টেলিভিশনে সে ধরণের অনুষ্ঠান তিনিই প্রথম নিজের মত করে শুরু করেন। কাজেই তাকে বাংলাদেশে টক শো'র অন্যতম প্রবর্তক বলা যায়।"

মি. হক বলেন, তার অনুষ্ঠানে বিপরীতধর্মী বা পরপস্পর-বিরোধী মতগুলোকে সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতেন না তিনি, বরং সেই মতগুলোর একটি সুন্দর সমন্বিত উপসংহার টানতে পারতেন।

"অযথা আক্রমণ করার নীতিতে নয়, মানুষকে পরিশুদ্ধ করার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি," বলেন মি. হক।

মি. হক বলেন, তার সমালোচনার ভাষা এতটাই পরিশীলিত এবং গ্রহণযোগ্য ছিল যে তিনি যার সমালোচনা করতেন তার কাছেও গৃহীত হতো।

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শেখানোর প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন এবং সংবাদমাধ্যমের সমালোচক এবং বিশ্লেষক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন বলে মন্তব্য করেন আনিসুল হক।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ