উত্তরবঙ্গে চার লেন না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগ থাকবে: কাদের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৫৫ | আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৩৯

আজ বুধবার (১৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবার সড়কপথে ঈদযাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক ছিল। একটি রুটে (টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জ) দুর্ভোগ ছিল অসহনীয়। এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেন না হওয়া পর্যন্ত এ দুর্ভোগ থাকবে। 

তিনি বলেন, ‘একটা রুটে দুদিন খুবই দুর্ভোগের কারণ হয়েছিল। সড়কেও হয়েছিল এবং টার্মিনালেও অপেক্ষমাণ যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হয়েছিল। এটা টাঙ্গাইল রুটে।’

রুটটি প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সমস্যাটি আগে ঢাকা-চট্টগ্রামে ছিল। এদিক থেকে এইট লেনে গিয়ে টু লেন ব্রিজে চলাচল, ওদিক থেকে ফোর লেনে এসে টু লেন ব্রিজে লম্বা টেইলব্যাক (যানজট) সৃষ্টি হচ্ছে। এখানেও সমস্যাটাও ঠিক তাই। এখানে ফোর লেনে যাত্রাটা যেখানে শেষ হয়, টু লেন শুরু হয় সেখানে।’ তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্রা টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জ-এখানে যে সমস্যাটা, এ সংকট অনেক চেষ্টা করেও এড়াতে পারিনি। এখন এলেঙ্গা থেকে রংপুর ফোর লেনের কাজ শুরু হবে। এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেন না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগ থাকবে।’ ‘ঢাকা-সিলেটও ভালো ছিল। ভুলতা ফ্লাইওভার খুলে দেয়া হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহেও আমরা যতটা খারাপ হবে ভেবেছিলাম সেটা হয়নি। ঢাকা-ময়মনসিংহে স্বস্তিদায়ক ছিল।’ 

‘আমি আশা করি, আমাদের ওদিকে আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। তবে আপাতত ফোর লেন হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও ঈদ আছে, আরও প্রেসার আছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আপাতত কিছু ব্যবস্থা করার চিন্তা-ভাবনা আমরা করছি’-যোগ করেন মন্ত্রী। 

টাঙ্গাইল রুটে ভোগান্তির কারণ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে এমনিতেই গার্মেন্টস কর্মীরাসহ শেষ দিকে চাপটা এমন যে, তখন প্রেসার মোকাবিলা করা খুব কঠিন। চার লেন থেকে যখন দু্ই লেনে যায় প্রেসারটা তখন লম্বা টেইলব্যাক সৃষ্টি হয় এবং টেইলব্যাকটা আরও লম্বা হয় যখন ধৈর্য হারা হয়ে চালকরা গাড়ি উল্টোপথে নিয়ে যায়। এ কারণটাই ছিল। যে কারণে দুদিন যাত্রাটা স্বস্তিদায়ক ছিল না, ভোগান্তি হয়েছে। অনেক মানুষ কষ্ট করেছেন। গাড়ি দেরিতে আসার কারণে টার্মিনালেও বহু মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছি।’

উত্তরের মানুষ এ সুবিধাটা কবে পাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে পাবে। এখন ঢাকা-এলেঙ্গা ফোর লেন হয়ে গেল। যখন এলেঙ্গা-রংপুর ফোর লেন কাজটা শেষ হবে তখন উত্তরবঙ্গের মানুষ আরও স্বস্তি পাবে এবং ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো স্বস্তিদায়ক হবে। কাজেই যতদিন না ফোর লেনের কাজটা শেষ না হচ্ছে এলেঙ্গা থেকে রংপুর, ততদিন পর্যন্ত এ দুর্ভোগ পোহাতে হবে এবং ভোগান্তির অবসান হবে না- এটাই স্বাভাবিক।’ 

এবারের ঈদযাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক হয়েছে তবে একটা জায়গায় হ্যাসেল বেশি হয়েছে যেটা আমরা এক্সপেক্ট করিনি। তার চেয়ে বেশি হয়েছে। আমরা এবারের ভুল থেকে ভবিষ্যতে শিক্ষা নেব। এ ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধে ফোর লেন হওয়ার আগে সেটা করব। এ ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং আমরা সিরিয়াসলি বিষয়টা দেখছে-বলেন মন্ত্রী।

এবিএন/নির্মল/জসিম/এনকে

এই বিভাগের আরো সংবাদ