পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব চালের বাজারে পড়বে না : খাদ্যমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৪৬ | আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:৩৯

চালের পর্যাপ্ত মজুদ আছে বলে দাবি করে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, কেউ যদি কারসাজি না করে, তা হলে চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। দেশের প্রতিটি বাজারে যে পরিমাণ চাল আছে, সেখানে পরিবহন ধর্মঘট যদি ৮ থেকে ১০ দিনও চলে তাতেও কোনো প্রভাব পড়বে না। কেউ যদি এমন পরিস্থিতিতে অনৈতিকভাবে চালের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তা হলে ছাড় দেওয়া হবে না।

আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) সচিবালয়ে চাল ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি, কৃষি, স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মঘটের আগেই যে খুচরা বাজারে মিনিকেট চালের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে, সে কথা মিল মালিকদের সঙ্গে সভার শুরুতে স্বীকার করে নেন খাদ্যমন্ত্রী। তার ভাষায়, এই দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। মিল ও বাজার মনিটর করে দেখা গেছে, মজুদের কোনো ঘাতটি নেই, আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই, বরং রফতানি করা জন্য প্রস্তুত আছি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন চালের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করতে না পারে, সে জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কেও বলা হয়েছে। যদি অনাহূত কেউ চালের দাম বাড়াতে চায়, তাহলে কোনো ক্রমেই সহ্য করা হবে না, প্রশয় দেওয়া হবে না।

মন্ত্রী তথ্য দেন, ২৬-২৭ টাকার মোটা চাল খুচরা বাজারে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে ভোক্তাদের ‘আঁতে ঘা’ লাগছে। সরকার এটা চলতে দেবে না।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সাধন মজুমদার বলেন, পাইকাররা কেজিতে ৫০ পয়সার বেশি লাভ করতে পারেন না, এর বেশি করলে দেশেকে আপনারা শোষণ করতে বসেছেন, এটাও সহ্য করা হবে না। খুচরা বাজার আপনাদের কন্ট্রোল করতে হবে মনিটরিং করতে হবে।

সরকারি গুদামে ১১ লাখ ১২ হাজার ৬৭৪ টন চাল মজুদ আছে এবং চাল ও গম মিলিয়ে মজুদের পরিমাণ ১৪ লাখ ৫৯ হাজার টন জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মজুদের এই পরিমাণ ‘অন্যান্য দেশের তুলনায়’ বেশি।

‘চালের দাম আর বাড়বে না’- এমন শপথ নিতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান সাধন চন্দ্র মজুমদার, যিনি নিজেও পারিবারিক সূত্রে ধান-চালের ব্যবসায় জড়িত।

দাম যতটা বেড়েছে তা কমতে কতদিন লাগবে- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে যেন না বাড়ে সে জন্য মিটিং করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার জরুরি ভিত্তিতে যাবে।

মতবিনিময় সভায় খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন ।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ