আমদানি নির্ভর ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে : ড. রাজ্জাক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:০৯

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন,আমদানি নির্ভর ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি কমিয়ে আনতে হবে। তিনি আজ শনিবার রাজধানীর মনিপুরি পাড়ায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে কৃষিতত্ত্ব সমিতির ৩৫তম বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন ।

ড. রাজ্জাক বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষিকে মর্মে-মর্মে উপলব্ধি করেন বলেই কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি-পণ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে ৫ম বারের মতো সারের দাম কমালেন। তাঁর (শেখ হাসিনা) দূরদর্শি নের্তৃত্বেই বাংলাদেশের কৃষিতে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। যার জন্য বিশ্ব¦ব্যাপী তিনি প্রশংসিত।’

কৃষির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন,‘আমরা উন্নত-বিশ্বের মর্যাদা লাভের যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হাটছি তা সফল করতে কৃষিকে বাণিজ্যিক,আধুনিক কৃষি ও কৃষিকে শতভাগ যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে।’
ড.রাজ্জাক বলেন, জনবহুল এদেশে মাত্র ৮ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে আবাদ করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে। এখন এই দেশ খাদ্য-উদ্বৃত্তের দেশেরও মর্যাদা অর্জন করেছে। তিনি বলেন,‘কৃষিবিদদের যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং আমাদের মেহনতি কৃষক ভাইদের জন্য,সর্বোপরী প্রধানমন্ত্রীর কৃষির প্রতি দরদের ফলে এসব সম্ভব হয়েছে। নগরায়ণ,শিল্পায়নের ফলে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে,তাই আমাদের অল্প জমিতে অধিক ফসল ফলাতে হবে এবং মাটির স্বাস্থ্যের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭১-৭২ সালে আমাদের খাদ্য উৎপাদন ছিল ১১মিলিয়ন টন যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-১৮ সালে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩ শ’ ৬২ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন টনে।
ড. রাজ্জাক বলেন,‘আমাদের কৃষিতে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে ,বিশেষ করে কৃষি শ্রমিকের হ্রাস,জমির উর্বরতা এবং পানি প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে। এর পরেও আমাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষির এই উৎপাদনশীলতাকে টেকসই করতে হলে কৃষির প্রক্রিয়াজাত,বানিজ্যিকীকরণ ও রপ্তানিতে যেতে হবে। আমাদের সুন্দর ভবিষৎ নির্ভর করে কৃষির ওপর। শুধু ধানের ওপর নির্ভর করলে হবে না এর পাশাপাশি লাভজনক ফসল আবাদ করতে হবে।’

দেশে তৈল বীজ ও ডালের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামীতে ভুট্টার উৎপাদন ৬০ থেকে ৭০ লাখ মেট্রিক টন করতে হবে। কারণ ভুট্টা হতে তেল উৎপাদন করা যায়। তিনি বলেন কৃষির বৈচিত্রায়ন ও নিরাপদ পুষ্টিকর খাদ্যের প্রতিও অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ এগ্রোনমি সোসাইটির সভাপতি ড.মো: রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইআরডি’র সদস্য ও সিনিয়র সচিব ড.মো: সামসুল ইসলাম ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়াইস কবীর ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব ড.মো: ওমর আলী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রফেসর ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ