নদী দখল করে গড়ে ওঠা ধর্মীয় স্থাপনা স্থানান্তর করা হবে: প্রতিমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩২

ঢাকার চারপাশের নদী দখল করে গড়ে ওঠা ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্থাপনা স্থানান্তর করে নদীর সীমানার বাইরে নির্মাণের জন্য সরকার একটি প্রকল্প নেবে বলে বুধবার জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্ছেদ করতে চাই না। আমরা এজায়গায় পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তুলতে পারি কিনা সে ব্যাপারে সরকারের সাথে কথা বলেছি।’

তিনি বলেন, ঢাকাকে বসবাসের যোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দখলমুক্ত করে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।

সচিবালয়ে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর তীরভূমিতে বিদ্যমান মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা স্থানান্তর করে বাইরে নির্মাণ নিয়ে সভার শুরুতে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আব্দুস সামাদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খালিদ বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদী দখল করে ১১৩টি ধর্মীয় স্থাপনা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও মাজার রয়েছে ৭৭টি; কবরস্থান ও মৃত ব্যক্তির জন্য গোসলখানা ৫টি; ঈদগাহ একটি; স্কুল ও কলেজ ১৪টি; স্নানঘাট, মন্দির ও শ্মশানঘাট ১৩টি এবং অন্যান্য স্থাপনা ৩টি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে আমাদের কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো আমাদের অনুভূতির সাথে জড়িত। আমরা কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করিনি, আমরা আলোচনা করছি।’

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো সমজিদ ভাঙা হবে না, আমরা সমন্বয় করব। নদীর জায়গায় মসজিদ হবে না, স্থানান্তর হবে। তবে সেটা আলোচনা করেই হবে। এখানে কোনো ‘ফোর্স অ্যাপ্লাই’ করা হবে না।

এগুলো নিয়ে সার্ভে করা হচ্ছে এবং এজন্য একটি প্রকল্প করতে হবে। প্রকল্প করে সরকারের অনুমোদন নেয়ার পর আমরা বাস্তবায়নে যাব, বলেন তিনি।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরে কতদিন লাগতে পারে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ভে করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে, এজন্য ডিপিপি প্রণয়ন করতে হবে। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

এ বিষয়গুলো নিয়ে অনেকে রাজনীতি করার চেষ্টা করেছে এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করছে বলেও সতর্ক করে দেন নৌ প্রতিমন্ত্রী।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ