শহীদ মিনারে জনতার ঢল

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১৫

মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতির যে বীর সন্তানেরা অকাতরে প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন, সেই শহীদদের স্মৃতির মিনারে নেমেছে সর্বস্তরের জনতার ঢল। সরকারি বিভিন্ন দফতর থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার নেতৃবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

আজ শুক্রবার অমর একুশের প্রথম প্রহরে (বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টার পর) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। তারপর ভোরেই শহীদ মিনার অভিমুখে প্রভাতফেরিতে নামে জনতার ঢল। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেই জনস্রোত এসে মিশে গেছে শহীদ মিনারে।

নীলক্ষেত, আজিমপুর কবরস্থান থেকে পলাশী হয়ে মানুষের দীর্ঘ লাইন পড়ে গেছে শহীদ মিনার অভিমুখে। শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তারা বের হচ্ছেন দোয়েল চত্বর ও টিএসসি ক্রসিং দিয়ে।

সকাল থেকে দেখা যায়, সরকারি বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক স্কুল-কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছেন প্রভাতফেরিতে। অনেকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে বাসা থেকে খালি পায়ে শহীদ মিনারে আসেন ভাষাসৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে।

এর আগে রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং এর পরই প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ কালজয়ী গানটি বাজানো হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এর পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রীবর্গ ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শহীদ মিনারে পুনরায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের প্রধান বেনজীর আহমেদ, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পর শ্রদ্ধা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

এর পর ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এসেছিলেন হুইলচেয়ারে। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সভাপতি এ. কে. আজাদ ও মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া প্রমুখ।

এর পর পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ১৪ দলীয় ঐক্যজোট, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস, ঢাকা জেলা প্রশাসন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন সংগঠন।

মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে ১৯৫২ সালের এই দিনে শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন রফিক, সালাম, বরকত, সফিউর, জব্বারসহ অনেক বাংলা মায়ের দামাল ছেলে। তাদের রক্তের দামে এসেছিল বাংলার স্বীকৃতি। আর তারই সিঁড়ি বেয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ