জবাবদিহিতা না থাকাই বিএনপির ব্যর্থতার মূল কারণ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১:২৯

ছবি: সংগৃহীত
নিবার্চনে ভূমিকা, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আন্দোলনসহ সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। স্বজনপ্রীতি, কমিটি বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জবাবদিহিতা না থাকাই ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

চলমান পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে বিএনপি সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করলেও মহানগর কমিটি নিয়ে কোনো দিকনির্দেশনা পাননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দাবি, নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে বিএনপির জনপ্রিয়তা দিনদিন কমে গেছে। কাজেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তরুণ নেতাদের হাতে দায়িত্ব দিলে অচিরেই ঘুরে দাঁড়াবে মহানগর বিএনপি।

দলীয় সূত্রমতে, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক দুই প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা প্রথম থেকে নিজেদের অনুসারী তৈরি করেন। ফলে নগর বিএনপিতে শুরু থেকে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়।

বর্তমান ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ বিএনপির নেতা-কর্মীরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা-কর্মীরা প্রধানত মির্জা আব্বাসপন্থী, হাবিব-উন নবী খান সোহেলপন্থী, ইশরাক হোসেনপন্থী (সাদেক হোসেন খোকাপন্থী) ও আবুল বাশারপন্থীতে বিভক্ত।

অপরদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা-কর্মীরা আবদুল কাইয়ুমপন্থী, সদ্য প্রয়াত আহসান উল্লাহপন্থী এবং আবদুল আউয়াল মিন্টুপন্থীতে বিভক্ত।

এছাড়াও সাবেক সচিব আবদুস সালাম ও ঢাকা-৫ সাবেক এমপি সালাউদ্দিন আহমেদের নিজস্ব বলয়ের লোক রয়েছে। তবে এসবের অবসান চান তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তারা মহানগর কমিটি সংস্কারের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করে তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে অতীতের ব্যর্থতা থেকে বের হয়ে আসতে চান।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আন্জু বলেন, এটা ঠিক আমরা জনসমর্থন কাজে লাগাতে পারেনি। তবে মহানগর বিএনপির যে কর্মী সমর্থক আছে তাতে আমরা যেকোনো সময় ঘুরে দাঁড়াবো।

ঢাকা মহানগর বিএনপির দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, সভাপতি বাইরে থাকলে সাধারণ সম্পাদক থাকেন জেলে। আবার সাধারণ সম্পাদক বাইরে থাকলে সভাপতি থাকেন জেলে। এভাবেই আমাদের সময়টা চলে গেছে।

তিনি বলেন, আমাদের কমিটির কাঠামো আছে। কিন্ত পূর্ণাঙ্গ করতে পারিনি। এটা ঠিক আন্দোলন সংগ্রামে কর্মসূচি পালন করতে হলে শক্তিশালী কমিটি থাকার প্রয়োজন। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলে অচিরেই আমরা কমিটিগুলো পুনর্গঠন কাজ শেষ করতে পারব।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপিকে উত্তর ও দক্ষিণ দুইভাগে ভাগ করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হিসেবে আবদুল কাইয়ুম ও আহসান উল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল ও কাজী আবুল বাশারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এর মধ্যে কমিটির গঠনের আগে থেকেই বিদেশে পলাতক হত্যা মামলার আসামি কাইয়ুম। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আহসান উল্লাহ।

এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আবদুল আলিম নকী। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই মেয়াদি এই কমিটি চার বছর হতে চলেছে, তবু এখনো কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি কোনো অংশই।

 

এবিএন/ইমরান/জসিম/এসই 

এই বিভাগের আরো সংবাদ