অন্তর্জ্বালা থেকেই মনগড়া বই লিখেছেন সিনহা : কাদের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:৫১ | আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:০৭

সাবেক হওয়ার অন্তর্জ্বালা থেকেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মনগড়া বই লিখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

গত বুধবার সাবেক এ প্রধান বিচারপতির বই ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ প্রকাশিত হয়েছে। বইয়ে দাবি করেছেন, তিনি দেশ ছেড়েছেন ‘হুমকির মুখে’; একই কারণে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।   

ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি সাবেক হয়ে গেছেন। সাবেক হওয়ার অন্তর্জ্বালা আছে। কী পরিস্থিতিতে সাবেক হয়েছেন তা সবাই জানে। বই লিখে মনগড়া কথা বলবেন বিদেশে বসে, সেটা নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজন আছে? ক্ষমতা যখন থাকে না তখন অনেক অন্তর্জ্বালা গড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, এস কে সিনহা এখন বইতে যা লিখেছেন, প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় বলার সৎ সাহস একজন বিচারপতি হিসেবে কেন তার ছিল না? এখন বিদায় নিয়ে কেন পুরনো কথা নতুন করে বলছেন, যা খুশি তাই বলছেন। তিনি যদি সত্যই বলতেন, তা হলে যখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন তখন বললেন না কেন? সত্য কথা দেশের জনগণের মাঝে এসে বললেন না কেন? এখন বিদেশে বসে আপন মনে ভুতুড়ে কথা চাপছেন। এটা আমাদের ও দেশের মানুষের বিশ্বাস করতে হবে? এর যৌক্তিকতা নেই।

নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে নতুন নতুন জোট গড়ে ওঠার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলে দলে জনে জনে যে ঐক্যের কথা আসছে, এসব কি জনমনে কোনো প্রভাব ফেলবে? শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কি কমে যাবে?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের আস্থা আছে, বাংলাদেশের জনমত শেখ হাসিনার পক্ষে রয়েছে।  নেতায় নেতায় ঐক্য হলে জনতার মধ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী এই মুহূর্তে জনমনে এর কোনো প্রতিফলন হবে না। এটাই আমাদের অভিজ্ঞতা।

ওবায়দুল কাদের বিএনপি প্রসঙ্গে বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে দেশে-বিদেশে নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে। সরকার নামানোর চক্রান্ত করছে।
 
বিএনপিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিবও তাদের ডেকে ছিলেন। কিন্তু পরে জানা গেল, জাতিসংঘের মহাসচিব তাদের আমন্ত্রণ করেননি, এটা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার। তারা জাতিসংঘের প্রধান ফটকে গিয়ে বারবার অনুরোধ করে, একটা তৃতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিএনপি জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে যে মিথ্যাচার করেছে, প্রতারণা করেছে, তাতে দেশের জনগণকে অপমানিত করা হয়েছে। গণতন্ত্রকে অসম্মান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়, তারা ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়কের নামে যে পার্টিজান নির্বাচনকালীন সরকার করেছিল, সেই চিন্তা-ভাবনা আবার তারা করছে। আবার তারা নিজেদের ছক ও কূটকৌশল প্রয়োগ করে ২০০১ সালের মতো একটা নির্বাচন করতে চাচ্ছে। একটা নির্বাচন তারা চায়। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ২০০১ আর ২০১৮ সাল- সময় বদলে গেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন প্রমুখ।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ