আজকের শিরোনাম :

নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে নির্বাচন দিতে হবে: ফখরুল

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:৫৬

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এবার আমরা নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো চিন্তা করছি না। আগে এই সরকারকে যেতে হবে। তারা পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার পর নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে নির্বাচন দিতে হবে।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ২০১৮ সালে আপনারা দেখেছেন যে নির্বাচনের ৭/৮দিন আগে থেকে তারা এমনভাবে মিথ্যা, সাজানো, গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু করলো যে, প্রার্থীসহ কর্মীদের গ্রেফতার করা হলো। সব নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে মাঠ খালি করে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা হলো। আর এবার তারা আগে থেকেই বিরোধী নেতা-কর্মীদের নামে করা মামলাগুলো অতিদ্রুত শেষ করতে চায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে তালিকা করেছে এসব মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করতে হবে এবং নেতারা যেন নির্বাচন করতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সহিংস ঘটনা ঘটেছে, অনেকগুলো পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশের গুলিতে কয়েকজন মারা গেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে সরকার বিরোধীদলকে ঘায়েল করে বেআইনি ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চায়। বিএনপিকে নির্মূল করতে চায়।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন কোনো ঘটনা ঘটলেই সত্য-মিথ্যা সাজিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে দেওয়া হয়। এবারও দেখলাম গ্রেফতার বাণিজ্য করার জন্য প্রকৃত অপরাধীরা যেন ধরা না পরে সেজন্য অসংখ্য নেতাকর্মীর নামে মামলা দেয়া হলো।

প্রত্যেকটি ঘটনায় সরকারি দলের ইন্ধন রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, রংপুরে দেখা গেলো রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতারা এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। পরে বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে। চার মামলায় ৪১জনকে আসামি করা হয়েছে। কুমিল্লায় পাগল ইকবাল বলে একজনকে সাজিয়েছে। বলা হচ্ছে সে নাকি কোরআন শরিফ নিয়ে মণ্ডপে রেখেছে। যেগুলো কোনোমতে বিশ্বাসযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, আমি প্রথম দিন থেকে বলেছি সরকারের এজেন্সিগুলো দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করেছে। মূল উদ্দেশ্যে হলো জনগণের ভাতের সংকট, ভোটের সংকট, বাকস্বাধীনতার সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্কট, এসব থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনায় মোট ৬০টি মামলায় ১৫ হাজার ৯৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় ইতোমধ্যে বিএনপির ১৪৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপনারা ল করে জেনে গেছেন যে, এসব ঘটনার পেছনে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ আছে। তারা নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জাতির মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। আমাদের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে সেটা বিনষ্ট করছে সরকার।

তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই বরকত উল্লাহ বুলুসহ বিএনপির যেসব নেতাকর্মীর নামে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে, এসব ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা নেই। এই মামলাগুলো দিয়েছে শুধু তাদেরকে হয়রানি করা ও রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর জন্য। আগামী নির্বাচনের আগেই যেন মামলা-সাজা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঠ থেকে একদম সরিয়ে দেওয়া যায়, সেজন্যই এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, প্রমুখ।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm