গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে : নজরুল 

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০১৯, ১৮:০২ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৯, ১৮:০৪

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এই দেশের জনগণ গনতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছেন, জীবন দিয়েছেন, কিন্তু আজ স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র নেই। তিনি বলেন, আজ গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বারবার নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ী হওয়া সেনাপতি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু'র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিনা রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,কৃষক দলের সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক তক‌দির হো‌সেন মো. জ‌সিম, জামাল উদ্দিন খান মিলন, সদস্য এস‌কে সা‌দি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার উন্নয়ন উন্নয়ন বলে গলা ফাটাচ্ছে। দেশে উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু তা অসম উন্নয়ন। যারা ধনী তারা আরো ধনী হচ্ছেন। তিনি বলেন, এদেশে বর্তমানে ধনীরা যে হারে আরো ধনী হচ্ছেন সে হারে চীন ও আমেরিকার ধনীরাও ধনী হচ্ছে না। এরকম অসম উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে একসময় দেশে বিলাসবহুল পণ্যের ছাড়াছাড়ির সঙ্গে গরিবের লাশের ছড়াছড়ি দেখা যাবে।

তিনি বলেন, খুবই অন্যায়ভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে সরকার খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার মামলার শুনানির সময় আমরা সারা দিন আদালতে যেয়ে বসে থাকতাম। সেখানে সরকার দলীয় কোনো আইনজীবী বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। তারা ধারণা করছেন, বেগম জিয়া এসব অভিযোগের সাথে জড়িত। আদালত কি ধারণা দিয়ে পরিচালনা হয়? আদালত প্রমাণ চায়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দরকারি কাজের কথা ও প্রয়োজনীয় কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু সেই প্রয়োজনীয় কাজ সবাই করেন না। তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী প্রয়োজনীয় কথা বলতেন এবং সেই প্রয়োজনীয় কাজটি করতেন। তিনি বলেন, এই দেশে যতগুলো আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত মওলানা ভাসানী সেসব আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যানে কাজ করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশ ভারতের বন্ধুপ্রতীম দেশ কিন্তু আমাদের সাথে তাদের যেসকল চুক্তি হয়েছে আমরা সেই চুক্তি অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাচ্ছি না। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে এত যুদ্ধ এত বৈরিতা কিন্তু তাদের মধ্যেও তো পানি চুক্তি আছে এবং তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ফারাক্কা চুক্তির কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহবায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেন,সরকারের দায়িত্বহীনতায় কৃষক ধা‌নের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দিয়েছে ।

দুদু বলেন, ‘দেশের কৃষকরা বর্তমানে খুব খারাপ অবস্থায় আছে। শুধু কৃষকরা নয়, শ্রমিকদের অবস্থাও খুব খারাপ। দেশের আপামর জনগণ খুব খারাপ অবস্থায় আছে।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশে কৃষকরা ধানের দাম পায়নি বলে ক্ষেতে আগুন দিয়েছে। এরকম কখনো হয়নি, এই সরকারের আমলে সেটা আমরা দেখতে পেলাম। দেশে এই অবস্থা কেন? একটা প্রতারক সরকার দেশে আছে বলে দেশের এই অবস্থা। এ সরকা‌রের কোন দায়িত্ব নেই, জবাবদিহিতা নেই, মানুষের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ সংযোগ নেই।একেবারে ডাকাতি করে জোর করে এই সরকার ক্ষমতায় আছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ স্বৈরতন্ত্রের লক্ষ্য এরা মিথ্যাটাকে সত্য করে, সত্যটাকে মিথ্যা করে। নিজের ওপর আস্থা কমিয়ে দেয়, সাহস গুড়িয়ে দেয়। সব বিষয়ে অবিশ্বাসটা‌কে ঘিরে রাখে। এখন একটি যুবকও বিশ্বাস করে না এর পরিবর্তন হবে এটাই ফ্যাসিবাদের লক্ষণ। এই ফ্যাসিবাদকে ঘুরিয়ে দিতে হলে আমাদেরকে রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে, সংগঠনে ফিরে আসতে হবে। এই জায়গায় ফিরে আসতে হলে মওলানা ভাসানী, শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়াকে অনুকরণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মওলানা ভাসানী, শহীদ জিয়া, বেগম জিয়ার আদর্শ থেকে দূরে থাকবো আর ভালো কিছু আশা করব এটা হবে না। এই দেশে যা কিছু এসেছে আন্দোলন-সংগ্রাম, রক্তের মধ্য দিয়ে এসেছে, এখানে আপস করার কোন সুযোগ নেই।’

সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কৃষকের ন্যায্যমূল্য দাবি আদায় করতে হবে, বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে হবে। তাকে জেল থেকে মুক্ত করা মানেই একটি জীবনকে ফিরিয়ে আনা। তারেক রহমানকে প্রবাসী জীবন থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা মানেই একটি তরুণকে ফিরিয়ে আনা। একজন রাষ্ট্রনায়ককে ফিরিয়ে আনা।’

আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন,দেশের গণতন্ত্র মাইনকার চিপায় রয়েছে। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে ঢাকার ভাষায় বলতে হয়, গণতন্ত্র এখন মাইনকার চিপায় পড়ছে। আমরা এই মাইনকা চিপা থেকে বের হতে পারছি না।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ। ব্যাংকিংব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমি আশঙ্কা করছি, এবার ঈদে ব্যাংকে গিয়ে গ্রাহক বড় ধরনের কোনো চেক জমা দিলে টাকা পাবেন না। তাদের দু-তিন দিন অপেক্ষা করতে বলা হবে। আর সেই দু-তিন দিনে হয়তো ঈদও পার হয়ে যাবে। শুনতে খারাপ লাগলেও আমাদের ব্যাংকিংব্যবস্থা এখন এই স্থানে গিয়ে পৌঁছেছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আপনি আওয়ামী লীগের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। আপনি বলছেন, টাকা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেনা যায়। আইন-আদালত সব কেনা যায়। তা হলে আমার প্রশ্ন- আপনারা সরকারে আছেন কেন? ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।

মন্ত্রী ও সাবেক মন্ত্রীদের সমালোচনা করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এই সরকারের মন্ত্রীরা সবসময় উল্টোপাল্টা বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিনোদন দেন। রানা প্লাজা ধসেপড়ার পর এই সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (মহীউদ্দীন খান আলমগীর) বলেছিলেন- বিএনপির নেতাকর্মীরা রানা প্লাজার পিলার ধরে ধাক্কা দেয়ায় রানা প্লাজা ধসে পড়েছে। এখন নাসিম সাহেব বলছেন- টাকায় সব কেনা যায়।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ