জনগণ ভোট দেয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে: মেনন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০১৯, ২২:১৭

নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এটা শুধু নির্বাচনের জন্যই বিপজ্জনক নয়, দেশের জন্যও বিপজ্জনক। বললেন ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

আজ বুধবার সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, নির্বাচন এবং পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা নেই। যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অংশ নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তাহলে রাজনৈতিক দল শুধু নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলবে। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য এবং আওয়ামী লীগের জন্যও।

মেনন বলেন, অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা দিয়ে জমি ক্রয়, ফ্লাট ক্রয়ের সুযোগ দেওয়া হলেও বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য কোন প্রক্রিয়া প্রস্তাবিত বজেটে নেই। এগুলো যাদের জন্য, তারা হচ্ছে এদেশের ধনীরা। এর ফলে বিকাশমান মধ্যবিত্ত চাপের মধ্যে থাকবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ফলে মধ্যবিত্তদের অ-প্রত্যক্ষ কর আরো বেশি ভাবে বহন করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সাধারণ পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু চিনি, এলপিজি, প্লাস্টিক সামগ্রী, অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি-পাতিলের দাম বাড়ছে। এসবই তো মধ্যবিত্তের গৃহস্থলীর জিনিস।

দেশের যে উন্নয়ন হচ্ছে তার ফল গুটি কয়েক মানুষ ভোগ করছেন দাবি করে মেনন বলেন, উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়ন যারা দেখতে পারছেন না তারা জেগে ঘুমিয়ে আছেন। তবে এ উন্নয়নের ফল শুধু কিছু লোক পাচ্ছে, জনগণ পাচ্ছে না। চার কোটি লোক দরিদ্র, দু’কোটি লোক পুষ্টি পায় না। বঙ্গবন্ধু কন্যার এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে যদি আমরা শুধু পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে দেখি।

রাশেদ খান মেনন বলেন, যেখানে ১৯৯১-৯২ সালে গরিব ৫ শতাংশের হাতে সম্পদের এক শতাংশ ছিলো। সেটা ২০১৫-১৬ সালের এসে ঠেকেছে ০.২৩ শতাংশে। এ সময়ে বেড়েছে শীর্ষ ৫ শতাংশের সম্পদ বেড়েছে ১২১ গুণ। সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে কিছু হাতে, একটি দল সৃষ্টি হয়েছে যারা সুপার ধনী। যারা চীনের ধনীদের তুলনায় বেশি সম্পদের মালিক। এদের মধ্যে ১০ শতাংশ ধনী মোট সম্পদের ৯০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করছেন।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ