ছেলে শোভনকে নিয়ে যা বললেন বাবা নুরুন্নবী চৌধুরী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০১

বেশ কয়েকটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগ পত্র তুলে দেন তারা।

শোভন ও রাব্বানীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য। তারা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে নাহিয়ান খান জয় সংগঠনের এক নম্বর সহসভাপতি এবং লেখক ভট্টাচার্য এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদচ্যুত সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের বাবা নুরুন্নবী চৌধুরী বলেছেন, শোভন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এমন কথা জানিয়েছেন তিনি।

শোভনের বাবা নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, আমি আমার ছেলেকে (রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন) চিনি। সে কোনো ভঅবেই এ ধরনের কাজ করতে পারে না। আমার ছেলে আগে থেকেই সহজ-সরল। আমার ছেলে শোভন এ রকম খারাপ ছিল না। ও সাদাসিধে এবং অত্যন্ত সরল প্রকৃতির ছিল। এ কারণেই তাকে একটি চক্রের বলির পাঠা হতে হলো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে। তার প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। তিনি নিজেই শোভনকে পছন্দ করে ছাত্রলীগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। নেত্রী এখন মনে করছেন যে এদের দিয়ে আর ভালো চলবে না, তাই তাদের পদত্যাগ করতে বলেছেন। তার সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্প থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে অর্থ দাবি প্রসঙ্গে শোভনের বাবা বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছি, জাবির ব্যাপারে আসলে শোভন কিছুই জানে না। ঘটনাস্থলে ওইদিন শোভন ছিল না। সেখানে তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেন সেখানকার পরিস্থিতি ঠিক হয়। রাব্বানীরা তাকে পরে ডেকে নিয়ে যায়। শোভন উদ্ভূত পরিস্থিতি মীমাংসার জন্য সরল বিশ্বাসে সেখানে গিয়েছিল। অথচ অর্থ কেলেঙ্কারিতে তাকে ফাঁসানো হলো। আমার ছেলেকে নিয়ে যে আর্থিক বিষয়গুলো বলা হচ্ছে, সেটা তার দ্বারা সম্ভব নয়। সে পরিস্থিতির শিকার, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি।

তিনি আরও বলেন, জাবি ভিসির সঙ্গে কথা বলার সময় গোলাম রাব্বানী যেহেতু একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে শোভন উপস্থিত থাকায় হয়তো তার নামও এসেছে। কিন্তু রাব্বানী নিজেই বলেছে, শোভন কিছু জানে না। এমনটাই বলেন শোভনের বাবা।

আওয়ামী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে এ বিষয়টির কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি আমাদের সামান্যতম শ্রদ্ধা কমবে না বলেও নূরুন্নবী চৌধুরী।

এর আগে, ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ছাত্রলীগের কমিটি করা হয়।

উল্লেখ্য, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের বাবা নূরুন্নবী চৌধুরী কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ