মা বিদিশাকে কাছে পেয়ে এরিকের কান্না

‘মাকে কতদিন কেঁদে কেঁদে খুঁজেছি’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০২:০৯

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর ছেলে এরিক এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মা বিদিশা এরশাদ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সময় কাটানোর সুযোগ পান তিনি।

অনেকদিন পর মাকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এরিক। তৈরি হয় আবেকঘন দৃশ্য। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এরিক বলে ওঠেন, মা তুমি এসেছ, তুমি ছাড়া আমার কেউ নাই। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না। ওরা আমাকে ঠিকমত খেতে দেয় না, গোসল করায় না। তুমি আমাকে একা ফেলে আর যেও না মা।

ছেলে মুখ থেকে এমন কথা শুনে তাকে আলিঙ্গনে বুকে জড়িয়ে নেন বিদিশা। মা ছেলে দুজনই আনন্দে-কান্নায় বুক ভাসান। ছেলে এরিককে কাছে পেয়ে নিজ হাতে গোসল করান, নিজের রান্না করা পোলাও রোস্ট খাইয়ে দেন। মা ছেলে গল্পে মেতে উঠেন। শেয়ার করেন এতদিনের দুঃখ হাসি কান্না।

এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি সূত্র জানায়, এরশাদের মৃত্যুর পর থেকে প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় একা হয়ে পড়েছিলেন এরিক। চাচা জিএম কাদের এর তত্ত্বাবধানে বাসার লোকজন তার দেখাশেুনা করতেন। কিন্তু ঠিকমত তার দেখভাল করতেন না তারা। চাচা জিএম কাদেরকে বলা হলেও তিনিও ভাতিজার প্রতি অত কেয়ার করেননি। বৃহস্পতিবার এরশাদের গাড়ির ড্রাইভার এরিকের গায়ে হাত তুলেন। তাকে গালিগালাজ করে ধাক্কা মারেন। এসময় এরিক কাঁদতে কাঁদতে তার মা বিদিশাকে ফোন দেন। এখনই তার কাছে আসতে বলেন এরিক। ফোন পেয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে পাগলের মত ছুটে আসেন বিদিশা। অনেকদিন পর মা ছেলের মিলন হয়। দুজনে অঝোরে কাঁদেন। এসময় এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়।

রাতে বিদিশা এরশাদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এরিক। তিনি বলেন, মাকে এতদিন পর কাছে পেয়ে ভালো লাগছে, কেমন ভালো লাগছে তা বুঝাতে পারবো না। মা বাবা ছাড়া অনেক কষ্ট। বাবা নেই, আমার তো এখন মা ছাড়া আপন আর কেউ নাই।

এরিক বলেন, মাকে কতোদিন কেঁদে কেঁদে খুঁজেছি। কতবার চাচাকে (জিএম কাদের) বলেছি, আমার মাকে এনে দাও। আমি মার কাছে চলে যাবো। কিন্তু চাচা এনে দেইনি। আমি এখন থেকে মার কাছে থাকতে চাই। মা সঙ্গে থাকলে আমার আর কোন দুঃখ কষ্ট থাকবে না। কেউ আমাকে মারতে পারবে না।

বিদিশা এরশাদ বলেন, ছেলে এখন আমার বুকে, এর চাইতে একজন মায়ের সুখ শান্তি আর কি হতে পারে। সুখের এই অনুভুতি পুথিবীতে কোন কিছুর বিনিময়ে বুঝানো যাবে না। দুনিয়াতে সন্তানের চাইতে আপন কিছু আর নেই।

তিনি বলেন, আমার ছেলেকে এতদিন তার চাচা দেখতে দেননি। এর চেয়ে অমানবিক কাজ আর কি হতে পারে। পিতৃহারা ছেলেকে বাঁচাতে হলে মার বিকল্প নাই। বাবা মারা যাওয়ার পর যেভাবে ও অবহেলায়, না খেয়ে পড়ে ছিল, আর কিছুদিন হলে ও শেষ হয়ে যেতো। ঠিকমত খাওয়ানো হয় না, ৩/৪দিনেও গোসল নেই, গায়ে গন্ধ, যে অবস্থা ওর না দেখলে বিশ্বাস হবে না। আমি আমার ছেলেকে এভাবে অনাদরে অবহেলায় মরতে দিতে পরি না। এরিক আমার কাছে থাকবে।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ