সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ঐক্যফ্রন্টের হুঁশিয়ারি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৪৩

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে নয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ইভিএমে ভোট কারচুপির নানা দিক তুলে ধরে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) জোটের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

জেএসডি সভাপতি বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, ইভিএম সারা পৃথিবী বর্জন করেছে। ইভিএমকে বুড়িগঙ্গায় নয়, বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হোক। এই মেশিন বাংলাদেশের মানুষ চায় না। এই ইভিএম ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ভোটাররা যদি বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ছুড়ে ফেলে দেয়, আমাদের বলার কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, নতুন ডাকাতির পদ্ধতি হচ্ছে ইভিএম। এই ডাকাতির বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করছি- এই মেশিন চালু করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন বলেছিল, যদি ভোটার এবং যারা অংশীদার, তারা যদি না চায়, ইভিএম চালু করবেন না। এখন দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনই ভোট ডাকাতির জন্য পেপার ট্রেইল ছাড়া ইভিএম চালু করছে।

তাহলে আপনারা ভোট বর্জন করবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে রব বলেন, আন্দোলনে বর্জন হতে পারে, বর্জনের পরে তো আর কিছু নেই। আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব। যদি শেষ পর্যন্ত আর কোনো পথ না থাকে, তখন সর্বশেষ পথটা অবলম্বন করব কি না, সেটা এ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিইনি আমরা।

তিনি আরও বলেন, বুয়েটের যে মেশিন (ইভিএম) ছিল, যিনি এই মেশিনের প্রকৌশলী, তিনি পরিষ্কার বলেছেন, পেপার ট্রেইল না থাকলে ভোটারের পক্ষে জানা সম্ভব নয় যে তার ভোট কোথাও কারচুপি হচ্ছে কি না। এই ইভিএমে পেপার ট্রেইল যেহেতু নেই, সেহেতু এই পদ্ধতি বাতিল করা উচিত। রব বলেন, আগে ৩০ তারিখের জায়গায় ২৯ তারিখে রাতের বেলা ভোট নিয়েছেন। এবার নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। বিএনপিসহ আমরা সব রাজনৈতিক দল বলেছি, ইভিএমে পেপার ট্রেইল না থাকলে ভোটার তার ভোটটা কাকে দিচ্ছেন, সঠিক জায়গায় তার ভোটটা পড়ছে কি না, সেটা দেখতে পারবে না। তাহলে এই মেশিন চালু করতে দেওয়া যায় না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে ঢাকা সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার এবং নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে সংবাদ সম্মেলন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডাভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, শহীদুল্লাহ কায়সার, মমিনুল ইসলাম, বিকল্প ধারার অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জেএসডির সানোয়ার হোসেন তালুকদার, শহীদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ