বেহিসেবি বোলিং-ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের হার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৪০

কথায় আছে, ‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস’।  এভাবে কেউ ক্যাচ ফসকে দেয়? পুরো শারজাহ স্টেডিয়াম স্তব্দ। এক বার নয়, দুবার একই ভুল। ক্যাচ ফসকালো তো ফস্কে গেলো ম্যাচটাও। সঙ্গে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ভুর ক্যাপ্টেন্সি তো ছিলই। সব মিলিয়ে হার দিয়েই বিশ্বকাপের সুপার এলিভেন অভিযান শুরু হলো বাংলাদেশের।

১৭১ রানের বড় সংগ্রহ গড়েও ঠিক ম্যাচটা জমিয়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সংগ্রহটা ১৮.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়েই টপকে গেলো শ্রীলঙ্কা। ৫ উইকেটের জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হলো দাসুন সানাকাদের! অথচ রোববার দিনের আলোতে দু, একটা ভুল না হলে শারজার প্রবাসি বাংলাদেশিদের মুখে হাসি ফুটিয়েই ফিরতে পারতেন রিয়াদরা। ক্যাচ মিস, বাজে ক্যাপ্টেন্সি আর বেহিসেবি বোলিংয়ে হারল বাংলাদেশ।

শারজাহর ফ্ল্যাট উইকেটের কথা হয়তো অনেকেই বলবেন। কিন্তু লিটন যেভাবে দুটো ক্যাচ ফেললেন, তারপর আর ম্যাচ জেতা যায় না। প্রথমে আফিফ হোসেনের ভানুকা রাজাপাকসার তুলে দেওয়া ক্যাচ ছাড়লেন লিটন।  তার দুই হাতের ফাঁক বল আবার বাউন্ডিারিতে চলে গেলো। ১৪ রানে জীবন পান রাজাপাকসে। 

এরপর ফের সেই লিটনের ভুল। ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা চারিথ আসালাঙ্কাকে ফেরানোর সুযোগ যখন সামনে আবারও ক্যাচ ছাড়েন লিটন দাস। মুস্তাফিজুর রহমানের অফ স্টাম্পের বাইরের বল হাঁকান আসালাঙ্কা। দৌড়ে আসা লিটন হাতেই গিয়ে পড়ল বল। কিন্তু হাতে মাখন থাকলে কী আর কিছু ধরা যায়? ক্যাচ সহজ ক্যাচ দিয়েও বাঁচলেন আসালাঙ্কা। তখন তার রান ৬৩ রানে।  লিটনের হাতে জীবন পাওয়া লঙ্কান ব্যাটার আসালাঙ্কার ব্যাটে ভর করেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা। অথচ গল্পটা অন্যরকমও হতে পারত।

ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহের পর বল হাতেও এদিন স্বপ্নের মতো শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই কুশাল পেরেরাকে ফেরান নাসুম আহমেদ। যেন আস্থার প্রতিদান দিলেন তিনি। গ্রুপপর্বে একাদশে ঠাঁই পাননি। তবে কন্ডিশন বিবেচনায় মূলপর্বের প্রথম ম্যাচেই তাকে সুযোগ দেওয়া হয় দলে। এসেই বাজিমাত সুনামগঞ্জের হাওড়ের এই ছেলের। ফেরান লঙ্কান উদ্বোধনী ব্যাটার কুশাল পেরেরাকে। আউট হওয়ার আগে ৩ বলে ১ রান করেছেন কুশাল।

কুশাল পেরেরা ফেরার পর তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসেন বাঁ-হাতি চরিত আসালাঙ্কা। প্রথম ওভারেই ব্রেকথ্রু এনে দেওয়ার পর ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আবারও বল হাতে আসেন নাসুম। তবে এবার দুঃস্বপ্নের মতোই কাটল তার। দুই ছয়ে দিয়েছেন ১৬ রান। আর এই ওভারের পরই হাত খুলে খেলা শুরু করে লঙ্কান ব্যাটাররা।

শেষ পর্যন্ত পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৪ রান সংগ্রহ করে দাসুন শানাকার দল। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের তুলনায় বেশ খানিকটা এগিয়ে থাকল লঙ্কানরা। প্রথম ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলেছিল ৪১ রান।

নিসাঙ্কা-আসালাঙ্কার জুটি চোখ রাঙাচ্ছিল বাংলাদেশকে। এমন সময়ই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব বল হাতে এগিয়ে এলেন। ভাঙেন মূল্যবান জুটি। স্বস্তিতে ফেরালেন দলকে। আর এই উইকেটের মধ্য দিয়ে এখন টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরে শহীদ আফ্রিদিকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তিনি। বিশ্বকাপে আফ্রিদির ৩৯ উইকেট ছাড়িয়ে গিয়ে বাংলাদেশ অলরাউন্ডারের উইকেটসংখ্যা এখন ৪১। এদিন নিজের দ্বিতীয় ওভারে প্রথমে নিসাঙ্কাকে বোল্ড করার পর ফেরান আভিস্কা ফার্নান্দোকেও।

সাকিবের জোড়া আঘাতের পর উইকেটের দেখা পেলেন সাইফউদ্দিনও। অফস্টাম্পে স্লোয়ার বল, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা সেটা তুলে দেন আকাশে। বাউন্ডারি থেকে ছুটে এসে ক্যাচটা নিতে খুব একটা ঝামেলায় পড়তে হয়নি নাঈমকে। সাকিব মোমেন্টাম এনে দিয়েছিলেন, সাইফউদ্দিনে আরেকটু এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ৭৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

সাকিব-সাইফউদ্দিনের পর আরেকবার উদযাপনের সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের। বোলিংয়ে ছিলেন আফিফ হোসেন। রাজাপাকসের উইকেটটা পেয়ে যেতে পারতেন আফিফ, তবে ডিপ স্কয়ার লেগে মোটামুটি সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়েছেন লিটন। শুধু সেটাই না, ক্যাচ ছাড়ার বলে হয়েছে চারও। 

আফিফের এ ওভারেই ফিফটি পূর্ণ হয়ে গেছে আসালাঙ্কারও। কুশাল পেরেরাকে দ্রুত হারিয়ে ফেললেও শ্রীলঙ্কাকে বেশ শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে ১৮ বল খেলে করেছেন ৩২ রান, এ টুর্নামেন্টে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দ্রুত কয়েকটা উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া আসালাঙ্কা এরপর ১৮ রান করতে খরচ করেছেন ১৪ বল।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও রানের চাকা সচল ছিল লঙ্কানদের। এমন মুহূর্তে রাজাপাকসের ক্যাচ মিস করে যেন ম্যাচে নিজেদের সম্ভাবনাই আরও কমিয়ে দিলেন লিটন। ধারাভাষ্যকারদের মুখেও শোনা গেল তেমনি অভিব্যক্তি।

আফিফের পর মুস্তাফিজের করা ১৫ তম ওভারে আবারো ক্যাচ মিস করলেন লিটন। তবে আগেরবার রাজাপাকসেকে জীবন দেওয়ার পর এবার দিলেন আসালাঙ্কাকে। এক ইনিংসে দুই দুইটি ক্যাচ ছাড়ার নজির গড়লেন তিনি। 

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm