ভারতের ছিল তারকা, নিউজিল্যান্ডের ছিল টিম

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৮

নিউজিল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ, যা ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ব্যাঙ্গালোরের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও কম।

নিউজিল্যান্ডের সব ভেড়াকেও (প্রতি একজনের সাথে সাতটি) যদি মোট জনসংখ্যার সাথে যোগ করা হয় তারপরেও সেটা হবে ভারতের বহু রাজ্যের লোকসংখ্যার চেয়ে কম।

তাদের প্রধান খেলা ক্রিকেট নয়, বরং রাগবি। রাগবির পেছনেই মানুষের সব আকর্ষণ। এর পেছনেই ব্যয় করা হয় অর্থ, মনোযোগ ও প্রতিভা।

এর বিপরীতে ভারতের মোট জনসংখ্যা ১৩০ কোটি। ক্রিকেট বিশ্বকেও একরকম শাসন করে তারা।

বেছে বেছে জাতীয় দল গঠন করার জন্যে তাদের আছে প্রচুর ক্রিকেটার। আছে প্রচুর অর্থ, ক্ষমতা। একদিনের আন্তর্জাতিক খেলাতেও সেরা দল ভারত।

বিবিসির ক্রীড়া বিষয়ক লেখক সুরেশ মেনন বলছেন, ভারতীয় দলের ব্যাক-রুমে যারা আছেন তারা যত বেতন পান সেটা অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের চাইতেও অনেক বেশি। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট কর্মকর্তাদের নেই ততো উপার্জনও।

কিন্তু এই ভারতকেই সেমিফাইনালে হারিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচে ভারতের ছিল তারকা ক্রিকেটার কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ছিল টিম।

ভারতের ছিল বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা বোলার। ছিল এমন একজন ক্রিকেটার রোহিত শর্মা যিনি এই টুর্নামেন্টেই পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের ছিল কেইন উইলিয়ামসন, যিনি অধিনায়ক এবং একই সাথে প্রধান ব্যাটসম্যান। নিউজিল্যান্ডের সবাই মিলে যতো রান করেছেন, তিনি একাই তার এক তৃতীয়াংশ সংগ্রহ করেছেন।

দর্শকের বিচারেও ভারত এগিয়ে। প্রথমত প্রচুর ভারতীয় ইংল্যান্ডে বসবাস করেন যারা সেদিন মাঠে গিয়েছিলেন নীল জার্সি গায়ে দিয়ে। এছাড়াও আরো বহু ভারতীয় ভক্ত ভারত থেকে গেছেন খেলা দেখতে।

অন্যদিকে গ্যালারিতে নিউজিল্যান্ডের যেসব সমর্থক ছিল তাদের সংখ্যা এতোই কম যে নিউজিল্যান্ডের ধারাভাষ্যকাররা হয়তো তাদের নাম ধরেই চিনতে পারেন।

দুটো দলের মধ্যে এতো পার্থক্য। এই নিউজিল্যান্ডই যেন হয়ে উঠলো আন্ডারডগ যারা ভারত বধ করে তাদেরকে টুর্নামেন্টের বাইরে ছুড়ে ফেলে দিল। আর এটাই হচ্ছে খেলা, এটাই ক্রিকেট।

এনিয়ে বহু আলোচনা সমালোচনা, তর্ক বিতর্ক চলছে ভারতে। সুরেশ মেনন বলছেন, কেউ কেউ বলছেন, ভারত খারাপ খেলেনি, তবে তারা বুদ্ধি দিয়ে খেলেনি। দুটো দুর্দান্ত বলে দুজন সেরা ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও ভিরাট কোহলি আউট হয়ে যান এবং তারপর প্রথম কয়েক ওভারের মধ্যেই আসলে খেলাটি শেষ হয়ে যায়।

কিন্তু তারপরেও হাল ছেড়ে দেয়নি ভারত। জেতার জন্যে ৪৮তম ওভার পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে, রাভীন্দ্র জাদেজার আউট হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। মাহেন্দ্র ধোনিও সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছেন।

ধোনি ও জাদেজা জুটি করেছেন ১১৬ রান। ধোনি ৪৫ বলে ৩২ এবং জাদেজা ৫৯ বলে ৭৭। এর মধ্যে আছে ২০টি ডট বল (যাতে কোন রান হয়নি)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাও কিছু করতে পারেনি।

বিবিসির ক্রীড়া বিষয়ক লেখক সুরেশ মেননের মতে উইলিয়ামসন ঠিক মতো উইকেট পড়তে পেরেছিলেন। তারা অ্যাডভেঞ্চার করতে চাননি। ভারতকে তারা যে টার্গেট দিয়েছিলেন সেটি ভিরাট কোহলিদের আওতাতেই ছিল।

কিন্তু সেই স্বপ্ন গুড়িয়ে দিয়েছেন ম্যাট হেনরি ও ট্রেন্ট বোল্ট।

শুরুতে তিনজন সেরা ব্যাটসম্যান আর শেষে তিনজন সেরা বোলারদের নিয়ে খেলেছে ভারত। মিডল অর্ডারে তাদের যে সমস্যা ছিল সেদিকে তারা মনোযোগ দেয়নি। ফলে ওই কজন খেলোয়াড়ের উপরেই অনেক চাপ পড়ে গিয়েছিল।

সুরেশ মেনন বলছেন, চার নম্বরে যাকে নামাতে হবে ভারত এখনও সেই ক্রিকেটারকে খুঁজে পায় নি। এর আগের বিশ্বকাপের পর থেকে তারা ৪ থেকে ৭ নম্বরে মোট ২৪ জনকে দিয়ে চেষ্টা করেছে। কিন্তু মনে হচ্ছে এখনও সেরকম কাউকে খুঁজে পায়নি তারা। তবে প্রতিভা যে নেই তা নয়, সেই প্রতিভা তারা বিচার করতে পারেনি।

ভারত কি নিউজিল্যান্ডকে হালকাভাবে নিয়েছিল? ভক্ত, মিডিয়া ও ধারাভাষ্যকারদের দেখে কিন্তু মনে হয় যে হ্যাঁ, তারা হালকাভাবেই নিয়েছিল প্রতিপক্ষকে।

শেষ পর্যন্ত ভারত তার মূল্য দিয়েছে। কারণ নিউজিল্যান্ড যখন তাদের ধারালো বোলিং দিয়ে আক্রমণ করতে শুরু করে তখন ভারতের কাছে সেগুলোর কোন উত্তর ছিল না। বিবিসি

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ