জিদানের জন্য রোনালদোর অবিনশ্বর ভালবাসা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:৪৩

সাম্প্রতিক কালের রিয়াল মাদ্রিদের সমস্ত অর্জন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে। সাথে যোগ হয়েছিলো জিনেদিন জিদানের টাক মাথার অসাধারণ ক্রীড়া দক্ষতার প্রভাব যার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগে। টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে রিয়ালকে একরকম এতিম করে দল ছেড়ে গিয়েছিলেন রোনালদো। প্রিয় শিষ্য চলে যাওয়ার পরে গুরু জিদানও থাকেননি রিয়ালে।

বলতে গেলে দুজনে একই সঙ্গে ক্লাব ছেড়েছেন। ২০১৮ সালের ২৬ মে রিয়াল মাদ্রিদকে ইতিহাস গড়া টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর পাঁচ দিন পর দায়িত্ব ছেড়েছেন জিনেদিন জিদান, আর বিশ্বকাপ খেলে এসে মাস দুয়েক পর রিয়ালকে বিদায় জানিয়ে জুভেন্টাসে চলে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। একসঙ্গে তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রিয়ালের তো বটেই, ক্লাব ফুটবলেরই ইতিহাসে অন্যতম সাফল্যমণ্ডিত অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছেন, সেটির শেষও জিদান-রোনালদো টেনেছেন একসঙ্গে।

দুজনের ক্লাব ছাড়ার কারণে ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে একে অন্যের প্রতি যে ভালোবাসা, সেটি তো রিয়ালে থাকার দিনগুলোতেই ছিল স্পষ্ট। এমনও শোনা যায়, রোনালদোর রিয়াল ছাড়ার একটা বড় কারণ জিদানের চলে যাওয়া। সাবেক কোচকে কতটা পছন্দ করেন, সেটি নতুন করে আবার জানালেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।

পছন্দ তো করারই কথা, জিদান আসার পরই যে আরও আলো ছড়িয়েছেন রোনালদো। ত্রিশের ডানে চলে আসা পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডকে কীভাবে খেলালে তাঁর সেরাটা সবচেয়ে বেশি বের করে আনা যাবে, সেই গোপন রেসিপিটা যেন খুব ভালোই জানতেন জিজু। সেটি শুধু খেলার কৌশলে নয়, উৎসাহ-অনুপ্রেরণা দেওয়াতেও। ডিএজেডএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদোও তা-ই বলছিলেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের যে আত্মবিশ্বাস দরকার, সেটি শুধু তাঁর ওপরই নির্ভর করে না, ওই আত্মবিশ্বাস আসে তাঁর আশপাশের খেলোয়াড় আর কোচের কাছ থেকেও। আপনি যে গ্রুপের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেই অনুভূতিটা আসতে হয়, জিদান আমাকে সে রকম স্পেশাল মনে করিয়েছেন।’

কীভাবে, কী বলে জিদান তাঁর সেরাটা বের করে আনতেন, সেটিও জানা গেল রোনালদোর কাছে, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন তিনি। তাঁকে এমনিতেই আমি অনেক সম্মান করতাম, তাঁর সঙ্গে কাজ করার পর সেই সম্মান আরও অনেক বেড়েছে। তিনি আমাকে বলতেন, ‘‘ক্রিস, কোনো দুশ্চিন্তা কোরো না। শুধু নিজের খেলাটা খেলো। আমার দলে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় তো তুমিই।’’ আমার সঙ্গে সব সময়ই সৎ ছিলেন তিনি, সে কারণেই তাঁর প্রতি ভালোবাসাটা আমার সব সময়ই থাকবে।’

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ