বার্সাকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে সেমিতে বায়ার্ন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২০, ০৯:৪৩

বার্সেলোনাকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতে উঠল বায়ার্ন মিউনিখ। ডোবালে নিদারুণ লজ্জায়। একটি দুটি নয়, গুনে গুনে কাতালানদের জালে ৮টি গোল লি জার্মানির ক্লাবটি। মেসি-সুয়ারেজদের ৮-২ গোলের বন্যায় ভাসিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে বায়ার্ন মিউনিখ।

প্রথমার্ধে ৪-১ গোলে এগিয়ে ছিল বায়ার্ন। দ্বিতীয়ার্ধে হয়েছে আরও ৪-১ গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে নকআউট পর্বের ম্যাচে একমাত্র দল হিসেবে বার্সেলোনা ৮ গোল হজম করল। আর একমাত্র দল হিসেবে প্রতিপক্ষের জালে ৮ গোল দিল বায়ার্ন।

গোল বন্যার ম্যাচে বায়ার্নের হয়ে জোড়া গোল করেছেন থমাস মুলার ও ফিলিপে কৌতিনহো। একটি করে গোল করেছেন ইভান পেরিসিক, সার্জি নাব্রি, জশুয়া খিমিশ ও রবার্ত লেভানডোফস্কি। বার্সেলোনার হয়ে একটি গোল করেছেন লুইস সুয়ারেজ। অপর গোলটি এসেছে আত্মঘাতী খাত থেকে। যেটি করেছেন ডেভিড আলবা।

ম্যাচটিকে সবাই ধরে নিয়েছিল, ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল হিসেবে। বার্সেলোনা এবং বায়ার্ন মিউনিখের খেলা বলে কথা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তো হবেই! কিন্তু মাঠের খেলায় বার্সাকে খুঁজে পাওয়াই ছিল কঠিন। লিওনেল মেসিরা মাঠে নেমেছিলেন যেন শুধু বায়ার্নের আক্রমণ ঠেকানোর জন্যই। নিশ্চিত আরও কয়েকটি গোলের সুযোগ মিস না হলে স্কোরলাইন আরও বাজে হতে পারতো। লিখতে হতো হয়তো, বার্সার জালে একের পর এক গোল দিয়েই গেলো বায়ার্ন।

প্রথমার্ধের খেলা দেখে মনে হচ্ছে, বার্সেলোনার ডিফেন্স বলতে কিছুই নেই। মাঝমাঠে ভিদাল আর বুস্কেটস ওপরে-নিচে দৌড়াচ্ছেন শুধু। মেসি বারবার জায়গা পরিবর্তন করে চেষ্টা করছেন একটা-দুটা বল পাওয়া যায় কি না। সুয়ারেজ মাঠে ছিলেন কি না দেখা গেছে শুধুমাত্র প্রথমার্ধের শেষ দিকে বায়ার্নের পোস্টে একটি শট নেয়ার পর। বলা বাহুল্য, সেই শট কোনো কাজেই আসেনি।

মেসি ওয়ান-টু-ওয়ান একটি বল পেয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। সামনে ছিলেন শুধু গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নুয়্যার। কিন্তু তার বাম পায়ের শটটি ট্রেডমার্ক শট ছিল না। সুতরাং, জালের দেখা পায়নি মেসির সেই শট। ওই একটি ছাড়া পুরো ৪৫ মিনিটে আর শটই নেয়ার সুযোগ মেলেনি মেসির।

প্রথম থেকেই এক তরফা খেলছে বায়ার্ন আর বার্সা। দেখে মনে হচ্ছিল পাড়ার বড় ভাই আর ছোট ভাই খেলছে। ছোট ভাইয়ের কাজই হলো বড় ভাইয়ের আক্রমণ ঠেকানো। যার ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল ম্যাচের একদম প্রথম দিকে। ৪র্থ মিনিটেই বার্সার জালে বল জড়িয়ে দেন বায়ার্নের থমাস মুলার। রবার্ট লেওয়াডস্কির পাসকে আলতো পায়ে বার্সার জালে ঠেলে দিলেন মুলার। খেলার সপ্তম মিনিটে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন ডেভিড আলাবা। ব্যবধান ১-১।

২১তম মিনিটে ইভান পেরিসিক বাম পায়ের দারুণ এক প্লেসিং শটে বার্সার জালে বল জড়ান। গোলরক্ষক টার স্টেগান ঝাঁপিয়ে পড়ে, পায়ে ঠেকিয়েও পারেননি গোল ঠেকাতে। ২৭ মিনিটে সার্জি গিনাব্রি বক্সের মাঝ বরাবর থেকে ডান পায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন বার্সার জালে। গোরেৎজকার পাস থেকে বল পেয়েছিলেন তিনি।

৩১ মিনিটেই ৪-১ ব্যবধান করে ফেলেন থমাস মুলার। ডান কর্নার থেকে জসুয়া কিমিচের দারুণ একটি পাস থেকে আসা বলে শুধু পা ঠেকিয়ে দেন মুলার। টার স্টেগানকে ফাঁকি দিয়ে বলটা জড়িয়ে গেলো মেসিদের জালে। হয়ে গেলো ৪-১।

প্রথমার্ধ শেষ হলো ৪-১ ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা নিতে চাইলো বার্সা। যার ধারাবাহিকতায় ৫৭ মিনিটে গোল করে বসেন লুইস সুয়ারেজ। মাঝ মাঠ থেকে মেসির লম্বা পাস থেকে জর্দি আলবা বলটা রিসিভ করে দেন সুয়ারেজকে। একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ গোলটি করেন তিনি।

এরপরই যেন পুনরায় জ্বলে ওঠে বায়ার্ন। ৬৩ মিনিটে আলফনসো ডেভিস যে গোলটি তৈরি করে দিয়েছিলেন তা অবিশ্বাস্য। মাঝ মাঠ থেকে লেফট উইং ধরে বল নিয়ে এসে পুরো বার্সা ডিফেন্সকে একা কাটালেন। এরপর ছোট বক্সের মাঝ থেকে যেভাবে কয়েকজনকে ফাঁকি দিয়ে পাসটি দিলেন, সেটাই ছিল অবিশ্বাস্য। জসুয়া কিমিচ শুধু পা’টা লাগিয়ে গোল করলেন।

৭৫ মিনিটে সার্জি গিনাব্রির পরিবর্তে মাঠে নামেন ফিলিফ কৌতিনহো। নেমেই যেন বার্সাকে কিছু দেখিয়ে দেয়ার প্রয়োজন মনে করলেন তিনি। যার ফলে ৮২ মিনিটে ডি-বক্সের সামনে থেকে অসাধারণ একটি ক্রস করেন সেটাতেই মাথা লাগিয়ে গোল করেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি।

এরপর নিজেই গোল করেন কৌতিনহো। ৮৫ মিনিটে মুলারের পাস থেকে ভেসে আসা বলকে ডান পায়ের শটে জড়িয়ে দেন বায়ার্নের জালে। এরপর ৮৯ মিনিটে আবারও গোল করেন কৌতিনহো। শেষ পর্যন্ত ৮-২ গোলে বার্সাকে হারিয়ে সেমিতে উঠে যায় বায়ার্ন।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ