প্রতিশোধমূলক পর্ণ থেকেও ব্যবসা করছে পর্নহাব

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৯

পর্ণ স্ট্রিমিং সাইট পর্নহাবের মালিকরা ‘প্রতিশোধমূলক পর্ন’ বা রিভেঞ্জ পর্ন থেকে লাভ করছেন বলে বিবিসি নিউজকে জানানো হয়েছে।

এবং এসব ভিডিওর বিরুদ্ধে একবার রিপোর্ট হওয়ার পর সেগুলোকে পুরোপুরি অপসারণ করা যায়না।

রিভেঞ্জ পর্ণ বলতে বোঝায়, যেখানে বিনা সম্মতিতে মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়- যার বেশিরভাগই ছড়ানো হয় অনলাইনে।

আর এসবের উদ্দেশ্য থাকে ভুক্তভোগীদের চরম দুর্দশার মধ্যে ফেলা এবং বিব্রত করা।

এই ছবি বা ভিডিওগুলো দুইভাবে ছড়াতে পারে। প্রথমত, ব্যক্তির প্রাক্তন যৌনসঙ্গী ইচ্ছাকৃতভাবে সেটা ছেড়ে দিতে পারে।

আবার দুজনেরই অগোচরে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি তাদের ডিজিটাল আর্কাইভ অথবা আইক্লাউড থেকে কন্টেন্টগুলো চুরি করতে পারে।

‘সোফি’ নামে এক নারী বলেছেন যে, তার এমন একটি ভিডিও কেউ অনলাইনে আপলোড করার পর সেখানে কয়েক হাজারবার দেখা হয়। এর পর থেকে তিনি ভীষণভাবে অপমানিত বোধ করছেন।

প্রচারণা গোষ্ঠী ‘হ্যাশট্যাগ নট ইয়োর পর্ণ’ জানায় যে, এই জাতীয় কন্টেন্ট পর্নহাবের মালিকদের বিজ্ঞাপন থেকে আরও বেশি আয় করার উৎসাহ দেয়।

তবে পর্নহাব বলেছে যে, তারা রিভেঞ্জ পর্ণের ‘তীব্র নিন্দা জানায়’।

তারা বলছে যে সোফির কাছ থেকে তারা কোন রেকর্ড বা ইমেইল পাননি।

এখন সোফি চাইছেন তাকে নিয়ে করা এই ভিডিও যেন নামিয়ে ফেলা হয়।

তার সেই সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে এখন যোগাযোগ আছে সোফির। এখন তারা চাইছে একসঙ্গে সমাধানের পথ খুঁজতে।

‘হতবাক ও বিব্রত’
সোফি (ছদ্মনাম) বিবিসির ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার প্রোগ্রামকে বলেন, আঠারো মাস আগে পরিবারের সঙ্গে একদিন বেড়াতে বের হয়েছিলেন সোফি। সেখানে তিনি তার মোবাইলে কিছু মিসড কল এবং মেসেজ খুঁজতে তার ফোনটি পরীক্ষা করেছিলেন।

সোফির বোনের প্রেমিক সোফির ভিডিওগুলো বিশ্বের বৃহত্তম পর্ণ ওয়েবসাইট-পর্নহাবে খুঁজে পান। তার মধ্যে সোফির একটি ভিডিও শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে। যার ভিউয়ার সংখ্যা ছিল কয়েক লাখ।

‘আমি হতবাক, বিব্রত এবং অপমান বোধ করেছিলাম,’ তিনি বলেন।

সোফি এর আগে তার সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে ছয়টি ভিডিও বানিয়েছিলেন- তবে কয়েক বছর আগে তাদের সম্পর্কই ভেঙে যায়। এর পরই তার ভিডিওগুলোকে আপলোড হতে শুরু করে। অথচ এসব কন্টেন্ট অনলাইনে আপলোড দেয়ার কোনো সম্মতি সোফি দেননি।

পর্নহাবে ভিডিওগুলি আপলোডের বিষয়ে সোফি জানার পর সংস্থাটি এক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো নামিয়ে ফেলে।

তবে, পর্নহাবের এই ছয়টি ভিডিও থেকে আরও প্রায় ১০০টি ভিডিও ক্লিপ তৈরি করার সুযোগ দিয়েছে এবং পরে সেগুলো সাইটে পুনরায় আপলোড করা হয়।

কিন্তু যখন তিনি সাইটে এই কথা জানান, তখন এর প্রতিক্রিয়ায় কিছু করা ‘খুব বেশি কাজে আসেনি’, তিনি বলেন।

সোফি তখন অন্য একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যারা মূলত পর্নহাবের ভিডিওগুলি নেওয়ার অনুরোধগুলো পরিচালনা করে, তবে তাদের কাছ থেকেও তিনি উত্তর পাননি বলে জানান সোফি।

তিনি পুলিশের কাছেও গিয়েছিলেন। আজ অবধি, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

হ্যাশট্যাগ নট ইয়োর পর্ণ প্রচারণার কেট আইজ্যাকস বলেছেন যে রিভেঞ্জ পর্ণকে প্রায়শই পর্নহাবের ‘অপেশাদার’ বা ‘হোম-মেড’ বিষয়বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হতো- জনপ্রিয় এই দুটি শব্দ দিয়েই ভিডিওগুলো অনুসন্ধান করা হতো যা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য সাইটটিকে আরও মূল্যবান করে তুলেছিল।

সোফি এখন চান যে সাইটটি যেন এ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ জাতীয় কন্টেন্ট মুছে ফেলতে আরও বেশি কাজ করে। সেই সঙ্গে ভিডিওটি একবার নামানোর পরে যেন পুনরায় আপলোড হওয়া রোধ করা যায়।

‘আমার পরিবারের ওপর প্রভাব’
সোফি অনলাইনের যখন তার ভিডিওগুলো দেখতে পান তখন তিনি নতুন একজনের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ছিল- এবং এ ঘটনা ওই দম্পতির ওপর বেশ বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল।

পর্নহাবের ভিডিওগুলো নিয়ে তার প্রেমিকের বন্ধুরা তার সঙ্গে মজা করত।

সোফির একটি কিশোরী বয়সের মেয়েও ছিল, ওই ঘটনার পর থেকে তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আর আগের মতো হয়নি।

পর্নহাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট কোরি প্রাইস বলেছেন, ‘পর্নহাবে আপলোড করা যেসব কন্টেন্ট আমাদের পরিষেবার শর্তাবলি সরাসরি লঙ্ঘন করে তা আমরা জানার সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলি। ২০১৫ সালে, আমাদের সমস্ত ভক্তদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে রিভেঞ্জ পর্ণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলাম। কারণ আমরা বিশ্বাস করি এগুলো এক প্রকার যৌন হয়রানি, এবং অনুমতি ছাড়া আপলোড করা এসব কন্টেন্ট সহজে সরানোর জন্য একটি ফর্ম চালু করা হয়। আমরা একটি অত্যাধুনিক তৃতীয় পক্ষের ডিজিটাল ফিঙ্গার-প্রিন্টিং সফটওয়্যারও ব্যবহার করি, যা প্রতিটি নতুন নতুন কন্টেন্ট আপলোডের আগে স্ক্যান করে দেখে। সেখানে দেখা হয় যে নতুন এই ভিডিওটি আগের কোন অননুমোদিত উপাদানের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে কিনা। এবং এটাও নিশ্চিত করা হয় যেন আসল ভিডিওটি একবার নামানোর পর আবার একই প্ল্যাটফর্মে ফিরে যেতে না পারে।’
খবর বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ