চাঁদে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে যাচ্ছে চীন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩৩

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদে ইকনোমিক জোন গড়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছে চীন। আগামী ২০৫০ সালের মধ্যেই চাঁদে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ব্যাপারে আশাবাদী তারা। ইতোমধ্যে এই উচ্চভিলাষী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০ লাখ কোটি ডলার ব্যয় ধার্য করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে চীনের মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থার প্রধান বাও ওয়েমিন এ প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ডেইলি নিউজের বরাতে মঙ্গলবার রাশিয়ার টিভি নেটওয়ার্ক এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করে।

ডেইলি নিউজ জানায়, চাঁদের মহাকাশ অঞ্চল এবং চাঁদ-পৃথিবীর মধ্যে যোগসূত্র গড়ে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি নির্মাণ করা হবে। এই অঞ্চলের পরিধি সম্পর্কে বাও ওয়েমিন বলেন, এর ব্যপ্তি পৃথিবী ও চাঁদের কাছাকাছি স্থান ছাড়াও মধ্যবর্তী জায়গাতেও থাকবে। চীনের জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চীনের মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা।

তিনি আরও বলেন, এমন প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে বেশ সম্ভাবনাময়। পৃথিবী ও এর উপগ্রহের (চাঁদ) মধ্যে যেন সহজবোধ্য ও কম খরচে মহাকাশভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করবে চীন।

২০৩০ সালের মধ্যে মূল প্রযুক্তির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তী ১০ বছর অর্থাৎ, ২০৪০ সালের মধ্যে নির্মাণ করা হবে যোগাযোগ প্রযুক্তি। সবকিছু ঠিক থাকলে এ শতাব্দীর মাঝামাঝি নতুন এ ইকনোমিক জোনে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করার স্বপ্ন দেখছে চীন।

উল্লেখ্য চীন প্রথম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে ১৯৭০ সালে। ২০০৩ সালে দেশটি তৃতীয় দেশ হিসেবে সেখানে মহাকাশচারী পাঠায়। সম্প্রতি মহাকাশ খাতে ব্যাপক গবেষণা ও সমীক্ষা চালাচ্ছে চীন। গত জুলাইয়ে দেশটির একটি বেসরকারি কোম্পানি আই-স্পেস একটি রকেট সফলতার সঙ্গে উৎক্ষেপণ করে। এই রকেটটিকে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ শিল্পের প্রথম সফল রকেট বলা হচ্ছে।

এছাড়াও গত ৩ জানুয়ারি চীনের একটি রোবটিক মহাকাশযান চ্যাং’ই ৪ সফলতার সঙ্গে চাঁদের দূরবর্তী স্থানে অবতরণ করে। চাঁদের ওই অদেখা অংশে মহাকাশযান অবতরণের ঘটনা বিশ্বের কোনো দেশ হিসেবে এটিই প্রথম। এই অভিযানের জন্য বেশ কয়েক বছর ধরেই তৈরি হচ্ছিল চীন। এবার চাঁদে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ায় তাদের সাফল্য দেখার অপেক্ষা।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ