দেশে পিরিয়ড নিয়ে সচেতনতা নেই কেন?

ঢাকা, ২৯ মে, এবিনিউজ : নাজিয়া পারভীন, মধ্য তিরিশের একজন গৃহিণী এবং শখের মডেল। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার মোহাম্মদপুরে।

বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই তিনি পিরিয়ড বা ঋত্স্রুাবের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেছেন। তবে কোনোদিনই নিজে দোকানে গিয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনেননি তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি তো কোনোদিনই যাইনি নিজে। বিয়ের আগে বাবা বা মা যেত। বিয়ের পরে স্বামী যায় আনতে।’

এত গেল শহরের পরিস্থিতি। কিন্তু গ্রামে কি অবস্থা? 

সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ ও আইসিডিডিআরবির চালানো ২০১৪ সালের ন্যাশনাল হাইজিন সার্ভেতে বলা হয়েছে, পিরিয়ডের সময়কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে প্রায় কোনো ধারণাই নেই বেশিরভাগ নারীর।

এ নিয়ে সচেতন না থাকার কারণে নানা রকম অসুখবিসুখও হয় বলে শোনা যায়। আর তা সম্পর্কেও হয়ত জানেন না অনেকে।

স্বাস্থ্যকর্মী তাহমিনা আক্তার বলেন, ন্যাকড়া ব্যবহারের জন্য ইনফেকশন হয়, জরায়ুর ইনফেকশন হতে পারে। এ ছাড়া ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন হয়। মাসিক অনিয়মিত হয়, খুব পেট ব্যথা হয়।

গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে নারী স্বাস্থ্য, বিশেষ করে নারীর প্রজননস্বাস্থ্য এবং পিরিয়ড বা মাসিকের সময়ে পরিচ্ছন্নতা বা নিরাপদ ব্যবস্থাপনা না থাকার অন্যতম কারণ সমাজের রক্ষণশীলতা।

আইসিডিডিআরবির গবেষণা কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এ নিয়ে মানুষের মধ্যে সংকোচ আছে, অজ্ঞতা আছে। লোকে এ নিয়ে কথা পর্যন্ত বলতে চায় না। স্কুলগুলোয় পিরিয়ড সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা একেবারেই নেই। এসব কারণেই মেয়েদের অনেক সময় দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়।

পিরিয়ডের মতো একটা স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক বিষয় নিয়ে লজ্জা আর সংকোচের শেষ নেই বাংলাদেশের সমাজে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক ট্যাবু পুষে না রেখে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা আর সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমেই এড়ানো যাবে নানা ধরনের অসুখবিসুখ।
খবর বিবিসি বাংলা

এবিএন/সাদিক/জসিম