আজ চাষী নজরুল ইসলামের চলে যাওয়ার দিন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৩৪

ঢাকাই সিনেমায় যে’কজন গুণী নির্মাতা এবং সফল হিসেবে বিবেচিত, তাদের মধ্যে অন্যতম চাষী নজরুল ইসলাম। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি এমন কিছু সিনেমা নির্মাণ করেছেন, যেগুলো তাকে দিয়েছে কালোত্তীর্ণের মর্যাদা। তাই ঢালিউডের ইতিহাস লিখতে চাইলে একটা অনিন্দ্য অংশজুড়ে থাকবেন চাষী নজরুল ইসলাম।

আজ ১১ জানুয়ারি চাষী নজরুল ইসলামের চলে যাওয়ার দিন। ২০১৫ সালে ঢালিউডে একটা অপূরণীয় অভাব তৈরি করে তিনি চলে যান ওপারে। সিনে জগতে সবসময় তিনি স্মরণীয়। তবে জন্ম কিংবা মৃত্যু দিনে আরও বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠেন এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব।

চাষী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর বিক্রমপুরের শ্রীনগরে। তার নামের রয়েছে বিশেষ ইতিহাস। নামটি রেখেছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নেতা শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক। চাষী নজরুল ইসলামের মামা চাষী ইমাম উদ্দিন রাজনীতি করতেন শেরেবাংলার সঙ্গে। সেই সুবাদে তিনি চাষীর নাম রাখেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মামা চাষী ইমাম উদ্দিনের নামের সংযোজনে চাষী নজরুল ইসলাম নামটি রাখেন বাংলার বাঘ।

চলচ্চিত্র দুনিয়ায় চাষী নজরুল ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৬১ সালে। নির্মাতা ফতেহ লোহানীর সহকারী হিসেবে ‘আছিয়া’ সিনেমায় কাজ করেন চাষী। বছর দশেক সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পর পূর্ণাঙ্গ পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

চাষীর নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘ওরা ১১ জন’। ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অন্যতম সেরা সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হয় এটি। এরপর একে একে নির্মাণ করেন ‘সংগ্রাম’, ‘ভালো মানুষ’, ‘বাজিমাত’, ‘দেবদাস’, ‘শুভদা’, ‘মিয়া ভাই’, ‘বেহুলা লক্ষ্মীন্দর’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘হাছন রাজা’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘সুভা’-এর মতো দর্শকনন্দিত ও প্রশংসিত সিনেমাগুলো।

নির্মাতা হিসেবে চাষী নজরুল ইসলাম দুইবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৮৬ সালে ‘শুভদা’ ও ১৯৯৭ সালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সিনেমা দুটি তাকে এই সম্মাননা এনে দেয়। এছাড়া তিনি ২০০৪ সালে ভুষিত হন রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদকে।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ