ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে যা বলেছিলেন ডা. মুরাদ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:২০

ফেসবুক লাইভে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অডিও ফাঁস হয়ে আলোচনা-সমালোচনায় থাকা তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে নিজের সরকারি বাসভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
 
বেশ কয়েকদিন ধরেই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আলোচনায় ছিলেন ডা. মুরাদ হাসান । বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। তার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও ভাইরাল হয়।
 
রোববার (৫ ডিসেম্বর) রাতে একটি ফেসবুক পেজে লাইভে এসে  ডা. মুরাদ হাসান বলেন,  ‘তারা শিষ্টাচারের সংজ্ঞাটা আমাদের শেখাতে চাচ্ছে। তসলিমা নাসরিনের মতো অনেক তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ আছে, দুঃখ লাগে কোনটা জানেন? এরা আবার জয় বাংলার কথা বলে। এরা আবার ছাত্রলীগ করছে নাকি! এরা নাকি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। এরা নাকি আবার নেত্রী ছিল কোন কোন হলের। কেউ বলে শামসুন নাহার হল কেউ কেউ বলে রোকেয়া হল। বিভিন্ন হলের নাকি নেত্রী-টেত্রী ছিল।
 
ডা মুরাদ বলেছেন, 'কিন্তু তারা রাতের বেলা নিজেদের হলে থাকতেন না। ঘুমাতেন হোটেলে হোটেলে। কারণ ফাইভ স্টার হোটেলে থাকার মজা, আর রোকেয়া হল শামসুন নাহার হলে থাকাটা কি এক কথা? আমি এর চেয়ে বেশি বললে মিছিল শুরু হয়ে যেতে পারে। আমি আর বেশি কিছু বলব না।’
 
তিনি আরও বলেছেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক ইউনিট খ ইউনিটের প্রথম ৩০০ জনের মধ্যে ছিলাম। ভর্তি হওয়ার সাত দিনের মাথায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছি।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের আমি বলতাম, তোদের ওইখানে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে) প্রসাব করার টাইমও আমার নাই।
 
এদিকে এমন মন্তব্যের পর সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মনসুরা আলম নামে এক শিক্ষার্থী সময় নিউজকে বলেন, বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন এক অসুস্থ প্রতিমন্ত্রী মুরাদ জাইমা রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নেতৃদের নিয়ে যে অশালীন মন্তব্য করেছে এর প্রতিবাদে আমরা তার কুশপুতুলে জুতার মালা পরিয়েছি।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর সেটিকে সরিয়ে দিয়েছে। কারণ, এ প্রক্টর কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিল না। আমরা মুরাদের দ্রুত পদত্যাগ ও তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ