কাপাসিয়ার জয়িতাদের কথা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২১, ১৬:১৬

মমতাজ বেগম

আর্থিক সংকটে পড়াশুনা হলো না। তাই বাবার বোধা না হয়ে গার্মেন্টসে চাকুরী নেই। কয়েক বছর পর আরো বেশী অর্থ উপার্জন করতে পারিজমাই প্রবাসে। কথাগুলো বলেন কাপাসিয়া উপজেলা রাউৎকোনা গ্রামের দরিদ্র আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মমতাজ। তিনি স্বল্প পুঁজি নিয়ে জীবন শুরো করে বর্তমানে সফল। দু-সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ আয়ের মাধ্যমে পোল্ট্রি শিল্পের মাধ্যমে ভাগ্যের চাকা বদলে নেন। বর্তমানে তিনি পারিবারিক ভাবে অত্যন্ত সুখী। ২০২০ সালে  অর্থনৈতিকভাবে সফল নারী তিনি জয়িতা  নির্বাচিত হন।

চায়না বেগম

দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে স্বামী মারা যাওয়ার  পর আমি চরম অর্থ সংকটে পড়ে ছিলাম। আমি ভেঙ্গে না পরে হাঁস-মুরগী পালন ও শবজি চাষ করে সফলতা অর্জন করি, এ কাথা বলেন কাপাসিয়া উজজেলার সফল জননী চায়না বেগম। তিনি দূর্গাপুর ইউনিয়নের মৃত আকবর আলীর স্ত্রী। স্বল্প শিক্ষিত চায়না বেগম সন্তানদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তিন সন্তান বর্তমানে ভালো চাকুরী করেন। তাদের সংসারে এখন সুখ ও সান্তি বিরাজ করছেন। ২০২০ সালে  সফল জননী হিসেবে তিনি জয়িতা  নির্বাচিত হন।

মিনতি রানী

নেশাখোর স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্যকরতে নাপেরে বাপের বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হই। কোন উপায় না পেয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে গার্মেন্টেসে কাজ নেই। তার পর স্কুলের দপ্তরী ও সর্বশেষ বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক অফিসে কাজ নেই, এ আবগগণ কথাগোলো বলেন কাপাসিয়া উপজেলার নরসিংপুর গ্রামের নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে উদ্যোমী মিনমি রানী। তার স্বামীর নাম বিমল রবি দাস। ২০০৬ সালে আমাদের বিয়ে হয়। স্বামী অনেক নির্যাতনের পর তার ভুল বুঝতে পেরে আমার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে আমাকে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে। বর্তমানে স্বামী ও সন্তান নিয়ে মোটামুটি সুখে-শান্তিতে দিন যাপন করছি। ২০২০ সালে নারী নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে উদ্যোমে জীবন শুরু করায় জয়িতা নির্বাচিত হন।

বাসনা রানী দাস

বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ভিজিডি কার্ড যোগ্য ব্যক্তিদের পাইয়ে দেয়া এবং ইউপি মেম্বার ও চেয়ারমেনদের সাথে যোগাযোগ ও নারীর ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিরলস ভাবে কাজ করেন গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার রামপুর গ্রামের ললিত চন্দ্র সরকারের স্ত্রী বাসনা রানী দাস। তিনি সমাজ উন্নয়নে অসামান্ন অবদান রেখে যাচ্ছেন। সন্তানদের শিক্ষা লাভের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। আমরা এ নারীর সফলতা কামনা করি। সমাজ উন্নয়নে অসামান্ন অবদান রাখার জন্য২০২০ সালে জয়িতা নির্বাচিত হন।

 

তানিয়া আক্তার রুনা

আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল ৭ জন। এত বড় পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনর খরচ বহন করা আমার বাবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। আমি চিনাডুলি এম আর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্তের সাথে এসএসসি ও ২০০৯ সালে ঢাকার লাল মাাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি ও একই কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে রায়েদ ইউনিয়ন হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। এ কথাগুলো বলেন কাপাসিয়া  উজজেলার চিনাডুলি গ্রামের তানিয়া আক্তার রুনা। শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০২০ সালে জয়িতা নির্বাচিত হন।


বিএন/নূরুল আমীন সিকদার/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ