ঝিনাইদহে মাটি খুঁড়তে গিয়ে মিলল রুপার পয়সা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২১, ০৯:৪৩

মাটি খুঁড়তে গিয়ে মিললো রুপার পয়সা, তাও একটি নয়, দুইটি নয়, অসংখ্য রুপা!

যে যার মতো হাতভর্তি করে নিয়ে গেছে বাড়িতে। খবর পেয়ে পুলিশও উপস্থিত। জব্দ করেছে ২৭টি রুপার মুদ্রা। এ দৃশ্য ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রামের।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শৈলকুপায় বাগুটিয়া গ্রামের দো সতীনের বিল থেকে এলাকাবাসী ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়তে যায়। সেই মাটি বাড়ির আঙ্গিনায় রাখার এক পর্যায়ে দেখতে পায় রুপার মুদ্রা।

শৈলকুপা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিরুজ্জামান জানান, বাগুটিয়া গ্রামের ফুলপাড়া গ্রামের মৃত মঈনুদ্দিনের ছেলে নেওয়াজ জোয়ার্দ্দার আজ তার বাড়ির পাশের দো সতীনের বিল থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেঁটে বাড়ির আঙ্গিনায় রাখেন। পরে তা বিছানোর সময় দেখা যায় অনেক পুরাতন মূদ্রা। অনেকেই সেই বিল থেকে মাটি খুঁড়ে নিয়ে যায় সেসব মুদ্রা। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌছে ২৭টি মুদ্রা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

মুদ্রার উপরে ফার্সি লেখা থাকায় ধারণা করা হচ্ছে এগুলো মুঘল আমলের মুদ্রা। পরে স্বর্ণের দোকানে নিয়ে পরীক্ষা করা হলে দেখা যায় প্রতিটা মুদ্রা রৌপ্যের। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মুদ্রা রাখার ধাতব পাত্রের একটি অংশ উদ্ধার করে। তবে পুলিশের ধারণা সেখানে তারা পৌঁছানোর আগে আরো কিছু মুদ্রা গ্রামবাসীর হাতে চলে যায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসিল্যান্ড পার্থ প্রতিম শীলের সহকারী রফিক রেজা জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে দো সতীনের বিল থেকে যে মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে তা মুঘল আমলের। এ মুদ্রাগুলো রৌপ্যের বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, সুলতানি শাসনের পূর্বে বাংলায় যখন পাঠানদের রাজত্ব চলছিলো তখন এক পাঠান সেনাপতি হরিহর রাজাকে পরাস্ত করে তার রাজপুরী ধ্বংস করেন। ঝিনাইদহ অঞ্চলে মুকুট রায় নামে যে প্রতাপশালী রাজার কথা শোনা যায় তার প্রধান সেনাপতি রঘুপতি ঘোষ রায় এর বাড়ি ছিলো এই বাগুটিয়া গ্রামে। মুকুট রায়ের একটি দূর্গ ছিলো বাগুটিয়ার নিকটে বর্তমানে কন্যাদহ বিলের ধারে। পাঠান সৈন্যদের হাতে মুকুট রায় এক যুদ্ধে পরাস্ত ও নিহত হলে তার কন্যা ও ২ স্ত্রী বিলের পানিতে ডুবে আত্মহত্যা করেন। যেখানে কন্যা মরেন তার নাম কন্যাদাহ, আর যেখানে স্ত্রীগণ মরেন তার নাম দোসতিন।

বর্তমানে কন্যাদা ও দোসতিনের বিল নামে এলাকাটি পরিচিত যা যশোর-খুলনার ইতিহাস গ্রন্থে সতিসচন্দ্র মিত্র উল্লেখ করেছেন।

এবিএন/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ