ফরিদপরের আলফাডাঙ্গা একই সাথে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতা রনি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২১, ১৮:৫৭

সদ্য ঘোষিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান পায় ছাত্রদলের প্রথম সারিরএক নেতা। জানাজানি হবার পর শনিবার ওই বিতর্কিত নেতাকে বিতাড়িত করেছে উভয় দলই।

অভিযোগ, রায়হান রনি নামের ওই নেতা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক পদে থাকা অবস্থাতেই উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পান।

রায়হান রনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার আলফাডাঙ্গা মৌজার বাসিন্দা। পড়াশোনা করেন যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে।

ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে গত ২৩ জানুয়ারি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ২১ সদস্যবিশিষ্ট আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন। ওই কমিটির একজন আহ্বায়ক, নয়জন যুগ্ম আহ্বায়ক, একজন সদস্যসচিব এবং বাকি সবাই সদস্য। ঘোষিত ওই কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছে রায়হান রনির নাম।

অপর দিকে গত ১২ জুন আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এর নাম ঘোষনা করে আংশিক কমিটি অনুমোদন করে জেলা ছাত্রলীগ। ঘোষিত ওই পৌর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে মোহাম্মদ রায়হান রনির নাম।

স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ ছাত্রদলের রায়হান রনি ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদ রায়হান রনি একই ব্যক্তি।

এ নিয়ে মোহাম্মদ রায়হান রনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ছাত্রদলের রায়হান রনি আর তিনি এক ব্যাক্তি না। তিনি আজীবন ছাত্রলীগ করেছেন, ছাত্রদল তিনি করেননি। ছাত্রদলের রায়হান রনিকে তিনি চিনেনও না।

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশীদ চৌধুরী রিয়ান এই প্রতিবেদককে জানান, তার জানা মতে ছাত্রদলের রায়হান রনি আর ছাত্রলীগের রায়হান রনি এক ব্যাক্তি না। তারপরও কেউ যদি প্রমান দিতে পারে এই দুই রনি এক জনই তাহলে রায়হান রনির বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ছাত্রলীগে কোনো বিতর্কিত লোকের স্থান হবে, না এমন কি অন্য যেকোন রাজনৈতিক সংগঠন করে ছাত্রলীগে আসা যাবে না।

অবশ্য এমন বক্তব্যোর কয়েক ঘন্টা পর শনিবার বিকেলে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তাজিদুল রশীদ চৌধুরী রিয়ান ও সধারন সম্পাদক ফাহিম আহম্মেদের যৌথ স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে,‘সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদ রায়হান রনি (সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আলফাডাঙ্গা পৌর শাখা) কে নিজ পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হল।’

শনিবার অনুরূপ অপর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ও সাধারন সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস জানান, ‘সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি- আদর্শচ্যুতির অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হওয়ায় মোহাম্মদ রায়হান রনি, প্রথম যুগ্ম আহবায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, আলফাডাঙ্গা পৌর শাখা - কে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিস্কার করা হলো’।
এই বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, জেলা থেকে কখন কি কমিটি ঘোষনা করে, আমাদের কাছ থেকে মতামত বা পরামর্শও নেয় না। ছাত্রলীগের এই কমিটি ঘোষনার ক্ষেত্রেও আমার কাছ থেকে কোন পরামর্শ নেয়া হয়নি। এখন শুনছি ছাত্রদলের এক নেতা কমিটির বড় পদ পেয়েছেন।

এদিকে নিজেকে শুধু ছাত্রলীগ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাসিন্দা মোহাম্মদ রায়হান রনি। শনিবার দুপুরে আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যর মাধ্যেমে তিনি নিজেকে শুধু ছাত্রলীগের নেতা দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, আমি আজীবন ছাত্রলীগ করেছি। রাজপথে থেকে মিটিং মিছিল করেছি। আমাকে নিয়ে একটি কুচক্রীমহল হীনস্বার্থ হাসিলে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে। যুবদলের যে রায়হান রনির কথা বলা হচ্ছে যে রায়হান রনির আমি নই। আমি যদি বিএনপির কোন কর্মী হতাম তাহলে কোথাও না কোথাও তাদের সাথে আমার ছবি থাকতো। আমি এই ভিত্তিহীন মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানাই। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গার পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাইফুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লা আল মিলন জানান, ছাত্রদলের রায়হান রনি ও ছাত্রলীগের মোহাম্মদ রায়হান রনি একই ব্যক্তি।  

এবিএন/কে এম রুবেল/জসিম/জুয়েল

এই বিভাগের আরো সংবাদ