তিন জন ডাক্তার দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল

  আবুল খায়ের

০৯ জুলাই ২০২১, ১৩:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কাগজে কলমে ৫০ শয্যার।  কিন্তু মাত্র তিন জন মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে এই হাসপাতালে চিকিত্সা কার্যক্রম চলছে।  এ হাসপাতালে যে জনবল রয়েছে তা ১৫ শয্যার হাসপাতালের।

এই সীমিত জনবল দিয়ে উপজেলার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪৭৫ জনসংখ্যার চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করা কীভাবে সম্ভব? জনবল সংকটে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। শুধু সিজারিয়ান অপারেশন হয়। জেনারেল সার্জনসহ চার জন কনসালটেন্ট নেই। অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার নেই। অবকাঠামোসহ সব ব্যবস্থা থাকলেও হাসপাতালে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী হাপসাতালে চিকিত্সা নিতে আসেন। ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা জরুরি বিভাগে প্রতিদিন রোগী আসছেন ৩০ থেকে ৪০ জন। ঐ তিন ডাক্তারকেই এত রোগীর সামাল দিতে হয়। যে কারণে চিকিত্সকদের ওপর পড়ে প্রচণ্ড চাপ।

গতকাল এই প্রতিনিধি সরেজমিনে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জনবল সংকটে চিকিত্সাসেবা বিঘ্নিত হওয়া ও চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখেছেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন। ওষুধ রাখার মেডিক্যাল স্টোর না থাকায় জীবনরক্ষাকারী ইনজেকশন রাখা হয়েছে বারান্দায়। জীবনরক্ষাকারী ওষুধও একটি রুমে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে রাখা হয়েছে। এতে ওষুধ ও ইনজেকশনের গুণমান নষ্ট হওয়ার কথা ওষুধ প্রযুক্তিবিদদের মতে। শুধু সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নয়, সারা দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে জনবল সংকটে চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, মহত্ উদ্দেশ্য নিয়ে সারা দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। উপজেলার মানুষ যাতে উপজেলাতেই চিকিত্সাসেবা পায়। ছোটখাটো অপারেশন, এক্সরে, ইসিজিসহ পরীক্ষানিরীক্ষার সব ব্যবস্থা সেখানে আছে। কিন্তু জনবল সংকটে এগুলো সচল নেই। হাসপাতালে মানুষ আসেন জরুরি সেবা পেতে। এই সেবার ওপর নির্ভর করে মানুষের জীবন-মরণ।

জনবল সংকটের কারণেই ওয়ার্ডবয়, সুইপার ও ক্লিনারদের দিয়ে চিকিত্সাসেবা চালানো হয়। এই অব্যবস্থাপনা কবে শেষ হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। জনগণ বুঝে গেছে, এ অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী কে।

সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ বেড থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে পাঁচ বছর আগে। কিন্তু জনবল বাড়েনি। উপরন্তু ৩১ বেডের জনবলই সেখানে নেই। ১৬৬ পদের মধ্যে জনবল আছে ১২৮ জন। চিকিত্সকের পদ আছে ২১টি। এর মধ্যে ১৪ জন ডাক্তার আছেন। সেখান থেকে আবার সাত জন ডাক্তারকে করোনা রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিতে সংযুক্তির মাধ্যমে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। তিন জন মেডিক্যাল অফিসার চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত। বাকি চার জনের মধ্যে এক জন গাইনি ডাক্তার, এক জন ডেন্টাল ডাক্তার। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) পদটি প্রশাসনিক কাজের জন্য। আর হাসপাতালে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা। হাসপাতাল থেকে ৪০ থেকে ৫০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়। এই হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার জন্য বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি শক্তিশালী চক্র রয়েছে। এই হাসপাতালের আপশাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সিভিল সার্জনের। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই ক্লিনিক থেকে নিয়মিত উেকাচ পান সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রকাশ্যে তারা রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যান। হাসপাতালে খাবার সরবরাহ করে একজন ঠিকাদার। খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সোনারগাঁও উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন আছে। ১১টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র দুটি। ওয়ার্ড পর্যায়ে হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক আছে ৩৪টি।

সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার সাহা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটি বন্ধ হয়েছে। বখাটের উত্পাত কমে গেছে। পুকুর পাড়ে সুন্দর পরিবেশে স্থাপন করা এই হাসপাতালে জনবলের সংকট রয়েছে। এ কারণে চিকিত্সাসেবার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় কিছুটা সমস্যা আছে। ডা. পলাশ কুমার সাহা সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরায় হাপসাতালের সবকিছু মনিটরিং করেন। 

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ