ঝিনাইদহে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংখ্যালঘুর জমি দখল

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৭

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না বাজার আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক সংখ্যালঘুর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, গান্না ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের সুবোধ রায় ও তার ভাইপো সুমিত রায় আর্থিক অনটনের কারণে পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ১৭ শতক জমির মধ্যে সাড়ে ৮ শতক জমি বিক্রি করে একই ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আলা উদ্দিনের কাছে। ওই জমিতে সুবোধ রায়’র আরও দুই ভাইয়ের মালিকানা রয়েছে। জমি রেজিস্ট্রি করার সময় জমির পুর্বপাশ দলিলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় জমি ক্রেতা আলা উদ্দিন জমির পশ্চিম পাশ দখলের চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেয়ে সংখ্যালঘু অমিত রায় ঝিনাইদহ আদালতে গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি পিটিশন দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালত আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিত ভালো রাখতে জমিতে কোন প্রকার স্থাপনা বা কাজ না করার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ প্রদাণ করা হয়।

অমিত রায় অভিযোগ করে বলেন, আদালত জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে কিন্তু আলা উদ্দিন ক্ষমতার জোরে আমাদের জমি দখল করে নিয়েছে। আদালতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি লোকজন সাথে নিয়ে জমিতে ঘর নির্মাণ করেছে। আমরা তাকে কিছু বলতে গেলে আমাদের মারধর ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

জমির বিক্রেতা সুবোধ রায় বলেন, আমরা জমি বিক্রি করেছি পুর্বপাশে কিন্তু আলা উদ্দিন ক্ষমতা দেখিয়ে পশ্চিম পাশ দখল করেছে। এই জমিতে আমার অন্য ভাইদের মালিকানা রয়েছে। আমরা সংখ্যালঘু পরিবার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছি না। তার কাছে যেখানে জমি বিক্রি করেছি সেখানে সে দখল করুক আমাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু সে জোরকরে অন্যপাশের জমি দখল করেছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আলা উদ্দিন বলেন, আমি জমি কিনেছি তাই জমি দখল করে নিয়েছি। ১৪৪ ধারা আছে কি না তা আমার জানার দরকার নেই তো। ওরা বেশি কথা বললে আমি ওদের নামে মামলা করব।

এ ঘটনায় বেতাই চন্ডিপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএস আই খোরশেদ আলী বলেন, আদালত থেকে নোটিশ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পরও একটি পক্ষ তা অমান্য করে ঘর নির্মাণ করছিলো। ঘটনা শোনার পর সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এবিএন/নয়ন খন্দকার/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ