কালিগঞ্জে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার আসামী সবুজ গেফতার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২১, ১৯:২৪

তালাক দেওয়ায় প্রতিশোধ নিতে দরজায় ছিটকানি লাগিয়ে ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে শ্বাশুড়ি ও স্ত্রীর আগের পক্ষের সন্তানকে হত্যার চেষ্টা কারী সবুজ গাতিদারকে (৩৫) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার সবুজ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের ভাঙ্গানমারি ৮০ বিঘা গ্রামের নবাব আলীর পুত্র। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ গোলাম মোস্তফা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩অক্টোবর রবিবার বিকাল ৩টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের একটি হোটেলর পাশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে কাজলা গ্রামের আগুনে দগ্ধ ফতেমা খাতুনের স¦ামী আব্দুস সাত্তার সরদার জনান, তার স্বামী পরিতাক্ত্য কণ্যা নাজমা খাতুনের সাথে সবুজের বিবাহ হয়। নাজমার আগের পক্ষের নাজমুল ইসলাম নামের ৮বছরের এক সন্তান আছে। নাজমুলকে ইছাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়। এদিকে কারনে অকারনে সবুজ গাতিদার নাজমাকে নির্যাতন করতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নাজমা সবুজকে প্রায় তিন মাস আগে তালাক দেয়।

 আব্দুস সাত্তার সরদার আরো বলেন, তিনি কাজলা গ্রামের আরিফ আহম্মেদ এর মাছের ঘেরে নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করেন। প্রতিদিন ডিউটির ফাঁকে বাড়ি থেকে একবার করে ঘুরে যান তিনি। তালাক দেওয়ার পর দেবহাটা থানার অস্ত্র ও ডাকাতিসহ ছয়টি মামলার আসামী সবুজ গাতিদার আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে সবুজ ও তার পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তাদের বাড়ির দরজায় ছিকল তুলে দিয়ে জানালা দিয়ে পেট্রোল ছিটিয়ে একটি লাঠির মাথায় কাপড় জড়িয়ে তাতে আগুণ লাগিয়ে ঘরের মধ্যে ছুঁড়ে দেয়। ঘরের মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলার একপর্যায়ে তার স্ত্রী ফাতেমা ও নাতি নাজমুল ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে। বাইরের দিক থেকে দরজায় ছিকল লাগিয়ে দেওয়ায় তারা আর বের হতে না পারায় চিৎকার করতে থাকে।

তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে মুমুর্ষ অবস্থায় ফাতেমা খাতুন ও নাতনী নাজমুলকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও পরে খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটের ৮ ও ১১ নং শয্যায় ভর্তি করা হয়েছে। এব্যাপারে অগ্নিদগ্ধ ফতেমার স্বামী আব্দুস সাত্তার সরদার বাদি হয়ে সবুজ গাতিদার, তার ভাই সুমন গাতিদার, তাদের বাবা নবাব আলী গাতিদার, মা মর্জিনা খাতুনের নাম উলে¬খসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে শনিবার থানায় একটি মামলা (৫নং) দায়ের করেছেন। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুবজ গাতিদারকে গতকাল রবিবার বিকাল ৩টার দিকে সাতক্ষীরা শহর থেকে তাকে আট করা হয়েছে।

এবিএন/রফিকুল ইসলাম.জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ