আজকের শিরোনাম :

শিবচরে সব প্রস্তুতি শেষে অপেক্ষা এখন রস সংগ্রহের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১০:৩৯

মাদারীপুর শিবচর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে এক সময় খেজুর গাছে ভরপুর ছিল। শীত এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গাছিরা। বিকেল হলেই গাছে হাঁড়ি বসাতেন আবার সকাল হলে রস সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে আসতেন। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলতো গুড় আর পাটালি তৈরির কাজ। উপজেলায় প্রকৃতিতে লেগেছে শীতের ছোঁয়া। সকালের শিশির ভেজা ঘাস আর কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে প্রকৃতি। একই সঙ্গে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে শিবচর গাছিদেরও।

খেজুরের গুড় আর পাটালির মৌ মৌ গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াতো। কেউ কেউ রস বিক্রি করতেন আবার কেউ স্বজনদের বাড়িতেও পাঠাতেন। কালের বিবর্তনে এসব এখন ইতিহাসের পাতায় জড়ো হচ্ছে। হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুর গাছ।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে গাছিরা খেজুরের গাছগুলো পরিচর্যা করছেন। ঝুঁকি নিয়ে মাজায় রাবারের বেল্ট ব্যবহার করছেন। রোদ্রে খেজুর গাছ শুকানোর পর কেউ প্লাস্টিকের, কেউ মাটির হাঁড়ি গাছে বাঁধছেন। এখনকার রস তেমন মিষ্টি না। কেউবা অল্প কাঁচা রস সংগ্রহ করে হাট-বাজারে বিক্রি করেন। কেউ কেউ আবার ঝোলা গুড় বানানোর চেষ্টা করছেন।

শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা এলাকার কামাল হোসেন বলেন, গত ২০ দিন ধরে কাজ শুরু হয়েছে। গাছের ময়লা ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। গাছের সোনালী অংশ বের করে নলি স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ। কয়েকদিনের মধ্যে রস সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।

একই উপজেলার কুতুবপুর এলাকার রুহুল আমিন হক বলেন,  শিবচরের খেজুর গাছের রস হতে উৎপাদিত গুড় জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছর এ গ্রাম থেকে গুড় জেলার বিভিন্ন স্থানে যায়।

এ বিষয়ে শিবচরের গাছি রহমান মিয়া বলেন, বর্তমানে যে হারে খেজুর গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, তাতে এক সময় হয়তো আমাদের দেশে খেজুর গাছ থাকবে না। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চাইলে আমাদের সবার উচিত তালগাছের মতো বেশি বেশি খেজুর গাছ লাগানো এবং তা যতœ সহকারে বড় করা।

শিবচর উপজেলার মোহরীপট্টি ও সন্যাসীরচর ইউনিয়নের কয়েকজন গাছি জানান, সঠিক পরিচর্যা করলে একটি খেজুর গাছ থেকে ৮-১০ বছর পর্যন্ত রস পাওয়া যায়। উপজেলায় বর্তমানে খেজুর গাছ নেই বললেই চলে। আর যেগুলো রয়েছে তাও একেকটা থেকে একেকটার দূরত্ব বেশি হওয়ায় এখন আগের মত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। গাছ কমে যাওয়ায় এ কাজ ছেড়ে দিয়েছেন অনেকে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, কালের বির্বতনে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ।

এবিএন/এস.এম.দেলোয়ার হোসাইন/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm