ঝিনাইদহে জামানত হারিয়েছেন ৩৩ প্রার্থী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:১৬

ঝিনাইদহে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে নৌকার প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি ১০ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরমধ্যে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলে ৩৩ জন জামানত হারিয়েছেন। যাদের মধ্যে একজন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীও রয়েছেন।

রোববার গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, নির্বাচনে সাধুহাটী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন বিজয়ী হয়েছেন। এখানে বাকি দুই প্রার্থীর কেউ জমানত হারাননি।

মধুহাটী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে আলতাফ হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জমানত হারিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর আজাদ। তার প্রাপ্ত ভোট ৬৫৩। একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে আরো দুইজন জমানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের নাজমুল হক পেয়েছেন ৪০২ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তহুরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৭ ভোট।

এছাড়া ঘোড়শাল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের পারভেজ মাসুদ লিল্টন নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে তিতাস বিশ্বাস ২১৪ ভোট পাওয়ায় জমানত হারিয়েছেন।

জেলা সাগান্না ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাম্মেল হক নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে এসএম শাহিন হোসেন রেজা ৭৮ ও ইসলামী আন্দোলনের আরশাদ পাঠান ২৪৮ ভোট পাওয়ায় জমানত হারিয়েছেন।

গান্না ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকার প্রার্থী আতিকুল হাসান মাসুম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে আজিজুর রহমান লিটন ৭৬১ এবং ময়নাল হোসেন ৩০৩ ভোট পেয়ে জমানত খুইয়েছেন।

ফুরসন্দি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে শহিদুল ইসলাম শিকদার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে জাকের পার্টির আওয়াল হোসেন ৫৩ এবং ইসলামী আন্দোলনের আবু জাফর মোল্লা ২৯২ ভোট পাওয়ায় জমানত হারিয়েছেন।

এছাড়া দোগাছী ইউনিয়নে গোলাম কিবরিয়া কাজল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। একই ইউনিয়নে আব্দুল মান্নান ১৩, জাহাঙ্গীর আলম শিবলী ১৩, সিরাজুল ইসলাম ১৮ ও ইসলামী আন্দোলনের মিরাজ হোসাইন ১৯৭ ভোট পেয়ে জমানত হারান।

কালীচরণপুর ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে ইসলামী আন্দোলনের নিজাম উদ্দীন ৬৮৬, জাতীয় পার্টির আশরাফ আলী ৬৯, এনামুল বিশ্বাস ১৪৪ এবং কাইয়ুম হুসাইন ২১ ভোট পেয়ে জমানত হারিয়েছেন।

অন্যদিকে মাহারাজপুর ইউনিয়নে খুরশিদ আলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে মশিয়ার রহমান ৪০৯ এবং ইসলামী আন্দোলনের মোদাচ্ছের হোসেন ৭৪৪ ভোট পাওয়ায় জমানত ফেরত পাচ্ছেন না।

হলিধানী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট এনামুল হক নিলু। এখানে ফাহিমা খাতুন ১৪৭ ভোট পাওয়ায় জমানত হারিয়েছেন।

কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নে সিরাজুল করিম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে ইসলামী আন্দোলনের তৌহিদুল আজাদ ৮৬০, নুরুল ইসলাম ৩৮৩ ও শহিদুর রহমান ৬৪৮ ভোট পাওয়ায় জমানত হারিয়েছেন।

নলডাঙ্গা ইউনিয়নে সাইফুল আলম খান রিপন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে আব্দুল আলিম ২৬২, মোলায়েম খান ৫৩, জাতীয় পার্টির মতিয়ার রহমান ২৬, রবিউল ইসলাম ৯০৮, রাকিবুল ইসলাম লিমন ৮৬৯ এবং ইসলামী আন্দোলনের সোলাইমান বিশ্বাস ৫৭৩ ভোট পাওয়ায় জমানত ফেরত পাবেন না।

এছাড়া পোড়াহাটী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে শহিদুল ইসলাম হিরণ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে বদিরুজ্জামন ৪৮ ভোট পাওয়ায় জমানত হারিয়েছেন।

অন্যদিকে হরিশংকরপুর ইউনিয়নে ফারুকুজ্জামান ফরিদ চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে ইসলামী আন্দোলনের আজিম বিশ্বাস ৪৭৫ ভোট পেয়ে জমানত হারিয়েছেন। এছাড়া পদ্মাকর ইউনিয়নে বিকাশ বিশ্বাস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ইসলামী আন্দোলনের ফিরোজ খান ৭৩৮ ভোট পাওয়ায় জমানত ফেরত পাবেন না।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহা. আ. ছালেক জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে এখনো ফলাফল আমার কাছে এসে পৌঁছায়নি। যে কারণে কতজন জমানত হারিয়েছেন তা বলতে পারছি না। তবে একজন প্রার্থী তার নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোটের ৮ শতাংশ পেলেই তার জমানত ফেরত পান। এর থেকে কম হলে জমানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।
 

এবিএন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ