ঝিনাইদহের দুই উপজেলার কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫০

৯০ বছরের বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম। তীব্র শীত আর ঘনকুয়াশা উপেক্ষা করে লাঠি ভর দিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা যুগনী ভোট কেন্দ্রে। ভোট শেষে তিনি জানান, আমি অসুস্থ মানুষ। শীতের মধ্যে লাঠি ভর দিয়ে এসেছি। সুন্দর পরিবেশে ভোটও দিয়েছি। এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছি, তবে শীতের জন্য আসতে কষ্ট হয়েছে বলে যোগ করেন এই বৃদ্ধা।

বুধবার ঝিনাইদহে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে। ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে বুধবার সকাল ৮টা থেকে শৈলকুপা উপজেলা ১২ ও হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। দুই ঘন্টায় কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। সকালে কেন্দ্রগুলোতে পুরুষদের থেকে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি রয়েছে।

সকালে জেলার শৈলকুপা উপজেলার যুগনী ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা নুর আলী নামে এক ভোটার জানান, প্রচন্দ শীত ও ঘন কুয়াশায় রাস্তাঘাট কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এরমধ্যে সকাল সকাল সবারে আগে ভোট দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু কেন্দে গিয়ে দেখি ভোটারদের দির্ঘ লাইন। টানা  দুই ঘন্টা দাড়য়ে থেকে অবশেষে ভোট দিয়েছি।

একই ইউনিয়নের মীন গ্রামের ভোট কেন্দ্রে রেক্সোনা বেগম নামের এক ভোটার জানান, ভোটের আগে দুইটি হত্যার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে আমরা চিন্তিত ছিলাম, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবো কিনা। সকালে কুয়াশার মধ্যে দলে দলে মানুষ ভোট দিতে যাওয়া দেখে আমিও ভোট দিতে আসি। তবে সুষ্ঠ্য পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুশি। তিনি আরো জানান, পুলিশ ভায়েরা ভালো দ্বায়িত্ব পালন করায় আমরা আরো খুশি।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর থেকে স্ব স্ব রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রিজাইডিং অফিসাররা ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য ভোটের সামগ্রী বুঝে নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে চলে যান। তবে ব্যালট পেপার ভোটের দিন সকালে প্রেরণ করা হয়। এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শৈলকুপা দুইজন নিহত হওয়ার পর পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে ৬ প্লাটুন বিজিবি। এরমধ্যে ৩ প্লাটুন শৈলকুপায় ২ প্লাটুন হরিনাকুন্ডুতে এবং এক প্লাটুন শৈলকুপার জন্য রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
 
৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে এ দুই উপজেলায় ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে শৈকুপায় ১১২ ও হরিণাকুন্ডুতে  ৮২ কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। এসব কেন্দ্রে ৮০ ভাগ ঝুকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। সুষ্ঠ্য ভোট গ্রহনের জন্য ৬ প্লাটুন বিজিব, ১৫৭৪ পুলিশ এবং ৩২৯৪ আনসার মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তফসীল ঘোষনার পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় ভোটের প্রচারনাকে কেন্দ্র দুই হত্যার ঘটনাসহ একের পর এক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ফলে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ এবং শঙ্কা দুই-ই রয়েছে বলে জানান সাধারন ভোটাররা।

এবিএন/নয়ন খন্দকার/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ