তিন পার্বত্য জেলায় সাত দিনের মধ্যে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:২৮

তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির অবৈধ সব ইটভাটা সাত দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জেলাগুলোর প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ অন্য বিবাদীদের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিন জেলায় নিবন্ধনহীন ইটভাটার সংখ্যা কত তার একটি তালিকা হলফনামা করে আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে বলেছেন আদালত।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জনস্বার্থে করা রিট মামলায় মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির অবৈধ সব ইটভাটা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং এসব ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে ইটভাটা প্রস্তুত ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩-এর ৪, ৫, ১৪ ও ১৮ ধারা অনুসারে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চেয়েছেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, সংশ্লিষ্ট তিন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ২৪ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।    

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

মনজিল মোরসেদ পরে বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় দেড় শতাধিক নিবন্ধনহীন অবৈধ ইটভাটা রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর-প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অথচ ইটভাটা প্রস্তুত ও নিয়ন্ত্রণ আইনের (সংশোধিত ২০১৯) ৪ ধারা অনুসারে নিবন্ধনহীনভাবে কোনো ইটভাটা চলার সুযোগ নেই। এভাবে ইটভাটা চালালে আইনের ১৪ ধারা অনুসারে দুই বছরের সাজার বিধান আছে। আইনি বিধান থাকার পরও এ তিন পার্বত্য জেলার অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ আইনজীবী বলেন, এ আইনের ৫ ধারা অনুসারে পাহাড়ের মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পাহাড়ের মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনটির ১৫ ধারা অনুসারে এর জন্য দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও প্রশাসন এ ক্ষেত্রেও নীরব থাকছে। ফলে পরিবেশ-প্রকৃতি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এই ঝুঁকি থেকে পরিবেশ-প্রকৃতিকে রক্ষা করতেই জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করা হয়। মামলায় পরবর্তী আদেশের জন্য আদালত আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ রেখেছেন বলে জানান তিনি।

জেলাগুলোতে অবৈধ ইটভাটা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এইচআরপিবির পক্ষে আদালতে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী, একলাছ উদ্দিন ভুইয়া ও রিপন বাড়ৈ।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ