আজকের শিরোনাম :

সাটুরিয়ায় গার্মেন্টসকর্মীকে এসিড নিক্ষেপ মামলার আসামি গ্রেফতার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৮:১৯

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গার্মেন্টস কর্মীকে এসিড নিক্ষেপ মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ৪।

২ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরে র‌্যাব ৪ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির ম্যাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতার হওয়া আসামী গার্মেন্টস কর্মীর সাবেক স্বামী মানিকগঞ্জের বেতুলিয়া গ্রামের নিজামুদ্দিনের ছেলে নাঈম হোসেন (৩০)।

মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ সদর থানাধীন সাকরাইল বাজার এলাকায় র‌্যাব ৪ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি মা ও বোনকে সঙ্গে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো গামের্ন্টস কর্মী সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের কাটাখালী ফেরাজীপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের মেয়ে সাথী আক্তার(১৯)। ঘরের ভাঙ্গা জানালা দিয়ে মাঝরাতে দূর্বৃত্তের ছুড়ে দেওয়া এসিডে সাথীর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে, সাথীর ছোট বোন ইতি আক্তার (৮) ও মা মোছাঃ জুলেখা বেগম এর শরীরের বিভিন্নস্থানে ঝলসে যায়। সাথী সহ তার পরিবারের লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন এসে সাথীকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। পরবর্তীতে সাথীর অবস্থা অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে সাথী অ্যাসিডে ঝলসানো মুখ ও শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সাথী আক্তারের মা জুলেখা বেগম বলেন, সম্প্রতি ধামরাইয়ের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়েছিল সাথী। এরপর থেকেই পোশাক কারখানায় আসা যাওয়ার পথে সাথীকে উত্যক্ত করত তার সাবেক স্বামী। এ সময় নাঈম ফের সাথীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু নাঈমের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় এর জেরধরেই শুক্রবার মধ্যরাতে ঘরের ভাঙ্গা জানালা দিয়ে তার মেয়ের মুখে এসিড মেরে হাত মুখ ঝলছে দেয় নাঈম।

সাথীর বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কাজী একেএম রাসেল বলেন, দাহ্য পদার্থে সাথীর হাত মুখ ঝলসে গেছে। তাকে সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখানে তার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিগত আড়াই বছর পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ নাঈম মল্লিকের সাথে সাথী আক্তার (২৫) এর বিবাহ হয়। বিয়ের পর হতে সাথী বুঝতে পারে যে নাঈম প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তখন থেকেই ভিকটিম সাথী আক্তার নাঈমকে ভালভাবে চলাফেরা করার জন্য বলে এবং অনৈতিক কর্মকান্ডে বাধা প্রদান করে। এর ফলে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে সাথীর সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করে এবং সাথীকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে। গ্রেফতারকৃত আসামী সাথীর ভরণ পোষন বন্ধ করে দেয় যার প্রেক্ষিতে সাথী বাবার বাড়ীতে আশ্রয় গ্রহণ করে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের মুরুব্বিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশের আয়োজন করে মিমাংসা করে দেওয়া হলে তারা আবার সংসার শুরু করে। কিন্তু নাঈম মরুব্বিদের দেওয়া শর্ত না মেনে সাথীর সাথে পূর্বের মত একই রকম আচরণ করতে থাকে। এর ফলে এক পর্যায়ে বাধ্য  হয়ে সাথী গত ১০ সেপ্টেম্বর নাঈমকে তালাক নোটিশ প্রেরণ করে। তালাক নোটিশ পাওয়ার পরপরই আসামী নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে সাথীকে বিভিন্ন ভাবে প্রাণনাশসহ নানান রকম ভয় ভীত ও হুমকি প্রদান করতে থাকে। একপর্যায়ে গত ২৯ জানুয়ারি রাতে আসামী নাঈম ভিকটিম সাথীর বাবার বাড়িতে গিয়ে সাথীর শয়ন কক্ষের জানালা দিয়ে এসিড ছুড়ে মারে। নাঈমের ছোড়া এসিড সাথীর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও সাথীর ছোট বোন এবং মা এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগে। নাঈম এই ঘটনার পর দৌড়ে পালানোর সময় ভিকটিম সাথীর মা জুলেখা বেগম জালানা দিয়ে নাঈমকে দৌড়ে চলে যেতে দেখে। ঘটনার পরপরই আসামী নাঈম আত্মগোপনে চলে যায়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার এড়াতে সে ছদ্দবেশে সময়ে সময়ে স্থান পরিবর্তন করতে থাকে। প্রচন্ড শীত থাকায় শীতের পোশাক পরে মাথা ও মুখমন্ডল ঢেকে পরিচয় গোপন করার কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ সদর থানাধীন সাকরাইল বাজার এলাকায় র‌্যাব ৪ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে উক্ত এসিড সন্ত্রাসের সাথে গ্রেফতারকৃত আসামী সরাসরি জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সাটুরিয়া থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এই ধরনের নৃশংস অপরাধীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের জোড়ালো অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এবিএন/মো: সোহেল রানা খান/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ