আজকের শিরোনাম :

মানিকগঞ্জে অ্যাসিড নিক্ষেপকারীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৪২

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় এক নারী গার্মেন্টস কর্মীকে অ্যাসিড নিক্ষেপকারীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে গার্মেন্টস কর্মীকে অ্যাসিড নিক্ষেপকারীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে প্রথম আলোর পাঠক সংগঠন বন্ধুসভার সদস্যরা।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন স্থানীয় সংগঠন দিশারী, জাগরণী কিশোর ক্লাব, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও প্রগতি লেখক সংঘের সদস্যরা।

মানববন্ধনে মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার সহসভাপতি চান মিয়া সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সুজনের জেলা শাখার সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, প্রথম আলো মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার উপদেষ্টা বিমল রায়, প্রগতি লেখক সংঘের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার সদস্য রমজান আলী, মৌসুমী আক্তার, দিশারীর সভাপতি হাসান শিকদার, জাগরণী কিশোর ক্লাবের সভাপতি মো. আশিকুজ্জামান প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত নাঈম মল্লিকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি মা ও বোনকে সঙ্গে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো গামের্ন্টস কর্মী সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের কাটাখালী ফেরাজীপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের মেয়ে সাথী আক্তার(১৯)। ঘরের ভাঙ্গা জানালা দিয়ে মাঝরাতে দূর্বৃত্তের ছুড়ে দেওয়া অ্যাসিডে সাথীর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে, সাথীর ছোট বোন ইতি আক্তার (৮) ও মা মোছা: জুলেখা বেগম এর শরীরের বিভিন্নস্থানে ঝলসে যায়। সাথী সহ তার পরিবারের লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন এসে সাথীকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। পরবর্তীতে সাথীর অবস্থা অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে সাথী অ্যাসিডে ঝলসানো মুখ ও শরীর নিয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মানিকগঞ্জ সদরের বেতিলা গ্রামের নাঈম মল্লিকের সঙ্গে সাটুরিয়া উপজেলার ধানাকোড়া ফেরাজিপাড়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে সাথীর বিয়ে হয়। মাদকসেবী হওয়ায় নাঈম ঠিকমতো কাজ করতো না। যৌতুকের জন্য সাথীকে মারধর করতো। প্রায় চার মাস আগে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। সাথী বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে ঢাকার ধামরাইয়ের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি সাথীকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন নাঈম। গত ২৯ জানুয়ারি রাত একটার দিকে ঘরের ভাঙা জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে সাথীকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছোড়েন নাঈম। অ্যাসিডে সাথীর মুখ, গলা ও হাত ঝলসে যায়।

এ ঘটনায় গত শনিবার নাঈম মল্লিককে আসামি করে সাটুরিয়া থানায় মামলা করেন সাথীর মামা লাল মিয়া। পরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে জেলা সদরের সাকরাইল এলাকা থেকে নাঈমকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন সকালে তাঁকে সাটুরিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নাঈমকে কারাগারে পাঠানো হয়।

নাঈমকে আটকের পর র‌্যাব জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি রাতে আসামী নাঈম ভিকটিম সাথীর বাবার বাড়িতে গিয়ে সাথীর শয়ন কক্ষের জানালা দিয়ে এসিড ছুড়ে মারে। নাঈমের ছোড়া এসিড সাথীর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও সাথীর ছোট বোন এবং মা এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগে। ঘটনার পরপরই আসামী নাঈম আত্মগোপনে চলে যায়।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে উক্ত আসামী সরাসরি জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে।

এবিএন/মো: সোহেল রানা খান/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ