কোটচাঁদপুরে পানের বরজে আগুন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৪:২৪

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ১৭ দিনের মধ্যে ৫ বার পানের বরজে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫ জন পানচাষি (প্রায়) ১৯ বিঘা পানের বরজ ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। চাষিদের দাবি আগুনে তাদের ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন

জানিয়েছেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি।  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বেলা ২টার দিকে উপজেলার জালালপুর গ্রামে নাপ্তির ভিটা মাঠে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ পান চাষির ১৫ বিঘা বরজ পুড়ে যায়।

জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি নাপ্তির ভিটা মাঠের একটি পানের বরজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এরপর আগুন লাগে ৩১ জানুয়ারি। ৭ ও ৯ ফেব্রুয়ারি আবারও আগুন লাগে পানের বরজে। একই ভাবে পুড়ে যায় পানের বরজ। এদিকে, ১৭ দিনের ব্যবধানে পাঁচবার পানের বরজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটায় গ্রামটিতে এখন আগুন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন পানচাষি জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে পাঁচবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটল। এতে করে তাঁরা পান চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। প্রায় চাষি কোনো না, কোনো ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ করে পানের বরজ করেছেন। এভাবে বরজ পুড়ে গেলে পুঁজি হারিয়ে যাবে। পরে ঋণ শোধ করতে না পেরে তাঁরা দেউলিয়া হয়ে যাবেন।

চাষিরা বলেন, শনিবার ২টার দিকে জালালপুর গ্রামে নাপ্তির ভিটা মাঠে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের লোকজন ছুটে আসেন মাঠে। চেষ্টা করেন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার। কিন্তু আগুনের তাপ এবং বাতাস থাকায় লোকজন পানের বরজের ভেতরে ঢুকতে পারেননি। এ কারণে একে একে পুড়ে যায় চাষিদের ১৫ বিঘা বরজ।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাকিবিল্লা জানান, খবর পেয়ে দ্রুত তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘণ্টাখানেক সময় কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে পুড়ে যায় চাষিদের ১৫ বিঘার মতো পানের বরজ। আগুনে চাষিদের ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে।

বরজে আগুন লাগা প্রসঙ্গে কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাসিন আলী বলেন, ‘এর আগেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। দেখে মনে হয়েছে, এটা অনেকটা প্রতিহিংসা বশত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন জানান, বেশ কয়েকটি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো ঘটনার অভিযোগ হয়নি থানায়। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিএন/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ