মানিকগঞ্জে হ্যালো বাইকের লাইসেন্স নবায়নের দাবিতে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৪০

মানিকগঞ্জ পৌরসভার কার্যালয়ে লাইসেন্স নবায়নের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাটারি চালিত হ্যালো বাইক চালক ও মালিকরা। একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে তারা।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপু‌রের দিকে মানিকগঞ্জ পৌর হ্যালো বাইক মালিকশ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে তাঁরা এসব কর্মসূচি পালন করে।
কর্মসূচিতে হ্যালো বাইক চালক ও মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে পুরাতন নিবন্ধিত হ্যালো বাইক নবায়ন না করে উৎকোচ নিয়ে নতুন করে হ্যালো বাইকের নিবন্ধন করা হচ্ছে।

হ্যালো বাইক চালক ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থ বছরে মানিকগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ পৌর এলাকায় যাত্রী পরিবহনের জন্য ৫৫০টি হ্যালো বাইকের নিবন্ধন করে। নিবন্ধনকৃত প্রতিটি হ্যালো বাইককে নম্বর প্লেট দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এসব নিবন্ধনের নবায়ন ফি বাবদ ৫৫০ টাকা নেওয়া হয়। 

শর্ত অনুযায়ি প্রতি বছর এসব যানকে নবায়ন করতে হবে। তবে গত বছরের অক্টোবর মাসে নিবন্ধিত এসব হ্যালো বাইক নবায়ন না করে নতুন হ্যালো বাইক নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে মানিকগঞ্জ সদর সিনিয়র জজ আদালতে মামলা করেন ভূক্তভোগী হ্যালো বাইকচালক ও মালিকেরা।

এরপর গত বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতের বিচারক মানিকগঞ্জ সদর সিনিয়র সহকারী জজ মো. ফাহিম ফয়সাল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুরাতন লাইসেন্সপ্রাপ্ত হ্যালো বাইকের নবায়নের আদেশ দেন। তবে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে নতুন হ্যালো বাইক নিবন্ধন শুরু করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে পুরাতন হ্যালো বাইক নিবন্ধনের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে চালক ও মালিকেরা।

মানিকগঞ্জ পৌর অটোবাইক মালিক শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি মো. হযরত আলী বলেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পৌর কর্তৃপক্ষ নতুন করে নিবন্ধন করা শুরু করেছে। ৫৫০টি হ্যালো বাইক নিবন্ধনের জন্য পৌর এলাকার ৯ টি ওয়ার্ডের ৯ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের ৩ জন নারী কমিশনারের প্রত্যেককে ৩৪টি করে ইজিবাইক নিবন্ধন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাকি হ্যালো বাইকগুলো মেয়র নিজেই নিবন্ধনের জন্য রেখেছে।

হ্যালো বাইক নিবন্ধন করতে অনিয়মের অভিযোগ করে হযরত আলী আরও বলেন, প্রতিটি হ্যালো বাইক নিবন্ধনের জন্য ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় করা হচ্ছে। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারলে পুর্বে নিবন্ধিত হ্যালো বাইক বাদ দিয়ে নতুন হ্যালো বাইককে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, শহরে যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা রোধসহ সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পৌর পরিষদ সর্ব সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টাকা নিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, অটোবাইক নিবন্ধনের টাকা নেওয়ার অভিযোগটি সত্য নয়। এই অভিযোগের প্রমাণ পেলে সংস্লিষ্ট কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিএন/মো: সো‌হেল রানা খান/জসিম/আব্দুর রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ