আজকের শিরোনাম :

কাপাসিয়ায় দুই বছর ধরে শিকলবন্দি কবির হোসেন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২২, ১২:৫১

কাপাসিয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে চার দেয়ালে আবদ্ধ শিকলবন্দি কবির হোসেন নামের এক যুবক। আবদ্ধ ঘরে প্রায় ১০ ফুট লম্বা শিকলে আটকে আছে তার জীবন। এভাবেই অতিবাহিত হচ্ছে দিন, মাস ও বছর। সম্পদের লোভে শিকলে বেঁধে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে কবিরকে। 

উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের বিবাদীয়া গ্রামে এমন ঘৃণ্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন সৌদিপ্রবাসী নূরু হোসেনের স্ত্রী তানিয়া ও তার শাশুড়ি। 

জানা যায়, বিবাদীয়া এলাকার আকবর আলীর (৭৫) ছেলে কবির হোসেন (৩০)। পিতা পুত্র একই ঘরে বন্দি। দরজার সাথে প্রায় ১০ ফুট  শিকল দিয়ে বাঁধা ছেলের পা। চার দেয়ালে  বন্দি থেকে অনেকটাই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন পিতা-পুত্র দুজনেই। স্ত্রীকে হারিয়ে আকবর আলী শিকলবন্দি ছেলে কবিরের একমাত্র সঙ্গী। প্রবাসী ছেলের বৌ ও তার শাশুড়ি  বিলাসবহুল পাকা ঘরে থাকেন। এত বড় পাকা বাড়ির ছোট্ট একটি মাটির ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে শ্বশুর ও দেবরকে। ভুক্তভোগীকে দেখার জন্য বাড়িতে প্রবেশ থাকে কড়াকড়ি। মাঝেমধ্যে তাদের বেষ্টনীতে দেখার সুযোগ থাকলেও শর্ত থাকে তোলা যাবে না ছবি ও করা যাবেনা ভিডিও। শর্তভঙ্গ হলেই দেখানো হয় পুলিশের ভয়, শুনতে হয় কটুকথা। শিকলবন্দি কবির ও তার পিতা আকবর আলী সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে চাইলে দমক দিয়ে তাদের কথা বন্ধ করে দেয় ভাবি তানিয়া।

শিকলবন্দি কবির বলেন, আমি ভালো নেই।

ভাবি তানিয়া বলেন, কবির কোথাও হারিয়ে যেতে পারে, এ জন্যই শিকলে বেঁধে রেখেছি। তাকে নিয়ে কোনো নিউজ করবেন না।

রায়েদ ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হাকিম মোল্যা বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সরেজমিন দেখে বলতে পারব আসল ঘটনা কি না।

এ ব্যাপার উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নিলুফা বেগম যুগান্তরকে বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিএন/নূরুল আমীন সিকদার/এসএ/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ