নারায়ণগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২২, ১১:৪৭

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক মেম্বার দৌলত হোসেন খুন হয়েছে। তিনি জেলা কৃষকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। 

গতকাল রোববার রাত ১১টায় গোগনগর ব্রিজের সামনে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। পরে দৌলত মেম্বারকে রাজধানীর আজগর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে রাত ১২টায় তার মৃত্যু ঘটে। 

দৌলত মেম্বার গোগনগরও সৈয়দপুর এলাকার ত্রাস একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলার আসামি। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি এলাকার একাধিক সম্পত্তি নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে। এক পক্ষে ছিল রবিন ও অপর পক্ষে ছিল লুৎফর রহমান। ওই সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিত একাধিকজন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এর মধ্যে রবিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় দৌলত মেম্বার ও তার লোকজন। এ নিয়ে এলাকাতে উত্তেজনা ছিল।

গতকাল রবিবার রাতে এ নিয়ে গোগনগর ব্রিজের সামনে দৌলত মেম্বারের গতিরোধ করে কয়েকজন সন্ত্রাসী। পরে তারা দৌলত মেম্বারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তাকে দ্রুত ঢাকায় আজগর আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। 

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুজ্জামান জানান, এলাকায় উত্তেজনা নিরসনে পুলিশ মোতায়েন আছে। নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দৌলত মেম্বার চর সৈয়দপুর এলাকার পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এলাকায় ভয়ঙ্কর দৌলত নামে সে পরিচিতি পেয়েছে। তার দুই ছেলে সম্রাট ও ফয়সাল দুজনই সন্ত্রাসী। এর আগে করিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে তার বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল দৌলত হোসেন মেম্বার। ওই ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। এলাকায় সে এতোটাই ভয়ংকর, তার বিরুদ্ধে কেউ মামলা করারও সাহস পায় না। 

২০১৬ সালে চর সৈয়দপুরে একটি পরিবহন কোম্পানির অফিসে সিমেন্ট কারখানার শ্রমিক জসিমউদ্দিন চৌধুরী হত্যার কিলিং মিশনে ৫ জন ছিল বলে জানিয়েছেন অংশ নেওয়া একজন ঘাতক আমিনুল হক (৫৫)। 

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই ঘাতক জানান, মূলত সিমেন্ট কারখানার শ্রমিক নিয়োগ নিয়ে বিরোধের জের ধরেই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। আমিনুল হক জবানবন্দিতে আদালতকে জানিয়েছেন, মেট্রো সিমেন্টের লেবার কন্ট্রাক নিয়ে দৌলত মেম্বার বাহিনীর সাথে তার বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরে জসিমকে একটি কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে আমিনুল হকসহ ৫ জন মিলে দৌলতের অফিসের ২য় তলায় নিয়ে জবাই করে হত্যা করে। আর লাশটি গুম করার পরিকল্পনা করে রুমের দরজা আটকে রাখে। পরে আমিনুল হক নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সিলেট চলে যায়। পরে এলাকার পরিস্থিতি একটু শান্ত হলে এলাকায় ফিরে আসে।  

এবিএন/নাসির উদ্দিন/জসিম/গালিব

এই বিভাগের আরো সংবাদ