আজকের শিরোনাম :

তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত, দৌলতদিয়ায় ৩ কিমি যানজট

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২২, ১৭:৩৫

গত কয়েক দিন ধরে পানি বৃদ্ধির কারণে পদ্মায় তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়েছে।  এতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নদী পার হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। এ কারণে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় তিন কিলোমিটার সড়ক জুড়ে ট্রাকের সারি তৈরি হয়েছে। তবে পশুবাহী ট্রাকগুলো আগে পার করা হচ্ছে, এতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যানবাহনগুলোর সারি দেখা যায়। সিরিয়ালে থাকা যানবাহনগুলোর মধ্যে অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। কোরবানির পশুবাহী ট্রাকগুলো ঘাটে এসে সরাসরি ফেরিতে উঠে যেতে দেখা গেছে।

ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের তিন কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। নদী পার হওয়ার অপেক্ষায় মহাসড়কে প্রায় ৩ শতাধিক অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান জানান, পদ্মা সেতু চালু হবার পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহনের সংখ্যা কমেছে। গত মাসের ২৫ তারিখের পর থেকে ঘাটে চাপ একদমই কম। যানবাহনগুলো এখন সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না।

কিন্তু গত দুই দিন ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে নদীতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিগুণ সময় লাগছে নদী পার হতে। এতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের সিরিয়াল তৈরি হচ্ছে। তবে গরুর ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও কাঁচামালবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হচ্ছে। বর্তমানে এই নৌপথে ২১টি ফেরির মধ্যে ১৯টি ছোট-বড় ফেরি চলাচল করছে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কাছে আটকে থাকা মাগুরা থেকে আসা ট্রাকচালক শহিদুল আলম বলেন, পাট নিয়ে নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছি। কিন্তু ঘাট এলাকায় এসে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রোদের মধ্যে মহাসড়কে আটকে আছি। আর কতক্ষণ এভাবে রোদের মধ্যে মহাসড়কে আটকে থাকতে হবে বলতে পারছি না। ভেবেছিলাম পদ্মা সেতু চালু হয়েছে, এখানে চাপ কম থাকবে। ঘাটে এসে সরাসরি ফেরিতে উঠতে পারব আশা করেছিলাম, কিন্তু তা আর পারলাম না। স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আমাদের ভোগান্তি বেড়েছে।

কুমারখালি থেকে ঢাকার গাবতলীগামী পশুবাহী ট্রাকচালক ফরিদ হোসেন বলেন, গতবারের মতো এবার ঘাটে ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। গত বছর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে আটকে থেকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কিন্তু এবার ঘাট এলাকায় এসে সরাসরি ফেরির নাগাল পেয়েছি। গরুর গাড়ি আগে ফেরিতে উঠতে দেওয়ায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ