মসজিদ কমিটির বিবাদে পাঁচ গ্রামের সালিশ হলো ভাঙ্গার চুমুরদিতে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২২, ১০:৫২

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের চুমুরদিতে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে দু’পক্ষের বিবাদে চরম উত্তেজনা চলছে। এনিয়ে শুক্রবার বিকেলে চুমুরদি হরিখোলা মাঠে গ্রামের পাঁচ তল্লাটের লোকেরা মিলে সালিশ আয়োজন করেছে। হাজিপাড়া, মোল্যাপাড়া, আওড়ামাঠ, খালপাড়া সদরদি ও খালপাড়া চুমুরদি গ্রামের মানুষ এতে অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন চুমুরদি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ। সালিশ সঞ্চালনা করেন আনোয়ার হোসেন মোল্যা।

সালিশ সূত্রে জানানো হয়, গত ঈদুল আযহার রাতে চুমুরদি স্কুল মাঠ জামে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে এশার নামাজের পরে মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোষাধ্যক্ষ পদ নিয়ে আলোচনার সময় চার তল্লাটের চারজনকে নিয়ে কোষাধ্যক্ষ পদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এই প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ওই গ্রামের লিটন মোল্যা ও  আক্কাস আলী সাহেদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এনিয়ে দুপক্ষের বাদানুবাদের একপর্যায়ে ঐক্যমত না হওয়ায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুসুল্লিরা মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় সারিবদ্ধভাবে বের হওয়া মুসুল্লীদের মাঝে আক্কাস আলীর উপরে হামলা করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। রাত দুইটা পর্যস্ত চলে এই বচসা। পরেরদিন গ্রামের কয়েক তল্লাটের লোকেরা মিলে আক্কাস আলীর বাড়িতে যেয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে এ ঘটনার জের ধরে আক্কাস আলী সাহেদের মামা মমিন কাজী বাদি হয়ে ৯ জনকে আসামী করে ভাঙ্গা থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। পুলিশ এ মামলার ৯ নম্বর আসামি মাসুদকে (৩২) নামে গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে। পরে আদালত হতে জামিনে বেরিয়ে আসেন মাসুদ।

সালিশে অভিযোগ করা হয়, আক্কাস আলী সাহেদ টাকার জোরে গ্রামের সমাজকে উপেক্ষা করে এ মামলা দায়ের করেন। তিনি এলাকার অর্থশালী ব্যক্তি। তার কিছু ছেলেপেলে রয়েছে। যাদের সে পালে। এরা রাস্তাঘাটে অনেককে গালিগালাজ করেছে। অনেকের ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়েছে। গ্রামের নারীরা চলাচলের সময় আজেবাজে কথা বলেছে এই ছেলেরা। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিষয়টি মিমাংসার জন্য তিনদিনের সময় নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু তিনদিন পেরোনোর আগেই চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলায় মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়।

সালিশে আক্কাস আলী সাহেদের সহোদর ভাই চুমুরদি ইউপির ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ওহিদুজ্জামান অপুর বিরুদ্ধে গ্রামের মুরুব্বিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ করা হয়। তারা বলেন, 'পয়সার গরমে দেশটাকে উচ্ছন্নে নিয়ে গেছে ওরা। বয়স্কদের কাপড় তুলে তাদের নিয়ে কটাক্ষ করে। চলনে-বলনে তাদের রাজকীয় ভাব।'

এ ব্যাপারে সালিশে উপস্থিত ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের (১০৫৫) সভাপতি ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য জুবায়ের জাকির বলেন, চুমুরদি একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এই গ্রামের সন্তান মরহুম শামসুদ্দিন মোল্যা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধা। এখানে একটি ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। পয়সার গরমে সমাজকে তাচ্ছিল্য করার বিষয়টি মোটেই কাম্য নয়। তিনি বলেন, মসজিদে একটি তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে থানায় কেনো মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা হলো সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। 'কিলাকিলির ঘটনা কিভাবে চাঁদাবাজি মামলা হলো?' এ প্রশ্ন করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চুমুরদি ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার ওহিদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মসজিদ মাঠের পাশে রফিকুল মোল্যা নামে একজনের নিকট থেকে জমি কেনার পরে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেই রাতে বড় ভাই ওই জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি মসজিদে এসি লাগিয়ে দিতে চেয়েছেন, ওযুখানা করে দিতে চেয়েছেন। এরপর হুজুর মোনাজাত করে দেয়ার পরে সবাই যখন বের হচ্ছিলো তখনই ভাইয়ার উপরে হামলা করে। থানায় মামলা দায়েরের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা মাইর খেয়েছি। এখন আর কি করতে পারি। তারা আজ যা করেছে পুরোটাই একতরফা। আমি একজন জনপ্রতিনিধি অথচ আমাকেও বলে নাই। ফোনও করে নাই। এখন একজন আসামীকে ধরার পরে তারা আমাদের না বলেই সেখানে বসেছে। অপু বলেন, তার বড় ভাইয়া একজন দানশীল মানুষ। গরিব মানুষকে দান করেন। সেটি নিয়ে গ্রামের কিছু মানুষের ইগোর সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখানে ইগোই বড় সমস্যা। তার বাবা ছাতি টেনে কাপড় বেঁচে তাদের বড় করে তুলেছেন। এখন তারা গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করছেন এটি অনেকের ভালো লাগছে না।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে তার বড় ভাই আক্কাস আলী সাহেদের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এবিএন/কে এম রুবেল/জসিম/গালিব

এই বিভাগের আরো সংবাদ