শিবচরে ব্যক্তিগত সুবিধা না পাওয়ায় ইউএইচএফপিওর বিরুদ্ধে অপপ্রচার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২২, ১১:৩৯

পদ্মা-আড়িয়াল খা নদী বেষ্টিত কৃষি নির্ভরশীল মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক জনগণের চিকিৎসাসেবা প্রদানে পঞ্চাশ (৫০) শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসক মোট ৩৯ জন, সেবিকা ৩২ জন নিয়ে রোগীদের নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জরুরী ও বহির্বিভাগে। উপজেলায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রতিদিন কমবেশি প্রায় ৪০০ জন রোগীর সেবা নিয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০২০ সালের ০১ জানুয়ারি তিনি যোগদানের পর পর এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছেন। বর্তমান শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ। হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম থাকায় তিনি যোগদান করার পর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালান। দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের  আহ্ববান জানান। কিন্তু তার এ পদক্ষেপ ভালো লাগেনি একদল কুচক্রি মহলের । এতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালান।

একাধিক স্বাস্থ্য সহকারী জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবত স্বাস্থ্যসহকারী পদে চাকরি করি। আমাদের বর্তমান  স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা খুবই ভালো। আগে যে কর্মকর্তা ছিল বেতনসহ অন্যান্য কাজে তাকে অতিরিক্ত ফি প্রদান করতে হত। কিন্তু বর্তমান কর্মকর্তা আসার পর সকল চিত্র পাল্টে দিয়েছেন। চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ জানান,  গত ১৪ মে ২০২২ ফাইজার টিকা দেয়ার কথা বলে কাদিরপুর এলাকার এক বাসিন্দার নিকট স্বাস্থ্য সহকারী ইসমাইল হোসেন নগদ অর্থ গ্রহণ করেন। কিন্তু তাকে ফাইজার টিকা না দিয়ে তার নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বসে সিনোফার্ম টিকা প্রদান করে। এতে ভুক্তভোগী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযেগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে শোকজ করলে স্বাস্থ্য সহকারী ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএইচএফপিও এর  বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান। অন্যদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিএইচসিপি জোবায়ের আহম্মেদের অশালীন আচারনের কারণে  তাকে শোকজ দেওয়া হয় বলে এই কর্মকর্তা জানান।

এছাড়াও সার্জারী কনসালটেন্ট  ডাঃ মনিরুজ্জামান  হাসপাতালে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটারসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা  থাকা সত্বেও অপারেশন করেন না । হাসপাতালে অপারেশন না করে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে অপারেশন করে বলেও জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ।

স্বারক নং উপঃ স্বাঃ কমঃ শিব/ প্রশাসন/২০২২/৩১২৫ এ দেখা যায় একজন হতদরিদ্র রোগী তার চিকিৎসার জন্য আসলে একুয়েট এপ্যান্ডিসাইটস (অপঁঃব অঢ়ঢ়বহফরপরঃরং) সনাক্ত করে  বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন  কিন্তু হতদরিদ্র হওয়ায় সরকারী হাসপাতলে ভর্তি থেকে অপারেশনের জন্য বলা  হলে এপেন্ডিকুলার ল্যাম্প (অঢ়ঢ়বহফরপঁষধৎ খধসঢ়) উল্লেখ করে অপারেশন করতে অস্বীকার করেন। মাদারীপুর সদর হাসপাতাল থেকে ডাঃ আহসান হাবীবকে এফসিপিএস সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট  নিয়ে আসা হলে তড়িঘড়ি করে উক্ত অপারেশন সম্পন্ন করেন। নিয়মিত অফিস টাইমে বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে সিজার করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা জানান।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, আমি চাই আমাদের হাসপাতাল দালালমুক্ত থাকুক। অসহায় দরিদ্র রোগীরা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা পাক।  স্বাস্থ্য সহকারী ইসমাইল হোসেন টিকার দেওয়ার জন্য নগদ অর্থ গ্রহণ করেছে বলেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে সিইএসপি জোবায়ের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অশালীন আচার করেন । আমি তাকে বার বার বললেও আমলে নেয়নি। জোবায়েরকে শোকজ প্রদান করি। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালান। গত ৫ জুলাই কয়েকজন মানববন্ধন যে বক্তব্য প্রদান করে তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন। তারা বহিরাগত কয়েকজন এনে মানবন্ধন করে। সেখানে আমার বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের মাননীয়  চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী স্যারের সহযোগিতায় সকল চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি সেবার মান বৃদ্ধিসহ হাসপাতালের উন্নয়ন এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে।
 
এবিএন/এস.এম.দেলোয়ার হোসাইন/জসিম/গালিব

এই বিভাগের আরো সংবাদ