ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সামনেই অভিভাবক সদস্যকে পেটাল ছাত্রলীগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২২, ১৩:৪২

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের পক্ষে স্লোগান দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দুই অভিভাবক সদস্যকে বেধড়ক পিটিয়েছে। 

রবিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই এ ঘটনা ঘটেছে। পরে প্রিসাইডিং অফিসার উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুপার ভাইজার কামরুল ইসলাম এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সদস্য পদে ভোটের মাধ্যমে ৪ জন নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক দেওয়ান সাইদুর রহমানের সমর্থকদের সঙ্গে সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের সমর্থকদের বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রবিবার ছিল সভাপতি পদে নির্বাচনে ভোট গ্রহণ।

এ নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হন দেওয়ান সাইদুর রহমান ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। 

এই নির্বাচনে সভাপতি পদে নিজের নাম ঘোষণা করে উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে এমপি মমতাজ বেগমের নাম ঘোষণা করে সমর্থকেরা তাঁর নামে স্লোগান দিতে থাকেন। 

নির্বাচন ঘিরে দুপুর ১টার পর দুপক্ষের লোকজন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে। সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের অনুসারীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জয় বাংলা ও মমতাজের নামে স্লোগান দিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে অবস্থান নেয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মোল্লা, হরিরামপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আজিম খান, যুবলীগ নেতা রাজিবুল ইসলাম রাজিব, উপজেলা যুবলীগ নেতা ফরিদ মোল্লা, পিয়াস চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ফিরোজ, ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাকিন চৌধুরী রিফাত, দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকশ নেতাকর্মী। 

এরপর বেলা ৩টার দিকে ৯ সদস্যের মধ্যে ৭ সদস্যের উপস্থিতিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুপার ভাইজার নির্বাচনের প্রিসাইডিং অফিসার কামরুল ইসলাম সভা শুরু করেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ, অভিভাবক সদস্য মহিউদ্দিন মঞ্জু ও মিজানুর রহমানকে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার সভাকক্ষে নিয়ে আসছিল। তাঁরা দুজনেই দেওয়ান সাইদুর রহমানের সমর্থক।

ওই সময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী প্রতিপক্ষকে বিএনপি জামায়াতের লোক বলে স্লোগান দিয়ে দুই অভিভাবক সদস্যকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে টেনে হিঁচড়ে মাঠে বের করে মারধর করে। পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে রাখে। 

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হরিরামপুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা তপসী রাবেয়া বিদ্যালয়ে এসে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ বহিরাগতদের বাইরে বের করে দিয়ে নির্বাচনী সভা শুরু করে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। 

হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রার্থী দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের পক্ষের লোকজন ও পুলিশ ম্যানেজিং কমিটির ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। নির্বাচনের দিন ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্যের লোকজন আমার পক্ষের ২ জন অভিভাবক সদস্যকে বেধড়ক মারধর করে। নির্বাচনের পরিবেশ না থাকায় প্রিসাইডিং অফিসার নির্বাচন স্থগিত করেছে।

সংসদ সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম সাংবাদিকদের জানায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও নির্বাচিত সদস্যরা তাঁকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি নিজে ওই বিদ্যালয়ে সভাপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। বিদ্যালয়ে দুর্নীতি ঠেকাতে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

মমতাজ বেগম বলেন, চারজন অভিভাবক সদস্যসহ নয় জন ভোটার গণতান্ত্রিক ভাবে যাকে সমর্থন করবেন তিনিই ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হবেন।

ছাত্রলীগের হাতে স্কুলের দুজন অভিভাবক সদস্য প্রহৃত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এ বিষয়ে কিছু জানি না।

এবিএন/মো: সোহেল রানা খান/জসিম/গালিব

এই বিভাগের আরো সংবাদ